কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির এই সময়ে নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের প্রশ্নটি ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। ঠিক এমন এক প্রেক্ষাপটে “এআই সেফটি ফেলোশিপ প্রোগ্রাম” চালুর ঘোষণা দিয়েছে OpenAI!
নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে বৈশ্বিক পর্যায়ে গবেষক, প্রযুক্তিবিদ ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের একত্রিত করে এআই নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়েছে সংস্থাটি।
আরও পড়ুনঃ- দেশের মার্কেটে পিক্সেলের ডিজাইন অনুকরণ করে টেকনোর আরেকটি ফোন এসেছে
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এআই প্রযুক্তির বিস্তার ঘটছে নজিরবিহীন গতিতে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ব্যবসা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবন সবখানেই এর ব্যবহার বাড়ছে। তবে এর সঙ্গে সমানতালে বাড়ছে অপব্যবহার, ডেটা নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং নৈতিকতার প্রশ্নও।
প্রযুক্তির এই জটিল বাস্তবতায় নিরাপদ ও মানবকেন্দ্রিক এআই উন্নয়ন নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগ জোরদার করতেই ফেলোশিপ কর্মসূচিটি চালু করা হয়েছে।
ওপেনএআই জানিয়েছে, এই ফেলোশিপে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে আগ্রহীরা আবেদন করতে পারবেন। শুধু এআই গবেষকই নয়, বরং সাইবার নিরাপত্তা, প্রকৌশল, সমাজবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন শাখার শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের জন্যও এতে অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে।
অর্থাৎ, বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিকে গুরুত্ব দিয়ে বৈচিত্র্যময় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
প্রার্থীদের নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাশক্তি, জটিল সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং গবেষণায় আগ্রহকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা হবে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ফেলোরা অভিজ্ঞ মেন্টরদের তত্ত্বাবধানে কাজ করার সুযোগ পাবেন।
এর ফলে অংশগ্রহণকারীরা শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জনই নয়, বরং বাস্তব গবেষণার অভিজ্ঞতাও লাভ করতে পারবেন।
এই কর্মসূচির একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর নমনীয়তা। এটি সরাসরি ও রিমোট উভয় পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলেতে একটি নির্দিষ্ট কর্মপরিসর থাকলেও অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের অবস্থান থেকেই কাজ করতে পারবেন। ফলে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই বিশ্বব্যাপী প্রতিভাবান ব্যক্তিরা এতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
ফেলোশিপ চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা এআই নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় যুক্ত থাকবেন। এর মধ্যে ডেটাসেট তৈরি, নতুন প্রযুক্তিগত টুল উন্নয়ন এবং গবেষণাপত্র প্রস্তুতের মতো কাজ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর সমাধান উদ্ভাবনই হবে কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
অংশগ্রহণকারীদের জন্য আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার ব্যবস্থাও রেখেছে ওপেনএআই। নির্বাচিত ফেলোরা গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং সুবিধা, ভাতা এবং এপিআই ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। এসব সুবিধা গবেষণাকাজকে আরও সহজ ও কার্যকর করে তুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই ফেলোশিপে অংশ নিতে নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষাগত বা পেশাগত বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। বরং ভিন্ন ভিন্ন পটভূমির আগ্রহীদের আবেদন করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে শক্তিশালী গবেষণা দক্ষতা, নতুন ধারণা তৈরি ও বাস্তবায়নের সক্ষমতা থাকা জরুরি।
আবেদনের জন্য প্রার্থীদের নির্ধারিত ফরম পূরণ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় রেফারেন্স জমা দিতে হবে। এরপর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচন করা হবে। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিতদের তালিকা প্রকাশ করা হবে আগামী ২৫ জুলাই ২০২৬।
সময়সূচি অনুযায়ী, ফেলোশিপ কর্মসূচি শুরু হবে ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এবং চলবে ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত। বর্তমানে আবেদন গ্রহণ চলছে, যা শেষ হবে আগামী ৩ মে ২০২৬।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ এআই খাতে দায়িত্বশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে তরুণ গবেষকদের জন্য এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করার একটি বড় সুযোগ তৈরি করবে।
আরও পড়ুনঃ- এআই চিপ যুদ্ধ শুরু ইলন মাস্কের টেরাফ্যাবে যুক্ত হয়ে চমক দিল ইন্টেল
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔








