দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে শিক্ষার্থীদের হাতেও পর্যায়ক্রমে ট্যাব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন এ এফ এম খায়রুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, বর্তমানে শিক্ষকদের ট্যাব দেওয়া হচ্ছে, ভবিষ্যতে ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীদের কাছেও এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে।
শুক্রবার (৮ মে) বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা জানান। অনুষ্ঠানে তিনি দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও ডিজিটাল করার পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
আরও পড়ুন-এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন ২০২৬ প্রকাশ, ২ জুলাই শুরু পরীক্ষা
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২৮ সালের মধ্যে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞদের একটি কমিটি বই পরিবর্তন ও পরিমার্জনের কাজ করছে। নতুন প্রজন্মকে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আনন্দময় ও কার্যকর শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে শুধু পাঠ্যবই নয়, শিক্ষার সামগ্রিক পরিবেশ উন্নত করতে হবে। বইয়ের কাগজের মান ও ছাপার গুণগত মান বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষকদের নোট-গাইড নির্ভর প্রশ্ন প্রণয়নের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান বাড়াতে নতুন শিক্ষাক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানো হবে।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের হাতে ট্যাব পৌঁছে দেওয়া হলে ডিজিটাল শিক্ষার প্রসার আরও বাড়বে। বিশেষ করে অনলাইন ক্লাস, ই-বুক, ভিডিও কনটেন্ট ও স্মার্ট লার্নিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে শিক্ষার্থীরা বেশি সুবিধা পাবে।
তারা মনে করছেন, ভবিষ্যতের বিশ্ব প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার বিকল্প নেই। তাই শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারে দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ সময়োপযোগী পদক্ষেপ হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ট্যাব বিতরণ করলেই হবে না, এর সঙ্গে নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সুবিধা, মানসম্মত ডিজিটাল কনটেন্ট এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম-ও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, বই প্রকাশনার সঙ্গে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমির পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কেও আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করতে হবে। আগামী বছর থেকে বইমেলা আয়োজনেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
সব মিলিয়ে, শিক্ষার্থীদের হাতে ট্যাব দেওয়ার এই ঘোষণা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক করার বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। পর্যায়ক্রমে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন গতি আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভার বক্তব্য।
আরও পড়ুন-এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন কোচিং বন্ধে কী বললেন শিক্ষামন্ত্রী
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










