আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

৮ জেলায় চালু হলো ডিজিটাল জামিননামা সেবা: এক ঘণ্টায় মুক্তি মিলবে আসামিদের

বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় যুক্ত হলো এক নতুন যুগের সূচনা। বিচারপ্রার্থী মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং বিচার প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে ৮ জেলায় চালু হলো ডিজিটাল জামিননামা সেবা (ই-বেইলবন্ড)। এই সেবার মাধ্যমে এখন অনলাইনে জামিননামা দাখিল করে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই বন্দির মুক্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সেবার উদ্বোধন করেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

আরও – অনলাইনে মামলা দেখার উপায় ২০২৬

কোন কোন জেলায় চালু হলো ই-বেইলবন্ড?

প্রথম ধাপে যেসব জেলায় ডিজিটাল জামিননামা সেবা চালু হয়েছে, সেগুলো হলো—

  • মানিকগঞ্জ

  • বান্দরবান

  • মেহেরপুর

  • জয়পুরহাট

  • মৌলভীবাজার

  • পঞ্চগড়

  • ঝালকাঠি

  • শেরপুর

এর আগে পরীক্ষামূলকভাবে নারায়ণগঞ্জ জেলায় এই সেবা চালু হয় এবং সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

ই-বেইলবন্ড কী?

ই-বেইলবন্ড হলো জামিননামা দাখিলের একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতি। আগে যেখানে কাগজপত্র, স্বাক্ষর ও বিভিন্ন দপ্তরে দৌড়ঝাঁপ করতে হতো, এখন সেখানে অনলাইনের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে।

এর মাধ্যমে—

  • অনলাইনে জামিননামা দাখিল।

  • ডিজিটাল স্বাক্ষর।

  • স্বয়ংক্রিয় যাচাই।

  • দ্রুত অনুমোদন।

এই সব ধাপ একত্রে সম্পন্ন হবে।

আগে কী সমস্যা ছিল?

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, আগে একজন আসামিকে জামিন পেতে—

  • ১০ থেকে ১২টি ধাপ পার হতে হতো।

  • ঘণ্টার পর ঘণ্টা এমনকি কয়েক দিন সময় লাগতো।

  • অর্থনৈতিক খরচ বেড়ে যেত।

  • দালাল ও অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতো।

এই পুরো প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হতেন।

নতুন পদ্ধতিতে কী সুবিধা মিলবে?

ই-বেইলবন্ড চালু হওয়ার ফলে—

  • মাত্র এক ঘণ্টায় বন্দির মুক্তি সম্ভব।

  • সব ধাপে ডিজিটাল রেকর্ড থাকবে।

  • কে কখন সাইন করলেন তা সংরক্ষিত থাকবে।

  • ইচ্ছাকৃতভাবে প্রক্রিয়া বিলম্ব করা যাবে না।

  • স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।

ড. আসিফ নজরুল বলেন,

“এখন আর কেউ চাইলে জামিন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করতে পারবে না।”

বিচার ব্যবস্থায় কেন এটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ?

আইন মন্ত্রণালয়ের মতে, এই উদ্যোগ—

  • বিচার ব্যবস্থাকে আধুনিক করবে।

  • বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ কমাবে।

  • কারা প্রশাসনের কাজ সহজ করবে।

  • আইনজীবীদের সময় সাশ্রয় করবে।

  • রাষ্ট্রের ব্যয় কমাবে

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো—মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার সময় ও কষ্ট কমবে।

ধাপে ধাপে সারাদেশে চালুর পরিকল্পনা

সরকার জানিয়েছে, প্রথম ধাপে ৮ জেলায় সফল বাস্তবায়নের পর পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এই ডিজিটাল জামিননামা সেবা চালু করা হবে।

এর ফলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা আরও প্রযুক্তিনির্ভর, দ্রুত ও জনবান্ধব হয়ে উঠবে।

সাধারণ মানুষের জন্য কী পরিবর্তন আসবে?

এই সেবা চালুর ফলে—

  • অপ্রয়োজনীয় হয়রানি কমবে।

  • অর্থনৈতিক চাপ হ্রাস পাবে।

  • জামিন পেতে দালালের প্রয়োজন থাকবে না।

  • স্বজনদের দ্রুত মুক্তি সম্ভব হবে।

  • বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে।

উপসংহার

ডিজিটাল জামিননামা বা ই-বেইলবন্ড সেবা বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন। এটি শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং ন্যায়বিচারকে মানুষের আরও কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি শক্তিশালী উদ্যোগ।

৮ জেলায় এই সেবা চালুর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে—বাংলাদেশ ধীরে ধীরে একটি আধুনিক, ডিজিটাল ও মানবিক বিচার ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

ভবিষ্যতে সারাদেশে এই সেবা চালু হলে বিচারপ্রার্থী মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে যাবে—এটাই এখন সবার প্রত্যাশা।

তথ্যসূত্র-rtvonline

আরও পড়ুন-মিথ্যা মামলা থেকে বাঁচার উপায়: বাংলাদেশে আইনি ও বাস্তব সমাধান

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। আমি মোঃ সানাউল বারী। পেশায় আমি একজন চাকরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। চাকরির পাশাপাশি, আমি গত ১৪ বছর ধরে আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটে লেখালেখি করছি এবং আমার নিজস্ব ইউটিউব এবং ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করছি। বিশেষ দ্রষ্টব্য - লেখায় যদি কোনও ভুল থাকে, তাহলে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। ধন্যবাদ।