দেশে যানবাহন খাতে নতুন কর ও নিবন্ধন নীতিমালা নিয়ে আলোচনা বাড়ার মধ্যে এবার প্রশ্ন উঠেছে—অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের পর ভবিষ্যতে কি বাইসাইকেলও করের আওতায় আসতে পারে? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রযুক্তি ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট মহলে এ নিয়ে চলছে আলোচনা। যদিও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো ঘোষণা আসেনি, তবুও সম্ভাব্য নীতিগত পরিবর্তন নিয়ে মত দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন-নম্বর প্লেট ও আরএফআইডি ট্যাগ না থাকলেই জরিমানা
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের ওপর কর, নিবন্ধন ও লাইসেন্স ব্যবস্থার বিষয়ে আলোচনা বাড়ার পর অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ধীরে ধীরে বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থাগুলোকেও ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর আওতায় আনা হতে পারে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে বাইসাইকেলের ব্যবহার বাড়তে থাকায় এটি নিয়েও নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
পরিবহন বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাইকেলকে পরিবেশবান্ধব যানবাহন হিসেবে উৎসাহ দেওয়া হয়। অনেক উন্নত দেশে সাইকেল ব্যবহারে আলাদা লেন, ভর্তুকি ও কর ছাড়ের সুবিধাও রয়েছে। কারণ এটি জ্বালানিনির্ভর নয় এবং পরিবেশ দূষণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাইসাইকেলের ব্যবহার বেড়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, ডেলিভারি রাইডার এবং স্বাস্থ্য সচেতন তরুণদের মধ্যে সাইকেল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে যানজট এড়াতে অনেকে এখন স্বল্প দূরত্বে সাইকেল ব্যবহার করছেন।
তবে অর্থনীতি ও পরিবহন খাত সংশ্লিষ্ট কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, ভবিষ্যতে যদি নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধনভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হয়, তাহলে নির্দিষ্ট ধরনের সাইকেল—বিশেষ করে উচ্চমূল্যের ই-বাইক বা বৈদ্যুতিক বাইসাইকেলের ক্ষেত্রে আলাদা নীতিমালা আসতে পারে। তবে সাধারণ প্যাডেলচালিত বাইসাইকেলের ওপর সরাসরি কর আরোপের সম্ভাবনা এখনই খুব বেশি দেখছেন না তারা।
জননীতি বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত পরিবেশবান্ধব বাহনের ওপর কর আরোপ করা হলে সেটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ বর্তমানে জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি এবং নগর যানজটের কারণে অনেক মানুষ কম খরচের বিকল্প পরিবহন হিসেবে সাইকেল বেছে নিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ বলছেন, সরকারের মূল লক্ষ্য সাধারণত রাজস্ব আদায় ও সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা। সে ক্ষেত্রে বড় আকারের বাণিজ্যিক বা মোটরচালিত যানবাহনের ওপর কর কাঠামো বাড়ানো হতে পারে। তবে পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মত বাহন হিসেবে বাইসাইকেলকে উৎসাহ দেওয়ার প্রবণতাই আন্তর্জাতিকভাবে বেশি দেখা যায়।
এদিকে প্রযুক্তিনির্ভর ই-বাইক বা বৈদ্যুতিক সাইকেলের ব্যবহার বাড়লে ভবিষ্যতে সেগুলোর নিবন্ধন, নিরাপত্তা মান এবং কর কাঠামো নিয়ে আলাদা নীতিমালা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ অনেক দেশে ইতোমধ্যে ই-বাইকের জন্য আলাদা নিয়ম চালু হয়েছে।
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, বাংলাদেশে এখনও সাইকেল ব্যবহারবান্ধব অবকাঠামো খুব সীমিত। আলাদা সাইকেল লেন, নিরাপদ পার্কিং এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় সাইকেল ব্যবহারকারীরা নানা ঝুঁকিতে থাকেন। তাই কর আরোপের আলোচনা নয়, বরং সাইকেলবান্ধব নগর পরিকল্পনায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ভবিষ্যতে রাজস্ব নীতিতে পরিবর্তন এলেও সাধারণ সাইকেলের ক্ষেত্রে কর আরোপের আগে সরকারের সামাজিক ও পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনা করতে হবে। কারণ এটি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে বাইসাইকেলের ওপর নতুন কর আরোপের কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রস্তাব প্রকাশ হয়নি। তবে যানবাহন খাতে নতুন নীতিমালা নিয়ে আলোচনা বাড়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
সূত্র: পরিবহন ও অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতামত এবং সংশ্লিষ্ট খাতের আলোচনা।
আরও পড়ুন-ছোট সিসির বাইকে কর ছাড়, বড় ইঞ্জিনের মোটরসাইকেলে আসছে নতুন ট্যাক্স










