বাংলাদেশে জমি সংক্রান্ত সেবা এখন ধীরে ধীরে পুরোপুরি ডিজিটাল রূপ নিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে চালু হওয়া ‘স্বয়ংক্রিয় ভূমি ব্যবস্থাপনা সিস্টেম (ALAMS)’ এর মাধ্যমে এখন ঘরে বসেই অনলাইনে জমির খতিয়ান বা পর্চা সংগ্রহ করা যাচ্ছে। ফলে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো, দালালের ঝামেলা কিংবা অফিসে বারবার যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমে এসেছে।
আরও পড়ুন-দেশজুড়ে এক হাজার ভূমি সেবা কেন্দ্র এখন ঘরে বসেই মিলছে সব ভূমি সেবা
জমির মালিকানা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে খতিয়ান বা পর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দলিল। এটি মূলত মৌজা ভিত্তিক রেকর্ড, যেখানে জমির মালিকের নাম, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ, শ্রেণি এবং খাজনার হারসহ বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষিত থাকে। ভূমি জরিপের সময় তৈরি এই খতিয়ান আদালতসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে মালিকানা প্রমাণের অন্যতম প্রধান দলিল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
বর্তমানে অনলাইনে খতিয়ান সংগ্রহ করতে হলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট dlrms.land.gov.bd-এ প্রবেশ করতে হয়। এছাড়া স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা সংশ্লিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমেও এই সেবা নিতে পারেন। ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পর ব্যবহারকারীকে খতিয়ানের ধরন (CS, SA, RS, BS ইত্যাদি), বিভাগ, জেলা, উপজেলা এবং মৌজা নির্বাচন করতে হয়। এরপর খতিয়ান নম্বর, মালিকের নাম অথবা দাগ নম্বর দিয়ে সার্চ করলে সংশ্লিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়।
আবেদন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ব্যবহারকারীকে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্ম তারিখ এবং একটি সক্রিয় মোবাইল নম্বর দিয়ে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে হয়। যাচাই শেষে নির্ধারিত ফি প্রদান করলে আবেদন সম্পন্ন হয়। অনলাইন কপি পেতে সাধারণত ১০০ টাকা ফি দিতে হয় এবং পেমেন্ট সম্পন্ন হলে তাৎক্ষণিকভাবে পিডিএফ ফরম্যাটে খতিয়ান ডাউনলোড করা যায়।
অন্যদিকে, কেউ যদি সার্টিফাইড বা সত্যায়িত কপি নিতে চান, তাহলে একই ফি (১০০ টাকা) প্রদান করে আবেদন করতে হবে এবং ডাকযোগে পেতে অতিরিক্ত ৪০ টাকা ডাক ফি দিতে হবে। সাধারণত ৭ কর্মদিবসের মধ্যে এই কপি সরবরাহ করা হয়, যা সরাসরি অফিস থেকেও সংগ্রহ করা সম্ভব।
তবে কোনো কারণে অনলাইন প্রক্রিয়ায় সমস্যা হলে বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উপজেলার সেটেলমেন্ট অফিস বা জেলা প্রশাসকের রেকর্ড রুম থেকে সরাসরি খতিয়ান সংগ্রহ করা যাবে। এতে করে সেবা গ্রহণে কোনো বাধা থাকে না।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শুধু খতিয়ান সংগ্রহই নয়, বরং জমির তথ্য যাচাই, রেকর্ড সংশোধনের আবেদন এবং মৌজা ম্যাপ দেখার সুবিধাও পাওয়া যাচ্ছে। এতে করে জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা অনেকটাই সহজভাবে সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে।
বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতে খতিয়ান কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। যেমন—CS (ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে), SA, RS (রিভিশনাল সার্ভে), BS, BRS এবং সর্বশেষ BDS (বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে)। প্রতিটি জরিপের খতিয়ানের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে এবং প্রয়োজনে একাধিক খতিয়ান যাচাই করা প্রয়োজন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অনলাইন ব্যবস্থা চালুর ফলে জমি সংক্রান্ত সেবায় স্বচ্ছতা বেড়েছে এবং সাধারণ মানুষের সময় ও খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে দালাল নির্ভরতা কমে গিয়ে নাগরিকরা এখন সরাসরি সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারছেন।
সবশেষে বলা যায়, ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনার এই উদ্যোগ দেশের ভূমি সেবাকে আধুনিক ও সহজ করেছে। ঘরে বসেই কয়েক মিনিটে জমির গুরুত্বপূর্ণ দলিল সংগ্রহ করার সুযোগ তৈরি হওয়ায় এটি সাধারণ মানুষের জন্য একটি বড় স্বস্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন-অনলাইনে জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম ২০২৬
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









