দেশে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও আধুনিক করতে চালু হওয়া ‘ফুয়েল পাস বিডি’ অ্যাপের কার্যক্রম ধীরে ধীরে বিস্তৃত করা হচ্ছে। পরীক্ষামূলক (পাইলট) পর্যায়ে থাকা এই ডিজিটাল উদ্যোগে এবার ঢাকা জেলার বাইরে আরও কয়েকটি জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন-দেশে চালু হলো ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের নতুন নিয়ম(আপডেট)
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, মোটরসাইকেল নিবন্ধনের সুবিধা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে দেশের মোট ১২টি জেলা এখন ‘ফুয়েল পাস বিডি’ অ্যাপের আওতায় আনা হয়েছে।
নতুন এই তালিকায় রয়েছে—ঢাকা, ঢাকা মেট্রো, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম মেট্রো, বরিশাল, বরিশাল মেট্রো, খুলনা, খুলনা মেট্রো, রাজশাহী, রাজশাহী মেট্রো এবং ময়মনসিংহ। এসব জেলায় নিবন্ধিত মোটরসাইকেলগুলো এখন থেকে অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করে জ্বালানি গ্রহণ করতে পারবে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে মোটরসাইকেল মালিকদের জন্য জ্বালানি গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি বিক্রিতে অনিয়ম বা অপচয় কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে, পাইলট কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঢাকা জেলায় আজ থেকে আরও ১৮টি পেট্রোল পাম্পকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে রাজধানীতে অ্যাপভিত্তিক জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য জেলাতেও এই কার্যক্রম চালু করা হবে।
এর আগে গত ৯ এপ্রিল জ্বালানি বিভাগ জানায়, জ্বালানি খাতে ডিজিটাল রূপান্তর আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ চালু করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে।
অ্যাপটির মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা একটি নির্দিষ্ট কিউআর কোডের মাধ্যমে পেট্রোল পাম্প থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবেন। এতে করে প্রতিটি লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা ভবিষ্যতে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা ও পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ডিজিটাল উদ্যোগ জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কালোবাজারি ও অবৈধ জ্বালানি বাণিজ্য রোধে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি, পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন বা বিশৃঙ্খলা কমাতেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
তবে এই নতুন ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়নের জন্য ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে গ্রামীণ পর্যায়ে অ্যাপ ব্যবহারে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাইলট প্রকল্প সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের সব ধরনের যানবাহনের জন্য ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ উন্মুক্ত করা হবে। তখন ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস, ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহনও এই ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আসবে।
সব মিলিয়ে, ‘ফুয়েল পাস বিডি’ অ্যাপের এই সম্প্রসারণ দেশের জ্বালানি খাতে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে একটি স্মার্ট ও নিয়ন্ত্রিত জ্বালানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন-ফুয়েল পাস চালু ৭ পাম্পে, অনলাইনে আবেদন করার নিয়ম জানুন
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










