বাংলাদেশে জমি কেনা অনেক মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো—ভুয়া দলিল, নকল জাতীয় পরিচয়পত্র ও জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে প্রতারণার ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। অনেক মানুষ না বুঝেই লাখ লাখ টাকা হারাচ্ছেন, যা পরবর্তীতে আইনি জটিলতায় রূপ নেয়।
বিশেষ করে দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত জমি, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমি বা শহরের আশপাশের এলাকায় ভুয়া দলিলের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। তাই জমি কেনার আগে সচেতন না হলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়া অনিবার্য।
আরও পড়ুন-অনলাইনে জমির পর্চা সংগ্রহের নিয়ম ২০২৬ (আপডেট)
ভুয়া দলিল কেন এত বিপজ্জনক?
ভুয়া দলিলের মাধ্যমে জমি কিনলে—
-
জমির প্রকৃত মালিকানা পাওয়া যায় না।
-
ভবিষ্যতে মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে পড়তে হয়।
-
টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য।
-
মানসিক ও সামাজিক ভোগান্তি বাড়ে।
তাই জমি কেনার আগে দলিল যাচাই করা বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা।
সহকারী ভূমি কমিশনারের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
ঢাকার ডেমরা এলাকার সহকারী ভূমি কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান বলেন—
“সঠিক যাচাই ছাড়া জমি কেনা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। একাধিক স্তরে যাচাই না করলে ভুয়া দলিলের ফাঁদে পড়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।”
ভুয়া দলিল চেনার সবচেয়ে সহজ উপায়
১️⃣ দলিলের ভলিউম ও রেজিস্ট্রি নম্বর যাচাই
দলিলে উল্লেখ থাকা ভলিউম নম্বর ও রেজিস্ট্রি নম্বর অবশ্যই সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে।
২️⃣ সরকারি সিল ও স্বাক্ষর পরীক্ষা
দলিলে ব্যবহৃত সরকারি সিল, কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও তারিখের সামঞ্জস্য আছে কিনা তা ভালোভাবে যাচাই করতে হবে।
৩️⃣ দলিল লেখকের পরিচয় নিশ্চিত করুন
দলিল যিনি লিখেছেন (ডিড রাইটার), তার লাইসেন্স ও পরিচয় যাচাই করা জরুরি।
৪️⃣ নামজারি ও খতিয়ান যাচাই
নামজারি (মিউটেশন) সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে কিনা এবং খতিয়ানে জমির পরিমাণ ও মালিকানা মিলছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে।
৫️⃣ সীমানা ও জমির অবস্থান মিলিয়ে দেখুন
দলিলে উল্লেখিত জমির সীমানা বাস্তবে গিয়ে মিলিয়ে দেখুন। অনেক সময় কাগজে এক জমি, বাস্তবে অন্য জমি দেখানো হয়।
পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা
যদি পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে জমি বিক্রি হয়, তবে—
-
দাতা ও গ্রহীতার ছবি।
-
জাতীয় পরিচয়পত্র।
-
আঙুলের ছাপ।
-
পাওয়ারের মেয়াদ।
সবকিছু ভালোভাবে যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পুরোনো কাগজপত্র যাচাই করুন
জমির সঙ্গে সম্পর্কিত নিচের কাগজগুলো সংগ্রহ ও মিলিয়ে দেখুন—
-
পূর্ববর্তী দলিল।
-
উত্তরাধিকারনামা।
-
খাজনা/ভূমি কর পরিশোধের রশিদ।
-
খতিয়ান কপি।
সবকিছু সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
স্ট্যাম্প যাচাই কেন জরুরি?
দলিলে ব্যবহৃত স্ট্যাম্পের—
-
সিরিয়াল নম্বর।
-
উৎস।
-
মূল্য।
সঠিক কিনা তা যাচাই না করলে ভুয়া স্ট্যাম্পের মাধ্যমে দলিল বাতিল হয়ে যেতে পারে।
অতিরিক্ত নিরাপত্তা টিপস
-
একাধিক জায়গায় যাচাই করুন।
-
মৌখিক কথায় বিশ্বাস করবেন না।
-
জমির ইতিহাস জানুন।
-
প্রতিবেশীদের কাছ থেকে তথ্য নিন।
-
প্রয়োজনে আইনজীবীর সাহায্য নিন।
সচেতনতা থাকলেই নিরাপদ বিনিয়োগ
সহকারী ভূমি কমিশনার বলেন—
“জমি কেনা যেহেতু বড় বিনিয়োগ, তাই একাধিক স্তরে যাচাই ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।”
সঠিক প্রস্তুতি ও সচেতনতা থাকলে জমি লেনদেন হতে পারে নিরাপদ, ঝুঁকিমুক্ত ও নিশ্চিন্ত।
উপসংহার
ভুয়া দলিল চেনা কঠিন নয়, যদি আপনি সঠিক নিয়ম জানেন। জমি কেনার আগে একটু সময় নিয়ে যাচাই করলেই ভবিষ্যতের বড় বিপদ থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব। মনে রাখবেন—একটু সচেতনতাই আপনাকে লাখ টাকার ক্ষতি থেকে বাঁচাতে পারে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-জমির মামলা থেকে বাঁচতে আগে থেকেই যেসব কাজ করবেন
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










