আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

ই-বেইলবন্ড’ চালু হচ্ছে আরও ৭ জেলায়, দ্রুত জামিন ও হয়রানি কমাতে নতুন উদ্যোগ

March 7, 2026 5:36 PM
‘ই-বেইলবন্ড’ চালু হচ্ছে আরও ৭ জেলায়

দেশের বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে এবং জামিননামা জালিয়াতি বন্ধ করতে চালু হওয়া ডিজিটাল ব্যবস্থা ‘ই-বেইলবন্ড’ ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। পাইলট প্রকল্প হিসেবে কয়েকটি জেলায় চালুর পর এবার আরও সাতটি জেলায় এই সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়

মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, নতুন করে যেসব জেলায় এই ডিজিটাল জামিননামা পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো—বগুড়া, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, রাজশাহী, নাটোর ও কুষ্টিয়া।

আরও পড়ুন-৮ জেলায় চালু হলো ডিজিটাল জামিননামা সেবা: এক ঘণ্টায় মুক্তি মিলবে আসামিদের

বিচার ব্যবস্থায় ডিজিটাল পরিবর্তনের উদ্যোগ

আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেম উল কায়েস জানান, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় ইতোমধ্যে এই কার্যক্রম সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত ৩ মার্চ সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ এবং চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পরদিন ৪ মার্চ সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি কৌঁসুলি (জিপি), পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এবং আইনজীবী সমিতির নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করা হয়।

সভাগুলোতে সভাপতিত্ব করেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা

এপ্রিলের শুরুতে চালু হতে পারে নতুন জেলাগুলোতে

অতিরিক্ত সচিব খাদেম উল কায়েস জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই নতুন সাতটি জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ই-বেইলবন্ড’ ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পর্যায়ক্রমে এই ডিজিটাল পদ্ধতি সারা দেশে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি জানান।

৯ জেলায় ইতোমধ্যে সফল বাস্তবায়ন

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১৫ অক্টোবর পরীক্ষামূলকভাবে প্রথমবার এই ব্যবস্থা চালু করা হয় নারায়ণগঞ্জে। সেখানে সফলতার পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি আরও আটটি জেলায় এটি সম্প্রসারিত হয়।

বর্তমানে যেসব জেলায় ‘ই-বেইলবন্ড’ চালু রয়েছে সেগুলো হলো—

  • নারায়ণগঞ্জ

  • মানিকগঞ্জ

  • বান্দরবান

  • মৌলভীবাজার

  • শেরপুর

  • জয়পুরহাট

  • পঞ্চগড়

  • মেহেরপুর

  • ঝালকাঠি

এই ৯ জেলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১৯ হাজার ১৮৫ জন বিচারপ্রার্থী সরাসরি এই সেবার সুফল পেয়েছেন।

কীভাবে কাজ করে ই-বেইলবন্ড

আগে আদালত থেকে জামিন মঞ্জুর হওয়ার পর জামিননামার কাগজ জেলখানায় পৌঁছাতে অনেক সময় লাগত। আইনজীবী, আদালতের কর্মচারী ও বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে কাগজপত্র পাঠাতে কয়েক দিন পর্যন্ত বিলম্ব হতো।

ফলে অনেক সময় জামিন পাওয়ার পরও আসামিকে অতিরিক্ত সময় কারাগারে থাকতে হতো এবং এই প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠত।

আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. আজিজুল হক জানান, ‘ই-বেইলবন্ড’ ব্যবস্থায় বিচারকের স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই জামিননামা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট কারাগারে পৌঁছে যায়। এতে আসামির দ্রুত মুক্তি নিশ্চিত হয় এবং জালিয়াতির সুযোগও থাকে না।

১৩ ধাপ থেকে নেমে এসেছে মাত্র ৩ ধাপে

আগে একটি জামিননামা সম্পন্ন করতে আদালত থেকে জেলখানায় পৌঁছানো পর্যন্ত প্রায় ১৩টি ধাপ অতিক্রম করতে হতো। কিন্তু ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর পর এখন মাত্র ৩টি ধাপে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে

নতুন পদ্ধতিতে—

  1. আইনজীবী অনলাইনে জামিননামা দাখিল করবেন।

  2. বিচারক তা যাচাই করে অনলাইনে জেলখানায় পাঠাবেন।

  3. জেল কর্তৃপক্ষ যাচাই করে আসামির স্বাক্ষর নিয়ে মুক্তির ব্যবস্থা করবে।

আইনি কাঠামো ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম

এই ব্যবস্থা কার্যকর করতে ‘দ্য কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারির মাধ্যমে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৯(৩) ধারায় অনলাইনে বেইলবন্ড দাখিলের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

এর ভিত্তিতে একটি আধুনিক ই-বেইলবন্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম তৈরি করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিচারক, আইনজীবী ও কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই প্রকল্প পুরো দেশে বাস্তবায়িত হলে বিচার ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তর আরও দ্রুত হবে এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

আরও পড়ুন-মিথ্যা মামলা থেকে বাঁচার উপায়: বাংলাদেশে আইনি ও বাস্তব সমাধান

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

Sanaul Bari

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। আমি মোঃ সানাউল বারী। পেশায় আমি একজন চাকরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। চাকরির পাশাপাশি, আমি গত ১৪ বছর ধরে আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটে লেখালেখি করছি এবং আমার নিজস্ব ইউটিউব এবং ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করছি। বিশেষ দ্রষ্টব্য - লেখায় যদি কোনও ভুল থাকে, তাহলে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। ধন্যবাদ।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now