প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার ব্যবহারকারীদের অনেক সময় হঠাৎ করে ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। বিশেষ করে রাতে বা জরুরি সময়ে রিচার্জ করা সম্ভব না হলে সমস্যায় পড়তে হয়। এই পরিস্থিতিতে ব্যবহারকারীদের জন্য বিদ্যুৎ মিটারে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স নেওয়ার সুবিধা রয়েছে। কীভাবে এই জরুরি ব্যালেন্স চালু করবেন এবং এর নিয়ম কী—তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো।
আরও পড়ুন-অনলাইনে পুরাতন বিদ্যুৎ মিটার পরিবর্তনের আবেদন করার নিয়ম(মাত্র ২৭৬ টাকা)
প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স কী
বাংলাদেশে বর্তমানে অনেক এলাকায় প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার ব্যবহার করা হচ্ছে। এই মিটারে আগে টাকা রিচার্জ করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হয়। তবে হঠাৎ ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলে যাতে ব্যবহারকারীরা অন্ধকারে না পড়েন, সে জন্য ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স বা জরুরি বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স মূলত একটি অস্থায়ী সুবিধা। এতে নির্দিষ্ট পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যায়, যা পরবর্তী রিচার্জের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নেওয়া হয়।
বিদ্যুৎ মিটারে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স আনার নিয়ম
অনেকেই জানেন না যে প্রিপেইড মিটারে খুব সহজ একটি কোড ব্যবহার করে জরুরি ব্যালেন্স চালু করা যায়। নিচে ধাপে ধাপে প্রক্রিয়াটি দেওয়া হলো—
ধাপ ১: মিটারের কীপ্যাড ব্যবহার
প্রথমে আপনার প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের কীপ্যাডে যেতে হবে।
ধাপ ২: নির্ধারিত কোড ডায়াল
সাধারণত প্রিপেইড মিটারে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স চালু করতে নিচের কোডটি ব্যবহার করা হয়—
#09# অথবা 09 Enter
কোডটি লিখে Enter বাটন চাপলে মিটারে জরুরি ব্যালেন্স চালু হয়ে যায়।
ধাপ ৩: ডিসপ্লে চেক করা
কোড ডায়াল করার পর মিটারের ডিসপ্লেতে নতুন ব্যালেন্স দেখাবে। তখন বিদ্যুৎ সংযোগ আবার চালু হয়ে যাবে।
তবে মনে রাখতে হবে, মিটার ও বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি অনুযায়ী কোড কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।
ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স কত ইউনিট পাওয়া যায়
সাধারণত প্রিপেইড মিটারে সীমিত পরিমাণ জরুরি ব্যালেন্স দেওয়া হয়। এটি সাধারণত—
-
প্রায় ১০ থেকে ২০ ইউনিট বিদ্যুৎ।
-
কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট টাকা সমমূল্যের বিদ্যুৎ।
এই ব্যালেন্স সাময়িক ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়। পরবর্তী রিচার্জের সময় সেই টাকা কেটে নেওয়া হয়।
ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স ব্যবহারের শর্ত
প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারে জরুরি ব্যালেন্স ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত থাকে। যেমন—
-
ব্যালেন্স শূন্য বা প্রায় শেষ হলে এটি ব্যবহার করা যায়।
-
একবার ব্যবহার করার পর আবার ব্যবহার করতে হলে নতুন করে রিচার্জ করতে হয়।
-
কিছু মিটারে মাসে একবার ইমার্জেন্সি সুবিধা পাওয়া যায়।
এই নিয়মগুলো বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স নেওয়ার সময় যে বিষয়গুলো মনে রাখতে হবে
ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স ব্যবহার করার সময় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন—
-
এটি স্থায়ী ব্যালেন্স নয়, অস্থায়ী সুবিধা।
-
পরবর্তী রিচার্জে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকা কেটে নেওয়া হবে।
-
দীর্ঘ সময় ব্যবহারের জন্য নিয়মিত রিচার্জ করা প্রয়োজন।
-
কোড ভুল দিলে মিটার কাজ নাও করতে পারে।
তাই সঠিক কোড ব্যবহার করা জরুরি।
কেন ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ
প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি সুবিধা। কারণ—
-
রাতে বা ছুটির দিনে বিদ্যুৎ বন্ধ হলে সাময়িক সমাধান পাওয়া যায়।
-
জরুরি সময়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার চালু রাখা যায়।
-
মোবাইল ব্যাংকিং বা রিচার্জ সুবিধা না থাকলেও সমস্যা হয় না।
এই কারণে অনেক ব্যবহারকারী এই সুবিধাটি ব্যবহার করেন।
কখন ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স কাজ নাও করতে পারে
কিছু পরিস্থিতিতে জরুরি ব্যালেন্স চালু নাও হতে পারে। যেমন—
-
মিটার প্রযুক্তিগত সমস্যায় থাকলে।
-
আগেই ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স ব্যবহার করা হয়ে থাকলে।
-
মিটারে নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করলে।
এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করার প্রয়োজন হতে পারে।
উপসংহার
প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার ব্যবহারকারীদের জন্য ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলে নির্দিষ্ট কোড ব্যবহার করে সহজেই এই সুবিধা চালু করা যায়। তবে এটি অস্থায়ী ব্যবস্থা হওয়ায় পরবর্তী সময়ে নিয়মিতভাবে বিদ্যুৎ রিচার্জ করা প্রয়োজন।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-পল্লী বিদ্যুতের মিটার স্থানান্তরের নিয়ম ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ আবেদন প্রক্রিয়া(আপডেট)
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔








