আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

VGF কার্ড কী, কারা পাবে, কত কেজি চাল দেওয়া হয়?

VGF কার্ড

বাংলাদেশে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি পরিচালনা করছে। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ হলো ভিজিএফ বা Vulnerable Group Feeding কর্মসূচি। এই কর্মসূচির আওতায় দেশের নিম্ন আয়ের ও খাদ্যসংকটে থাকা পরিবারগুলোকে নির্দিষ্ট সময়ে বিনামূল্যে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়, যা বিশেষ করে উৎসব বা দুর্যোগকালীন সময়ে তাদের জন্য বড় সহায়তা হয়ে দাঁড়ায়।

আরও পড়ুন-সরকারি ই-হেলথ কার্ড চালু হচ্ছে কবে? জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ভিজিএফ মূলত এমন একটি কর্মসূচি, যার মাধ্যমে সরকার সরাসরি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়। সাধারণত ঈদ, দুর্গাপূজা, রমজান বা বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এই সহায়তা বাড়ানো হয়। এতে করে হঠাৎ করে খাদ্য সংকটে পড়া পরিবারগুলো অন্তত কিছু সময়ের জন্য হলেও স্বস্তি পায়।

এই কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য হলো দেশের অতি দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অনেক পরিবার আছে যারা নিয়মিত আয় করতে পারে না বা দিনমজুরির ওপর নির্ভরশীল। তাদের জন্য এই সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বিধবা নারী, স্বামী পরিত্যক্তা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বৃদ্ধ মানুষ এবং দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে এই কর্মসূচির আওতায় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা সাধারণত বিনামূল্যে চাল পেয়ে থাকেন। সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী এই চালের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে, তবে সাধারণত একটি পরিবারকে ১০ কেজি থেকে ৩০ কেজি পর্যন্ত চাল দেওয়া হয়। অনেক সময় বিশেষ পরিস্থিতিতে এর পরিমাণ বাড়ানোও হয়।

এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্থানীয় প্রশাসন—যেমন ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন—সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করে এবং খাদ্য সহায়তা বিতরণ করে।

ভিজিএফ কার্ড পাওয়ার জন্য সাধারণত আলাদা করে অনলাইনে আবেদন করার প্রয়োজন হয় না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এলাকার দরিদ্র ও যোগ্য ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করেন। এরপর সেই তালিকা যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ভিজিএফ সুবিধা পেয়ে থাকেন।

তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রকৃত সুবিধাভোগীরা এই তালিকা থেকে বাদ পড়ে যান বা অনিয়মের কারণে অযোগ্য ব্যক্তিরা সুবিধা পেয়ে যান। এই সমস্যা সমাধানে সরকার এখন ভিজিএফ ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করার উদ্যোগ নিয়েছে।

নতুন ডিজিটাল ভিজিএফ কার্ডে কিউআর কোড যুক্ত করা হচ্ছে, যা জাতীয় ডাটাবেজের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। এর ফলে সুবিধাভোগীর পরিচয় সহজেই যাচাই করা যাবে এবং একই ব্যক্তি একাধিকবার সুবিধা নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং অনিয়ম অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডিজিটাল ভিজিএফ কার্ড চালু হলে সুবিধাভোগীরা দ্রুত ও সহজভাবে খাদ্য সহায়তা পেতে পারবেন। পাশাপাশি সরকারও সঠিকভাবে তথ্য সংরক্ষণ ও মনিটরিং করতে পারবে, যা ভবিষ্যতে এই কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করে তুলবে।

যারা ভিজিএফ কার্ড পাওয়ার যোগ্য, তারা চাইলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করলে যাচাই-বাছাই শেষে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে এই ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু খাদ্য সহায়তা নয়, বরং দারিদ্র্য হ্রাস এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও বড় ভূমিকা রাখে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ভিজিএফ কার্ড বাংলাদেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা ব্যবস্থা। ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে এই কর্মসূচি আরও আধুনিক ও স্বচ্ছ করা হলে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা আরও সহজে সরকারি সহায়তা পাবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এটি আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন-ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু, মাসে ২৫০০ টাকা সহায়তা,যেসব এলাকায় কার্ড বিতরণ শুরু

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

স্টাফ রিপোর্টার

স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে আমি 'টেক বাংলা নিউজ' (ssitbari.com)-এ নিয়মিত বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক ও আপডেটেড কনটেন্ট প্রকাশ করি। প্রযুক্তি, মোবাইল, গ্যাজেটসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয় সহজ ও বোধগম্য ভাষায় পাঠকদের কাছে তুলে ধরা আমার লক্ষ্য। নির্ভরযোগ্য তথ্য, বিশ্লেষণ ও উপকারী টিপসের মাধ্যমে পাঠকদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করি।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now