আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

এআই কি চিকিৎসকদের ছাড়িয়ে গেল,হার্ভার্ড গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

এআই কি চিকিৎসকদের ছাড়িয়ে গেল হার্ভার্ড গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

জীবন-মৃত্যুর সংকটময় মুহূর্তে হাসপাতালে আনা রোগীর দ্রুত ও সঠিক রোগ নির্ণয়ই চিকিৎসার প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এতদিন এই দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে চিকিৎসকদের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা Artificial Intelligence এই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অনেক সময় চিকিৎসকদের থেকেও ভালো ফলাফল দিচ্ছে, যা চিকিৎসা বিশ্বে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ-রোগের আগেই সংকেত এআই বলবে ৫ বছর আগে আপনার হার্ট কতটা ঝুঁকিতে

যুক্তরাষ্ট্রের Harvard Medical School–এর গবেষকদের পরিচালিত এক যুগান্তকারী গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক সাময়িকী Science–এ। স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা এই ফলাফলকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্লিনিক্যাল যুক্তিবোধের ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।

গবেষণাটি পরিচালিত হয় বোস্টনের একটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসা ৭৬ জন রোগীর ওপর। সেখানে একই ধরনের তথ্য—যেমন রোগীর রক্তচাপ, পালস, প্রাথমিক বিবরণ এবং নার্সের লেখা সংক্ষিপ্ত নোট—এআই এবং চিকিৎসকদের দেওয়া হয়। ফলাফলে দেখা যায়, এআই প্রায় ৬৭ শতাংশ ক্ষেত্রে সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে চিকিৎসকদের সঠিক রোগ নির্ণয়ের হার ছিল ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশের মধ্যে।

বিশেষ করে সীমিত তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এআই-এর পারফরম্যান্স ছিল আরও শক্তিশালী। গবেষণায় ব্যবহৃত OpenAI o1 reasoning model–কে যখন আরও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়, তখন এর নির্ভুলতা বেড়ে ৮২ শতাংশে পৌঁছায়। একই ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের সাফল্যের হার ছিল ৭০ থেকে ৭৯ শতাংশ।

শুধু রোগ নির্ণয় নয়, চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরির ক্ষেত্রেও এআই উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে ছিল। অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের নিয়ম কিংবা গুরুতর অবস্থায় রোগীর শেষ সময়ের চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণে এআই প্রায় ৮৯ শতাংশ স্কোর করেছে। সেখানে চিকিৎসকদের স্কোর ছিল মাত্র ৩৪ শতাংশ, যা এই প্রযুক্তির সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে।

গবেষণায় একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনাও সামনে এসেছে। এক রোগীর ফুসফুসে রক্ত জমাট বেঁধে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। চিকিৎসকেরা ধারণা করেছিলেন রক্ত পাতলা করার ওষুধ কাজ করছে না। কিন্তু এআই রোগীর পূর্বের লুপাস রোগের ইতিহাস বিবেচনায় এনে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়—যা পরবর্তীতে সঠিক প্রমাণিত হয়। এই উদাহরণটি দেখায়, ডেটা বিশ্লেষণে এআই কখনো কখনো এমন তথ্যও ধরতে পারে, যা মানুষের চোখ এড়িয়ে যায়।

তবে গবেষকরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই ফলাফল দেখে এখনই চিকিৎসকদের বিকল্প হিসেবে এআই-কে ভাবার সুযোগ নেই। কারণ এই গবেষণায় শুধুমাত্র লিখিত তথ্যের ভিত্তিতে পরীক্ষা করা হয়েছে। বাস্তবে একজন চিকিৎসক রোগীর শারীরিক ভাষা, মুখভঙ্গি, ব্যথার প্রকাশ কিংবা অন্যান্য শারীরিক লক্ষণ দেখে যে সিদ্ধান্ত নেন, তা এখনো এআই পুরোপুরি করতে পারে না।

গবেষণার প্রধান লেখক অর্জুন মানরাই বলেন, এই গবেষণা দেখায় আমরা প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের দিকে এগোচ্ছি। তবে এটি চিকিৎসকদের প্রতিস্থাপন করবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। বরং ভবিষ্যতে এআই চিকিৎসকদের সহকারী হিসেবে কাজ করবে।

একই মত প্রকাশ করেছেন বোস্টনের Beth Israel Deaconess Medical Center–এর চিকিৎসক ড. অ্যাডাম রডম্যান। তাঁর মতে, আগামী দশকে চিকিৎসা ব্যবস্থায় একটি নতুন কাঠামো তৈরি হবে, যেখানে চিকিৎসক ও এআই একসঙ্গে কাজ করবে।

বর্তমানে বাস্তব ক্ষেত্রেও এআই-এর ব্যবহার বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০ শতাংশ চিকিৎসক ইতোমধ্যে রোগ নির্ণয়ে এআই ব্যবহার করছেন। যুক্তরাজ্যেও অনেক চিকিৎসক নিয়মিত এই প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছেন। তবে এর সঙ্গে নতুন উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—এআই যদি ভুল করে, তাহলে দায় কার? এখনো এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট নীতিমালা বা জবাবদিহিতার কাঠামো তৈরি হয়নি। ফলে অনেক চিকিৎসক এই প্রযুক্তি ব্যবহারে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন।

এছাড়া বিশেষজ্ঞরা আরও একটি ঝুঁকির কথা তুলে ধরেছেন। University of Sheffield–এর গবেষক ড. ওয়েই জিং বলেছেন, চিকিৎসকেরা যদি অতিরিক্তভাবে এআই-এর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, তাহলে তাদের নিজস্ব বিশ্লেষণ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। যা দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

অন্যদিকে University of Edinburgh–এর অধ্যাপক ইউয়েন হ্যারিসন মনে করেন, এআই এখন চিকিৎসকদের জন্য একটি কার্যকর “সেকেন্ড ওপিনিয়ন” টুল হিসেবে কাজ করছে। এটি চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে, তবে একক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হিসেবে নয়।

সব মিলিয়ে বলা যায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিকিৎসা ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। দ্রুত ও নির্ভুল রোগ নির্ণয়ে এটি একটি শক্তিশালী সহায়ক হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। তবে মানুষের অভিজ্ঞতা, মানবিকতা এবং বাস্তব পর্যবেক্ষণ এখনো চিকিৎসা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি।

ভবিষ্যতে এআই ও চিকিৎসকের সমন্বিত ব্যবস্থাই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান—যেখানে প্রযুক্তি ও মানবিকতা একসঙ্গে কাজ করে রোগীর সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করবে।

সূত্র-Harvard Medical School গবেষণা প্রতিবেদন।

আরও পড়ুন- পুরোনো স্মার্টফোনে ফ্রি সিসিটিভি ঘরের নিরাপত্তা এখন আরও সহজ

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

স্টাফ রিপোর্টার

স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে আমি 'টেক বাংলা নিউজ' (ssitbari.com)-এ নিয়মিত বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক ও আপডেটেড কনটেন্ট প্রকাশ করি। প্রযুক্তি, মোবাইল, গ্যাজেটসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয় সহজ ও বোধগম্য ভাষায় পাঠকদের কাছে তুলে ধরা আমার লক্ষ্য। নির্ভরযোগ্য তথ্য, বিশ্লেষণ ও উপকারী টিপসের মাধ্যমে পাঠকদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করি।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now