দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে জ্বালানি তেল কেনার সুবিধা দিতে চালু হতে যাচ্ছে কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থা। চলতি এপ্রিল থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে এই ডিজিটাল সিস্টেম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশীয় বাজারেও। ফলে কিছু ক্ষেত্রে জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুদের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান হিসেবে ফুয়েল পাস ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন-সব গাড়ির জন্য আসছে ‘ফুয়েল কার্ড’
নতুন এই ব্যবস্থায় মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে নির্দিষ্ট যানবাহনের জন্য নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি কেনা যাবে। প্রাথমিকভাবে মোটরসাইকেলকে লক্ষ্য করে এই কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে জানা গেছে।
জ্বালানি বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরির কাজ চলছে। খুব শিগগিরই দেশের কয়েকটি স্থানে পরীক্ষামূলকভাবে এটি চালু করা হবে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হলে ধীরে ধীরে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এটি সম্প্রসারণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, একযোগে সারা দেশে এই সিস্টেম চালু করা সম্ভব নয়। তাই প্রথমে সীমিত পরিসরে শুরু করে পরে তা বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে করে প্রযুক্তিগত সমস্যা ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জগুলো সহজে মোকাবিলা করা যাবে।
ফুয়েল পাস ব্যবস্থায় প্রতিটি যানবাহনকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। এরপর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি ক্রয়ের অনুমতি দেওয়া হবে। কিউআর কোড স্ক্যান করে সহজেই জ্বালানি নেওয়া যাবে, যা পুরো প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত করবে।
এদিকে, ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর আগেই দেশের কিছু জেলায় ম্যানুয়াল ফুয়েল কার্ড চালু করা হয়েছে। সাতক্ষীরা, ঠাকুরগাঁও, চুয়াডাঙ্গা ও সিরাজগঞ্জে পেট্রল ও অকটেন কেনার ক্ষেত্রে এই কার্ড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিশেষ করে সাতক্ষীরায় মোটরসাইকেলে জ্বালানি নিতে জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরযুক্ত ফুয়েল কার্ড দেখাতে হচ্ছে। কার্ডে চালক ও যানবাহনের তথ্য সংরক্ষিত থাকে এবং পাম্পে জ্বালানি নেওয়ার সময় তা লিখে রাখা হয়। এতে জ্বালানি ব্যবহারের একটি নির্ভুল হিসাব রাখা সম্ভব হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল ফুয়েল পাস ব্যবস্থা চালু হলে জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়বে। একই সঙ্গে অবৈধ মজুদ ও অপচয় কমাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে, প্রযুক্তিনির্ভর এই নতুন উদ্যোগ দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন-মোটরসাইকেলের নাম্বার প্লেট রেডি হয়েছে কিনা এসএমএসের মাধ্যমে চেক করার নিয়ম (আপডেট))
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










