জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি বর্তমানে একজন নাগরিকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্রগুলোর একটি। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, মোবাইল সিম নিবন্ধন, পাসপোর্ট তৈরি, ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদন, মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহারসহ প্রায় সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কাজে এনআইডি প্রয়োজন হয়। তবে নতুন ভোটার হওয়ার পর অনেকেই দীর্ঘদিন স্মার্ট কার্ড হাতে না পাওয়ায় বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হন।
আরও পড়ুন-এনআইডি সংশোধনে ৬৮ হাজার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত ইসির
বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের অনলাইন সেবার মাধ্যমে সেই ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে। নতুন ভোটাররা এখন ঘরে বসেই জাতীয় পরিচয়পত্রের ডিজিটাল কপি ডাউনলোড করতে পারছেন। ফলে জরুরি প্রয়োজনে স্মার্ট কার্ডের জন্য অপেক্ষা না করেও বিভিন্ন কাজে এনআইডি ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অনলাইনে এনআইডি ডাউনলোড সুবিধা চালু হওয়ার ফলে নাগরিকদের সময় ও খরচ দুটোই কমেছে। এনআইডি হারিয়ে গেলেও দ্রুত বিকল্প কপি সংগ্রহ করা যাচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ নির্বাচন অফিসে না গিয়েই প্রয়োজনীয় তথ্য ও পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে পারছেন।
তবে অনলাইনে এনআইডি ডাউনলোড করার জন্য কিছু তথ্য আগে থেকেই প্রস্তুত রাখতে হবে। বিশেষ করে ভোটার নিবন্ধনের সময় পাওয়া ফরম নম্বর, জন্মতারিখ, নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর এবং ফেস ভেরিফিকেশনের জন্য NID Wallet অ্যাপ প্রয়োজন হবে।
নতুন ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করবেন যেভাবে:
প্রথমে ওয়েবসাইটে যান:
https://services.nidw.gov.bd/nid-pub/
Register বা ‘নিবন্ধন’ বাটনে ক্লিক করুন।
প্রয়োজনীয় তথ্য দিন:
- ফরম নম্বর (যেমন: NIDFN123456789)
- জন্মতারিখ
- নিচে থাকা ভেরিফিকেশন কোড
সব তথ্য পূরণ করে Submit করুন।
ঠিকানা দিন:
- বর্তমান ঠিকানা
- স্থায়ী ঠিকানা
মোবাইল নম্বর ভেরিফাই করুন:
- মোবাইলে পাঠানো OTP কোড দিন
- প্রয়োজনে মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করতে পারবেন
ফেস ভেরিফিকেশন করুন:
- মোবাইলে NID Wallet App ইনস্টল করুন
- নির্দেশনা অনুযায়ী ফেস স্ক্যান সম্পন্ন করুন
ড্যাশবোর্ডে প্রবেশ করুন:
ফেস ভেরিফিকেশন সফল হলে NID সেবা ড্যাশবোর্ডে প্রবেশ করতে পারবেন।
Download অপশনে ক্লিক করে PDF কপি ডাউনলোড করুন।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে অধিকাংশ নতুন ভোটার অনলাইনে এনআইডি সংগ্রহ করতে পারছেন। তবে তথ্য না মিললে বা ওটিপি সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিলে কিছু সময় পর আবার চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজন হলে স্থানীয় নির্বাচন অফিস বা ১০৫ নম্বরে যোগাযোগ করেও সহায়তা পাওয়া যাবে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এনআইডি ডাউনলোড করার সময় শুধুমাত্র সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করা উচিত। ফেসবুক, ইউটিউব বা বিভিন্ন অচেনা ওয়েবসাইটের লিংকে প্রবেশ করে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এছাড়া ডাউনলোড করা এনআইডি ফাইল নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ এবং অন্য কারও সঙ্গে লগইন তথ্য শেয়ার না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র সেবাকে আরও সহজ ও নাগরিকবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে নতুন ভোটাররা এখন কয়েক মিনিটের মধ্যেই নিজেদের পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে পারছেন এবং প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণে আগের তুলনায় অনেক কম ভোগান্তির মুখোমুখি হচ্ছেন।










