আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

নির্বাচন উপলক্ষে শ্রমিক-কর্মচারীরা কতদিন ছুটি পাচ্ছেন? কারা পাচ্ছেন না

আর মাত্র কিছুদিন পরেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিল্পাঞ্চল ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে আসছে বড় পরিবর্তন। এরই মধ্যে সরকার নির্বাচন উপলক্ষে একদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল, এবার সেটি বাড়িয়ে আরও একদিন সাধারণ ছুটি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য আলাদা ছুটির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ফলে সরকারি কর্মচারী ও শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকরা পাচ্ছেন টানা চারদিন ছুটি—যা অনেকের জন্য বড় স্বস্তির খবর।

এই ব্লগ পোস্টে আমরা বিস্তারিতভাবে জানবো👇

  • কবে থেকে কবে পর্যন্ত ছুটি।

  • শ্রমিকরা কয়দিন ছুটি পাচ্ছেন।

  • সরকারি কর্মচারীদের ছুটির সময়সূচি।

  • কারা এই ছুটির আওতায় পড়ছেন না।

  • কোন কোন প্রতিষ্ঠান ছুটির বাইরে থাকবে।

সরকার কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে?

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

তিনি জানান, বাংলাদেশ সরকার নির্বাচন উপলক্ষে ছুটির সময়সূচিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে।

নির্বাচন উপলক্ষে ছুটির দিনগুলো (তারিখসহ)

🗳️ সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছুটি
তারিখ দিন ছুটির ধরন
১০ ফেব্রুয়ারি সোমবার শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের ছুটি
১১ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সাধারণ ছুটি
১২ ফেব্রুয়ারি বুধবার নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ ছুটি
১৩ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্রবারের আগের দিন)
১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি

শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীরা কতদিন ছুটি পাচ্ছেন?

শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য বিশেষভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—

🏭 শিল্পাঞ্চলের ছুটি:

  • ১০ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) – বিশেষ ছুটি।

  • ১১ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) – সাধারণ ছুটি।

  • ১২ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) – নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ ছুটি।

  • ১৩ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) – কার্যত টানা ছুটির অংশ।

➡️ মোট: টানা ৪ দিন ছুটি (১০–১৩ ফেব্রুয়ারি)

এটি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য বড় স্বস্তির সিদ্ধান্ত, কারণ এতে তারা নিরাপদে ভোট দিতে ও বাড়ি যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

সরকারি কর্মচারীরা কতদিন ছুটি পাচ্ছেন?

সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে ছুটির হিসাব একটু ভিন্ন—

🏢 সরকারি কর্মচারীদের ছুটি:

  • ১১ ফেব্রুয়ারি – সাধারণ ছুটি

  • ১২ ফেব্রুয়ারি – নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ ছুটি

  • ১৩ ফেব্রুয়ারি – শুক্রবার

  • ১৪ ফেব্রুয়ারি – শনিবার

➡️ মোট: টানা ৪ দিন ছুটি (১১–১৪ ফেব্রুয়ারি)

কারা এই ছুটির আওতায় থাকছেন না?

সবাই এই ছুটির সুবিধা পাবেন না। কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর ছুটির বাইরে থাকবে—

❌ যেসব প্রতিষ্ঠান/কর্মচারী ছুটি পাচ্ছেন না:
  • জরুরি সেবা (হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স)।

  • আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

  • নির্বাচন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী।

  • বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, টেলিযোগাযোগের জরুরি কর্মীরা।

  • গণমাধ্যমে জরুরি দায়িত্বে থাকা কর্মীরা।

এই প্রতিষ্ঠানগুলো রোটেশন বা বিশেষ ব্যবস্থাপনায় খোলা থাকবে

কেন এই ছুটি দেওয়া হলো?

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে—

  • ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

  • শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের নিরাপদে চলাচলের সুযোগ দেওয়া।

  • নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখা।

এই লক্ষ্যেই ছুটির সময় বাড়ানো হয়েছে।

ফেব্রুয়ারি মাসজুড়েই ছুটির আমেজ

ফেব্রুয়ারি মাসে এমনিতেই রয়েছে—

  • সাপ্তাহিক ছুটি।

  • নির্বাচন উপলক্ষে ছুটি।

  • শিল্পাঞ্চলের বিশেষ ছুটি।

ফলে অনেকের জন্য ফেব্রুয়ারি মাস হয়ে উঠছে ছুটির মাস

সাধারণ মানুষের জন্য কী বার্তা?

যারা ভ্রমণ করবেন বা বাড়ি যাবেন—

  • আগেই টিকিট ও যাতায়াতের ব্যবস্থা করুন।

  • নির্বাচনী এলাকায় নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলুন।

  • জরুরি সেবার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের খোলা থাকার সময় জেনে নিন।

তথ্যসূত্র-rtvonline.com

উপসংহার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকার যে ছুটির সময়সূচি ঘোষণা করেছে, তা শ্রমিক, কর্মচারী ও সাধারণ মানুষের জন্য বেশ সহায়ক। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের টানা চারদিন ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত একটি ইতিবাচক ও মানবিক পদক্ষেপ।

এই ছুটির ফলে একদিকে যেমন ভোটাধিকার প্রয়োগ সহজ হবে, অন্যদিকে কর্মজীবীদের মানসিক চাপও কিছুটা কমবে—এটাই সবার প্রত্যাশা।

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। আমি মোঃ সানাউল বারী। পেশায় আমি একজন চাকরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। চাকরির পাশাপাশি, আমি গত ১৪ বছর ধরে আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটে লেখালেখি করছি এবং আমার নিজস্ব ইউটিউব এবং ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করছি। বিশেষ দ্রষ্টব্য - লেখায় যদি কোনও ভুল থাকে, তাহলে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। ধন্যবাদ।