আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

বুয়েটের নকশায় দেশের প্রথম ই-রিকশা চালু | কী কী থাকছে এই আধুনিক ই-রিকশায়?

January 3, 2026 7:56 PM
বুয়েটের নকশায় দেশের প্রথম ই-রিকশা চালু |

বাংলাদেশের নগর ও আধা-নগর এলাকায় ই-রিকশা এখন অন্যতম জনপ্রিয় গণপরিবহন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই ই-রিকশার নিরাপত্তা, নকশাগত ত্রুটি ও মান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে আশার আলো হয়ে এসেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (BUET)–এর নকশায় তৈরি দেশের প্রথম স্ট্যান্ডার্ড ই-রিকশা।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে তৈরি এই ই-রিকশা পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে। এটি শুধু পরিবেশবান্ধবই নয়, বরং যাত্রী ও চালক—উভয়ের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তৈরি।

আরও দেখুনগণপরিবহনে স্বস্তির নতুন অধ্যায়: রাজধানীতে চালু হচ্ছে ৪০০ ইলেকট্রিক বাস

বুয়েটের নকশায় তৈরি ই-রিকশার বিশেষত্ব

এই ই-রিকশাটি প্রচলিত ব্যাটারিচালিত রিকশা থেকে একেবারেই আলাদা। নিচে এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরা হলো—

✅ ১. উন্নত ও ভারসাম্যপূর্ণ নকশা

বুয়েটের প্রকৌশলীরা ই-রিকশাটির চ্যাসিস ও বডি ডিজাইন এমনভাবে তৈরি করেছেন, যাতে হঠাৎ ব্রেক বা বাঁক নেওয়ার সময় উল্টে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।

✅ ২. নিরাপদ গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা

এই ই-রিকশায় নির্ধারিত স্পিড লিমিটার ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে অতিরিক্ত গতিতে চালানোর সুযোগ নেই, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমাবে।

✅ ৩. মানসম্মত ব্যাটারি ও মোটর

  • উন্নতমানের বৈদ্যুতিক ব্যাটারি।

  • কম বিদ্যুৎ খরচে বেশি কার্যক্ষমতা।

  • আগুন লাগার ঝুঁকি কম এমন প্রযুক্তি।

✅ ৪. যাত্রীবান্ধব বসার ব্যবস্থা

আরামদায়ক সিট, পর্যাপ্ত লেগ স্পেস এবং সঠিক ছাদ কাঠামো থাকায় যাত্রীরা স্বস্তিতে ভ্রমণ করতে পারবেন।

✅ ৫. পরিবেশবান্ধব যান

এই ই-রিকশা থেকে

  • ধোঁয়া নেই।

  • শব্দ দূষণ নেই।

  • কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কাছাকাছি।

যা পরিবেশ রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে।

কেন এই ই-রিকশা গুরুত্বপূর্ণ?

বাংলাদেশে বর্তমানে লাখো ই-রিকশা চলাচল করছে, যেগুলোর বেশিরভাগই অননুমোদিত ও মানহীন। এর ফলে—

  • সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে।

  • বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ পড়ছে।

  • যাত্রী নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছে।

বুয়েটের নকশায় তৈরি এই ই-রিকশা ভবিষ্যতে সরকারি অনুমোদিত স্ট্যান্ডার্ড মডেল হিসেবে চালু হলে এই সমস্যাগুলোর একটি টেকসই সমাধান পাওয়া যাবে।

সরকারের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মডেলটি সফল হলে—

  • সারা দেশে ধাপে ধাপে চালু করা হতে পারে।

  • নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আওতায় আনা সহজ হবে।

  • অবৈধ ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

এতে করে শহরের যানজট ও দুর্ঘটনা উভয়ই কমবে।

ভবিষ্যতে কী আশা করা যায়?

বুয়েটের নকশায় ই-রিকশা শুধু একটি যান নয়, বরং এটি—

  • বাংলাদেশের নিজস্ব প্রযুক্তির সক্ষমতা।

  • নিরাপদ গণপরিবহনের নতুন দিগন্ত।

  • পরিবেশবান্ধব শহর গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উপসংহার

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো বুয়েটের নকশায় ই-রিকশা চালু হওয়া নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। এটি বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষ পাবে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী পরিবহন, আর দেশ পাবে একটি আধুনিক ও নিয়ন্ত্রিত ই-রিকশা ব্যবস্থা।

👉 আপনার মতামত কী? এই ই-রিকশা কি বাংলাদেশের গণপরিবহন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে? কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না।

আরও পড়ুন-বন্ধ হচ্ছে অবৈধ মোবাইল সেট ! আপনারটা বৈধ কিনা চেক করুন

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

Sanaul Bari

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। আমি মোঃ সানাউল বারী। পেশায় আমি একজন চাকরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। চাকরির পাশাপাশি, আমি গত ১৪ বছর ধরে আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটে লেখালেখি করছি এবং আমার নিজস্ব ইউটিউব এবং ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করছি। বিশেষ দ্রষ্টব্য - লেখায় যদি কোনও ভুল থাকে, তাহলে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। ধন্যবাদ।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now