বাংলাদেশের নগর ও আধা-নগর এলাকায় ই-রিকশা এখন অন্যতম জনপ্রিয় গণপরিবহন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই ই-রিকশার নিরাপত্তা, নকশাগত ত্রুটি ও মান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে আশার আলো হয়ে এসেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (BUET)–এর নকশায় তৈরি দেশের প্রথম স্ট্যান্ডার্ড ই-রিকশা।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে তৈরি এই ই-রিকশা পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে। এটি শুধু পরিবেশবান্ধবই নয়, বরং যাত্রী ও চালক—উভয়ের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তৈরি।
আরও দেখুন–গণপরিবহনে স্বস্তির নতুন অধ্যায়: রাজধানীতে চালু হচ্ছে ৪০০ ইলেকট্রিক বাস
বুয়েটের নকশায় তৈরি ই-রিকশার বিশেষত্ব
এই ই-রিকশাটি প্রচলিত ব্যাটারিচালিত রিকশা থেকে একেবারেই আলাদা। নিচে এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরা হলো—
✅ ১. উন্নত ও ভারসাম্যপূর্ণ নকশা
বুয়েটের প্রকৌশলীরা ই-রিকশাটির চ্যাসিস ও বডি ডিজাইন এমনভাবে তৈরি করেছেন, যাতে হঠাৎ ব্রেক বা বাঁক নেওয়ার সময় উল্টে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
✅ ২. নিরাপদ গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা
এই ই-রিকশায় নির্ধারিত স্পিড লিমিটার ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে অতিরিক্ত গতিতে চালানোর সুযোগ নেই, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমাবে।
✅ ৩. মানসম্মত ব্যাটারি ও মোটর
-
উন্নতমানের বৈদ্যুতিক ব্যাটারি।
-
কম বিদ্যুৎ খরচে বেশি কার্যক্ষমতা।
-
আগুন লাগার ঝুঁকি কম এমন প্রযুক্তি।
✅ ৪. যাত্রীবান্ধব বসার ব্যবস্থা
আরামদায়ক সিট, পর্যাপ্ত লেগ স্পেস এবং সঠিক ছাদ কাঠামো থাকায় যাত্রীরা স্বস্তিতে ভ্রমণ করতে পারবেন।
✅ ৫. পরিবেশবান্ধব যান
এই ই-রিকশা থেকে
-
ধোঁয়া নেই।
-
শব্দ দূষণ নেই।
-
কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কাছাকাছি।
যা পরিবেশ রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে।
কেন এই ই-রিকশা গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশে বর্তমানে লাখো ই-রিকশা চলাচল করছে, যেগুলোর বেশিরভাগই অননুমোদিত ও মানহীন। এর ফলে—
-
সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে।
-
বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ পড়ছে।
-
যাত্রী নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছে।
বুয়েটের নকশায় তৈরি এই ই-রিকশা ভবিষ্যতে সরকারি অনুমোদিত স্ট্যান্ডার্ড মডেল হিসেবে চালু হলে এই সমস্যাগুলোর একটি টেকসই সমাধান পাওয়া যাবে।
সরকারের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মডেলটি সফল হলে—
-
সারা দেশে ধাপে ধাপে চালু করা হতে পারে।
-
নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আওতায় আনা সহজ হবে।
-
অবৈধ ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
এতে করে শহরের যানজট ও দুর্ঘটনা উভয়ই কমবে।
ভবিষ্যতে কী আশা করা যায়?
বুয়েটের নকশায় ই-রিকশা শুধু একটি যান নয়, বরং এটি—
-
বাংলাদেশের নিজস্ব প্রযুক্তির সক্ষমতা।
-
নিরাপদ গণপরিবহনের নতুন দিগন্ত।
-
পরিবেশবান্ধব শহর গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উপসংহার
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো বুয়েটের নকশায় ই-রিকশা চালু হওয়া নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। এটি বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষ পাবে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী পরিবহন, আর দেশ পাবে একটি আধুনিক ও নিয়ন্ত্রিত ই-রিকশা ব্যবস্থা।
👉 আপনার মতামত কী? এই ই-রিকশা কি বাংলাদেশের গণপরিবহন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে? কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না।
আরও পড়ুন-বন্ধ হচ্ছে অবৈধ মোবাইল সেট ! আপনারটা বৈধ কিনা চেক করুন
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










