আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বিধবা ভাতা কত টাকা | আবেদন নিয়ম ও সর্বশেষ আপডেট

বাংলাদেশ সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বিধবা ভাতা। স্বামীহারা অসহায় নারীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে প্রতি অর্থবছর এই ভাতা প্রদান করা হয়। অনেকেই জানতে চান—২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বিধবা ভাতা কত টাকা, কারা পাবেন, কীভাবে আবেদন করবেন এবং কবে টাকা পাওয়া যায়। এই পোস্টে বাংলাদেশি পাঠকদের জন্য সহজ ভাষায় সব তথ্য একসাথে তুলে ধরা হলো।

আরও পড়ুন-বিধবা ভাতা লিস্ট বের করুন মাত্র ২ মিনিটে (সব এলাকার)

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বিধবা ভাতা কত টাকা?

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বিধবা ভাতার পরিমাণ মাসিক ৫৫০ টাকা।
অর্থাৎ—

  • ✅ মাসিক ভাতা: ৫৫০ টাকা

  • ✅ বার্ষিক ভাতা: ৬,৬০০ টাকা

  • ✅ টাকা প্রদান পদ্ধতি: মোবাইল ব্যাংকিং / ব্যাংক অ্যাকাউন্ট

এই ভাতা কর্মসূচিটি পরিচালনা করছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এর আওতাধীন সংস্থাগুলো, যা বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত।

বিধবা ভাতার মূল উদ্দেশ্য

বিধবা ভাতা কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য হলো—

  • স্বামীহারা দরিদ্র নারীদের ন্যূনতম আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

  • পরিবার পরিচালনায় সহায়তা করা।

  • সমাজে নারীর মর্যাদা ও সম্মান বজায় রাখা।

  • ভিক্ষাবৃত্তি ও চরম দারিদ্র্য হ্রাস করা।

কারা বিধবা ভাতা পাবেন? (যোগ্যতার শর্ত)

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বিধবা ভাতা পেতে হলে নিম্নোক্ত শর্তগুলো পূরণ করতে হবে—

  • আবেদনকারী অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।

  • স্বামী মৃত হতে হবে (আইনগতভাবে বিধবা)।

  • বয়স সাধারণত ১৮ বছরের বেশি।

  • নিজস্ব উল্লেখযোগ্য আয় বা সম্পদ না থাকা।

  • অন্য কোনো সরকারি সামাজিক ভাতা (একই শ্রেণির) গ্রহণ না করা।

বিধবা ভাতা আবেদন করার নিয়ম (২০২৫-২০২৬)

বিধবা ভাতার আবেদন সাধারণত ইউনিয়ন পরিষদ / পৌরসভা / সিটি কর্পোরেশন এর মাধ্যমে নেওয়া হয়।

আবেদন প্রক্রিয়া:

  1. স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা ওয়ার্ড অফিসে যোগাযোগ।

  2. নির্ধারিত আবেদন ফরম সংগ্রহ।

  3. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করা।

  4. যাচাই-বাছাই শেষে তালিকাভুক্তি।

  5. অনুমোদন হলে নিয়মিত ভাতা প্রদান।

বিধবা ভাতা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)

  • স্বামীর মৃত্যু সনদ।

  • নাগরিকত্ব সনদ।

  • পাসপোর্ট সাইজ ছবি।

  • মোবাইল নম্বর / ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং তথ্য।

বিধবা ভাতার টাকা কিভাবে পাওয়া যায়?

বর্তমানে সরকার ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাতা প্রদান করছে—

  • 📱 মোবাইল ব্যাংকিং (নগদ / বিকাশ / রকেট)।

  • 🏦 ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে।

প্রতি মাস বা নির্ধারিত সময়ে সরাসরি সুবিধাভোগীর অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়।

বিধবা ভাতা কবে দেওয়া হয়?

ভাতা সাধারণত—

  • প্রতি মাসে অথবা

  • ৩–৬ মাস পরপর একসাথে (কিস্তিতে)

স্থানভেদে ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সময় ভিন্ন হতে পারে।

প্রশ্ন-উত্তর

প্রশ্ন ১: ২০২৫-২০২৬ সালে বিধবা ভাতা কি বাড়ানো হয়েছে?

👉 বর্তমানে ভাতার পরিমাণ মাসিক ৫৫০ টাকা নির্ধারিত আছে। ভবিষ্যতে বাজেট অনুযায়ী পরিবর্তন হতে পারে।

প্রশ্ন ২: অনলাইনে কি বিধবা ভাতার আবেদন করা যায়?

👉 অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরাসরি ইউনিয়ন পরিষদ/ওয়ার্ড অফিসে আবেদন করতে হয়। অনলাইন পদ্ধতি ধাপে ধাপে চালু হচ্ছে।

প্রশ্ন ৩: এক পরিবারে একাধিক বিধবা ভাতা পাওয়া যাবে?

👉 না, সাধারণত একজনই এই ভাতা পেতে পারেন।

প্রশ্ন ৪: ভাতা বন্ধ হয়ে যেতে পারে কি?

👉 হ্যাঁ, ভুল তথ্য, অযোগ্যতা বা মৃত্যু হলে ভাতা বন্ধ হয়ে যায়।

প্রশ্ন ৫: কিভাবে নিজের নাম তালিকায় আছে কিনা জানবো?

👉 স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করে জানা যায়।

উপসংহার

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বিধবা ভাতা মাসিক ৫৫০ টাকা—যা অনেক অসহায় নারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা। সঠিক তথ্য ও নিয়ম মেনে আবেদন করলে এই ভাতা পাওয়া সম্ভব। আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ যদি যোগ্য হন, তাহলে দেরি না করে স্থানীয় অফিসে যোগাযোগ করুন।

এই পোস্টটি উপকারী মনে হলে শেয়ার করুন, যাতে আরও মানুষ সঠিক তথ্য জানতে পারে।

আরও পড়ুন-বিধবা ভাতা কত টাকা?

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। আমি মোঃ সানাউল বারী। পেশায় আমি একজন চাকরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। চাকরির পাশাপাশি, আমি গত ১৪ বছর ধরে আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটে লেখালেখি করছি এবং আমার নিজস্ব ইউটিউব এবং ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করছি। বিশেষ দ্রষ্টব্য - লেখায় যদি কোনও ভুল থাকে, তাহলে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। ধন্যবাদ।