দেশজুড়ে দ্রুত বাড়ছে ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার। বিশেষ করে স্মার্টফোন এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। আর এই ব্যবহারের দিক থেকে দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে কুমিল্লা। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, জেলায় প্রায় ৯৩ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ স্মার্টফোন ব্যবহার করেন যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ।
আরও পড়ুনঃ চার্জের ঝামেলা শেষ ৮০০০mAh ব্যাটারিতে ৩ দিন চলবে Tecno Pova Curve 2 5G
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ এবং ব্যক্তি ও খানা পর্যায়ে ব্যবহার ২০২৪-২৫ শীর্ষক জরিপে উঠে এসেছে এই চিত্র। এই জরিপের বিশেষ দিক হলো, প্রথমবারের মতো জেলাভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, যা দেশের ডিজিটাল অগ্রগতির একটি স্পষ্ট ধারণা দেয়।
জরিপ অনুযায়ী, স্মার্টফোন ব্যবহারে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ফেনী। এই জেলায় প্রায় ৯০ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ স্মার্টফোন ব্যবহার করেন। তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে রাজধানী ঢাকা, যেখানে ব্যবহারকারীর হার ৮৪ দশমিক ৭ শতাংশ। তবে তালিকার একেবারে নিচে রয়েছে পঞ্চগড় জেলা, যেখানে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর হার মাত্র ৫০ দশমিক ১ শতাংশ যা ডিজিটাল ব্যবহারে বড় বৈষম্যের ইঙ্গিত দেয়।
স্মার্টফোন ব্যবহারে পিছিয়ে থাকলেও ইন্টারনেট ব্যবহারে ঢাকা বিভাগ এগিয়ে রয়েছে। এ অঞ্চলে ব্যক্তিপর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার ৬৬ শতাংশ। এর পরেই রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ, যেখানে এই হার ৬৫ শতাংশ। এতে বোঝা যায়, বড় শহর ও উন্নত অবকাঠামোযুক্ত এলাকাগুলোতে ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রবণতা বেশি।
বিবিএসের তথ্য বলছে, দেশের মোট ৬১ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষের নিজস্ব মোবাইল ফোন রয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ব্যবহারকারী ৭২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং নারী ৫১ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দৈনন্দিন ইন্টারনেট ও মোবাইল ব্যবহারে নারীরা অনেক ক্ষেত্রে পুরুষদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন, যা সামাজিক পরিবর্তনের ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়।
অন্যদিকে ব্যক্তিপর্যায়ে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর হার প্রায় ৩১ শতাংশ। প্রতিদিন অন্তত একবার ইন্টারনেট ব্যবহার করেন ৬৮ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ। অর্থাৎ ইন্টারনেট এখন শুধু যোগাযোগ নয়, তথ্য ও সেবার প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠছে।
কম্পিউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রে এখনো দেশের চিত্র আশাব্যঞ্জক নয়। মাত্র ৭ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ কম্পিউটার ব্যবহার করেন এবং ব্যক্তিগত কম্পিউটার রয়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষের কাছে। অন্যদিকে স্মার্টফোনের মালিকানা রয়েছে ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষের। এতে বোঝা যায়, কম্পিউটারের তুলনায় স্মার্টফোনই এখন প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রধান মাধ্যম।
পরিবারভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশের প্রায় ৯৭ দশমিক ৪ শতাংশ পরিবারে মোবাইল ফোন ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে ৫২ দশমিক ২ শতাংশ পরিবারে রয়েছে স্মার্টফোন। ল্যান্ডফোন এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে মাত্র ০ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবারে এর ব্যবহার রয়েছে। পাশাপাশি ৮ দশমিক ৭ শতাংশ পরিবারে কম্পিউটার এবং ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ পরিবারে ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয়।
ইন্টারনেট ব্যবহারের উদ্দেশ্য বিশ্লেষণে কিছু আকর্ষণীয় তথ্য উঠে এসেছে। অধিকাংশ মানুষ প্রায় ৬৪ শতাংশ সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখার জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। এছাড়া খেলাধুলা সংক্রান্ত তথ্য জানতে ৫০ শতাংশ ব্যবহারকারী ইন্টারনেটে যুক্ত হন। অনলাইনে পণ্য বা সেবা কেনাকাটা করেন তুলনামূলক কম, প্রায় ১১ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ।
ডিজিটাল দক্ষতার ক্ষেত্রেও কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে। প্রায় ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, সাইবার আক্রমণের মুখে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সক্ষম। তবে ঝুঁকিও কম নয়। প্রায় অর্ধেক ব্যবহারকারী মনে করেন, ভাইরাস ও ম্যালওয়্যারই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।
এছাড়া ইন্টারনেট ব্যবহারে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উঠে এসেছে উচ্চমূল্য। প্রায় ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, ব্যয় বেশি হওয়ায় তারা ইন্টারনেট সেবা নিতে অনাগ্রহী। যা ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির পথে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, দেশে প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও এখনো রয়েছে বৈষম্য ও সীমাবদ্ধতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাশ্রয়ী ইন্টারনেট, ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধি এবং গ্রামাঞ্চলে প্রযুক্তির বিস্তার নিশ্চিত করা গেলে দেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রা আরও শক্তিশালী হবে।
আরও পড়ুন- স্মার্টফোনে আসক্তি তরুণদের চোখে বাড়ছে ৩ মারাত্মক সমস্যা
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









