বিশ্বের শক্তিশালী পাসপোর্টের সর্বশেষ সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। লন্ডনভিত্তিক বৈশ্বিক নাগরিকত্ব ও আবাসন পরামর্শ প্রতিষ্ঠান ‘হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স’ প্রকাশিত ২০২৬ সালের পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৯৩তম। আগের তালিকার তুলনায় দেশটি দুই ধাপ এগিয়েছে।
এই অগ্রগতি কেবল একটি সংখ্যাগত পরিবর্তন নয়—বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের পাসপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ার ইঙ্গিত বহন করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আরও পড়ুন-পাসপোর্ট ভিসা জালিয়াতিতে বাংলাদেশ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ড ইউনূসের সতর্কবার্তা
পাসপোর্ট র্যাংকিং কীভাবে নির্ধারণ করা হয়
হেনলি পাসপোর্ট সূচক মূলত একটি দেশের নাগরিকরা কতটি দেশে ভিসা ছাড়া বা ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধায় ভ্রমণ করতে পারেন—তার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। অর্থাৎ কোনো দেশের পাসপোর্ট দিয়ে যত বেশি দেশে সহজে প্রবেশ করা যায়, সেই পাসপোর্ট তত বেশি শক্তিশালী হিসেবে বিবেচিত হয়।
ব্যবসা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই সূচক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের অগ্রগতির পেছনের কারণ
নতুন সূচকে বাংলাদেশ দুই ধাপ উন্নতি করে ৯৩তম অবস্থানে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন, ভ্রমণ চুক্তি বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক সক্রিয়তা বৃদ্ধির ফলেই এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।
বাংলাদেশি নাগরিকরা এখন বিশ্বের নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশে তুলনামূলক সহজ ভ্রমণ সুবিধা পাচ্ছেন, যা দেশের পাসপোর্টের মূল্যমান বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
শীর্ষে কোন দেশগুলো
২০২৬ সালের তালিকায় প্রথম স্থান দখল করেছে সিঙ্গাপুর। দেশটির নাগরিকরা বিশ্বের সর্বাধিক সংখ্যক দেশে ভিসামুক্ত বা অন অ্যারাইভাল সুবিধা পান।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া।চতুর্থ স্থানে রয়েছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ—যেমন বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন ও সুইজারল্যান্ড।
পঞ্চম স্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়া, গ্রিস, মাল্টা ও পর্তুগাল।ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড, পোল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র, হাঙ্গেরি ও ব্রাজিল।
আঞ্চলিক অবস্থান
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতের অবস্থান বাংলাদেশের উপরে হলেও পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের অবস্থান তুলনামূলক নিচে। ফলে আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ মধ্যম অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভবিষ্যতে আরও কূটনৈতিক চুক্তি ও আন্তর্জাতিক সংযোগ বাড়াতে পারলে বাংলাদেশের অবস্থান আরও উন্নত হতে পারে।
কেন এই অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ
একটি দেশের পাসপোর্টের শক্তি তার অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সক্ষমতার প্রতিফলন।
পাসপোর্ট শক্তিশালী হলে—
-
আন্তর্জাতিক ব্যবসা সম্প্রসারণ সহজ হয়।
-
শিক্ষার্থীদের বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ বাড়ে।
-
পর্যটন ও বিনিয়োগ বাড়ে।
-
বৈশ্বিক যোগাযোগ শক্তিশালী হয়।
বাংলাদেশের দুই ধাপ উন্নতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ইতিবাচক অবস্থানকে নির্দেশ করে।
সামনে কী সম্ভাবনা
বিশ্বায়নের এই যুগে ভ্রমণ ও আন্তর্জাতিক সংযোগ একটি দেশের উন্নয়নের অন্যতম চাবিকাঠি। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হলে ভবিষ্যতে পাসপোর্ট র্যাংকিংয়ে আরও উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।
উপসংহার
বিশ্ব পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশের ৯৩তম অবস্থান অর্জন নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। যদিও এখনও অনেক পথ বাকি, তবে দুই ধাপ উন্নতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অবস্থানকে তুলে ধরেছে। সঠিক কূটনৈতিক কৌশল ও বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব জোরদার হলে আগামী বছরগুলোতে আরও উন্নতির সম্ভাবনা উজ্জ্বল।
আরও পড়ুন-বাংলাদেশে একের পর এক উপদেষ্টা লাল কূটনৈতিক পাসপোর্ট ফেরত দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










