রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)–এ প্রকাশিত এক পোস্টে স্টারলিংক জানিয়েছে,
“এখন থেকে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার জনগণ বিনামূল্যে এবং নিরবিচ্ছিন্নভাবে ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যবহার করতে পারবেন।”
পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, এই সময়ের মধ্যে সংযোগের মান ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রতিষ্ঠানটি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। তবে পরিষেবাটি কীভাবে সক্রিয় হবে, কোন এলাকায় কতটা কভারেজ থাকবে কিংবা ব্যবহারকারীদের কোনো হার্ডওয়্যার প্রয়োজন হবে কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত কারিগরি ব্যাখ্যা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
আরও পড়ুন-বাংলাদেশে প্রথমবার রবির সাথে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা
কেন ভেনেজুয়েলার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ
ভেনেজুয়েলার ইন্টারনেট অবকাঠামো দীর্ঘদিন ধরেই নানা সমস্যায় জর্জরিত। দেশটিতে—
-
ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট (লোডশেডিং)।
-
সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও নিষেধাজ্ঞা।
-
নিম্নগতির ব্রডব্যান্ড ও মোবাইল নেটওয়ার্ক।
এসব কারণে সাধারণ মানুষের জন্য নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, ফ্রিল্যান্সার, সাংবাদিক ও প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগে ভোগান্তি ছিল নিত্যদিনের বিষয়।
এই প্রেক্ষাপটে স্টারলিংকের মতো স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা—যা স্থলভিত্তিক অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল নয়—ভেনেজুয়েলার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্টারলিংক কেন আলাদা
স্টারলিংক হলো স্পেসএক্সের একটি প্রকল্প, যার প্রতিষ্ঠাতা ধনকুবের উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। এটি লো-আর্থ অরবিট (LEO) স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট সরবরাহ করে। এর মূল সুবিধাগুলো হলো—
-
দুর্গম ও অবকাঠামোবিহীন এলাকায় ইন্টারনেট।
-
তুলনামূলকভাবে কম ল্যাটেন্সি।
-
প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও সংযোগ বজায় রাখার সক্ষমতা।
এ কারণেই বিশ্বের বিভিন্ন সংকটাপন্ন অঞ্চলে স্টারলিংককে “জরুরি ইন্টারনেট সমাধান” হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্র প্রসঙ্গ
এদিকে ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়ছে। কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে নিয়ে সামরিক অভিযান ও আটক সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—
-
এসব দাবি এখনো সব আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বা সরকারি সূত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।
-
বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন সূত্রে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে মাদুরো সরকারের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত বৈরী। ২০১৭ সাল থেকেই মাদুরো সরকার যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে—এমন আলোচনা আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল।
ইন্টারনেট ও রাজনীতি: কাকতালীয় নাকি কৌশল?
স্টারলিংকের এই বিনামূল্যে ইন্টারনেট ঘোষণা ঠিক এমন এক সময়ে এলো, যখন ভেনেজুয়েলা নিয়ে বৈশ্বিক রাজনীতি নতুন করে আলোচনায়। অনেক বিশ্লেষকের মতে—
-
এটি মানবিক সহায়তার অংশ হতে পারে।
-
আবার কেউ কেউ একে তথ্যপ্রবাহ উন্মুক্ত করার কৌশল হিসেবেও দেখছেন।
তবে স্টারলিংক বা ইলন মাস্কের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো আসেনি।
উপসংহার
ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষের জন্য স্টারলিংকের বিনামূল্যে ইন্টারনেট পরিষেবা নিঃসন্দেহে একটি স্বস্তিদায়ক ও আশাব্যঞ্জক উদ্যোগ। দীর্ঘদিনের ডিজিটাল বঞ্চনার মধ্যে এটি শিক্ষা, যোগাযোগ ও তথ্যপ্রাপ্তির নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক টানাপোড়েন এখনো সংবেদনশীল ও পরিবর্তনশীল। তাই যেকোনো বড় দাবির ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য সূত্র ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে নজর রাখা জরুরি।
আগামী দিনগুলোতে স্টারলিংকের এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয় এবং ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়—সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-বাংলাদেশে স্টারলিংক ইন্টারনেট চালু: দাম, স্পিড, সুবিধা
👉টেক নিউজের সকল খবর সবার আগে পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔


