দেশে ইন্টারনেট ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও এখনও তা দেশের সব মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছায়নি। সর্বশেষ সরকারি জরিপে উঠে এসেছে দেশের ডিজিটাল ব্যবহারের চিত্রে বড় ধরনের বৈষম্য, বিশেষ করে শহর ও গ্রামের মধ্যে ব্যবধান এখনও চোখে পড়ার মতো। মোট জনসংখ্যার ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুনঃ পুরোনো স্মার্টফোনে ফ্রি সিসিটিভি ঘরের নিরাপত্তা এখন আরও সহজ
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত ‘আইসিটি প্রয়োগ ও ব্যবহারিক’ জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিবিএস অডিটরিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে এই জরিপ প্রকাশ করা হয়। জরিপটি দেশের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে, যেখানে উন্নতির পাশাপাশি চ্যালেঞ্জও স্পষ্টভাবে দেখা গেছে।
জরিপ অনুযায়ী, দেশে পুরুষদের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশ, অন্যদিকে নারীদের মধ্যে এই হার ৫০ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ নারী ও পুরুষের মধ্যে ব্যবহারের ব্যবধান তুলনামূলকভাবে কম হলেও এখনো সমতা অর্জিত হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নারীদের প্রযুক্তি ব্যবহারে অংশগ্রহণ বাড়াতে হলে ডিজিটাল শিক্ষা ও সহজলভ্য সেবার প্রসার আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
জরিপে সবচেয়ে বড় বৈষম্য ধরা পড়েছে শহর ও গ্রামের ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে। শহরাঞ্চলে ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, যেখানে গ্রামে এই হার মাত্র ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
এই ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ১ শতাংশ, যা দেশের ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির পথে বড় একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় অবকাঠামো ও নেটওয়ার্ক সমস্যাকে এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জরিপে দেখা গেছে, দেশে ৮৮ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। তবে নিজস্ব মোবাইল ফোন রয়েছে মাত্র ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষের।
এটি ইঙ্গিত দেয় যে অনেকেই এখনো পারিবারিক বা শেয়ারড ডিভাইস ব্যবহার করছেন। অন্যদিকে, কম্পিউটার ব্যবহারের হার খুবই কম, মাত্র ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। এটি দেশের ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় সীমাবদ্ধতা হিসেবে ধরা হচ্ছে। পরিবারভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকায় ইন্টারনেট ব্যবহার ও প্রযুক্তি সুবিধা সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে পঞ্চগড়ে এই হার সবচেয়ে কম।
কম্পিউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ঢাকার পরিবারগুলো এগিয়ে থাকলেও ঠাকুরগাঁও সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। এই বৈষম্য দেশের সার্বিক ডিজিটাল উন্নয়নকে অসম করে তুলছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের বড় একটি অংশ সরকারি চাকরি সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধানে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। জরিপে দেখা গেছে, ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবহারকারী গত তিন মাসে এ ধরনের তথ্য খুঁজেছেন। এর পাশাপাশি ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশ ব্যবহারকারী খেলাধুলা সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধান করেছেন। তবে অনলাইনে কেনাকাটার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে কম, মাত্র ১১ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ এই সেবা গ্রহণ করেন।
ডিজিটাল দক্ষতার ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা মূলত মৌলিক কাজেই সীমাবদ্ধ। যেমন কপি-পেস্ট করার দক্ষতা ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবহারকারীর মধ্যে রয়েছে, যা সবচেয়ে সাধারণ দক্ষতা হিসেবে উঠে এসেছে। উন্নত প্রযুক্তিগত দক্ষতা যেমন ডেটা বিশ্লেষণ, সফটওয়্যার ব্যবহার বা প্রোগ্রামিং দক্ষতার ঘাটতি এখনও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কিছু ইতিবাচক চিত্রও উঠে এসেছে। ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, সাইবার আক্রমণের ক্ষেত্রে তারা দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সক্ষম। তবে ঝুঁকিও কম নয়। জরিপে দেখা গেছে, ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারীর জন্য ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার বড় হুমকি হিসেবে রয়ে গেছে।
ইন্টারনেট ব্যবহারে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উচ্চ খরচকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, ইন্টারনেটের উচ্চ মূল্য তাদের নিয়মিত ব্যবহারে বাধা সৃষ্টি করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইন্টারনেটকে সবার জন্য সহজলভ্য করতে হলে সাশ্রয়ী প্যাকেজ ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ জরুরি।
আরও পড়ুন- গুগল ফটোজে থাকা ছবি বিশ্লেষণ করবে জেমিনি সুবিধার সঙ্গে বাড়ছে গোপনীয়তার ঝুঁকি
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔







