আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন
---Advertisement---

সঞ্চয়পত্র মুনাফার হার আপডেট ২০২৬ জেনে নিন কোনটিতে লাভ বেশি

January 30, 2026 8:18 AM
সঞ্চয়পত্র মুনাফার হার আপডেট ২০২৬ জেনে নিন কোনটিতে লাভ বেশি
---Advertisement---

বাংলাদেশে নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগের কথা উঠলেই সবার আগে যে নামটি আসে, তা হলো সঞ্চয়পত্র। চাকরিজীবী, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, গৃহিণী কিংবা ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করতে চান—এমন অনেক মানুষের কাছেই সঞ্চয়পত্র দীর্ঘদিন ধরে আস্থার জায়গা। বিশেষ করে ব্যাংকের সুদের হার কমবেশি ওঠানামা করলেও সঞ্চয়পত্রের মুনাফা সাধারণত তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে।

২০২৬ সালে এসে অনেক বিনিয়োগকারীর মূল প্রশ্ন—
👉 সঞ্চয়পত্র মুনাফার হার কত? কোন সঞ্চয়পত্রে লাভ বেশি? কারা বিনিয়োগ করতে পারবেন?

এই লেখায় আমরা ২০২৬ সালের আপডেট সঞ্চয়পত্র মুনাফার হার, বিভিন্ন সঞ্চয়পত্রের বৈশিষ্ট্য, কর সংক্রান্ত বিষয় এবং বিনিয়োগের আগে যে বিষয়গুলো জানা জরুরি—সবকিছু সহজ ভাষায় তুলে ধরবো।

আরও পড়ুন- সঞ্চয়পত্র নাকি এফডিআর-বর্তমান বাংলাদেশে কোথায় বিনিয়োগ করবেন?

সঞ্চয়পত্র কী এবং কেন এটি জনপ্রিয়

সঞ্চয়পত্র হলো সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত একটি বিনিয়োগ পণ্য, যেখানে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য টাকা জমা রেখে নির্ধারিত হারে মুনাফা পাওয়া যায়। এটি সম্পূর্ণভাবে সরকারি গ্যারান্টি-যুক্ত হওয়ায় ঝুঁকি খুবই কম।

সঞ্চয়পত্র জনপ্রিয় হওয়ার প্রধান কারণগুলো হলো—
নিরাপদ বিনিয়োগ, নির্দিষ্ট মুনাফা, নিয়মিত আয়ের সুযোগ এবং অবসরপ্রাপ্ত বা স্থায়ী আয়ের বিকল্প হিসেবে কার্যকর ভূমিকা।

সঞ্চয়পত্র মুনাফার হার আপডেট ২০২৬ 

২০২৬ সালে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার নির্ধারিত হয় সঞ্চয়পত্রের ধরন অনুযায়ী। একেক ধরনের সঞ্চয়পত্রে মেয়াদ ও মুনাফা প্রদানের পদ্ধতি আলাদা।

নিচে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সঞ্চয়পত্রগুলোর মুনাফা কাঠামো আলোচনা করা হলো।

পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র

এই সঞ্চয়পত্রটি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়। পাঁচ বছর মেয়াদে বিনিয়োগ করলে নির্ধারিত হারে মুনাফা পাওয়া যায়।

২০২৬ সালের আপডেট কাঠামো অনুযায়ী—
এই সঞ্চয়পত্রে বার্ষিক মুনাফার হার আনুমানিক ১১ শতাংশের কাছাকাছি (ত্রৈমাসিক বা বার্ষিক ভিত্তিতে প্রযোজ্য কাঠামো অনুযায়ী)।
মেয়াদ পূর্ণ হলে মূল টাকা ও মুনাফা একসাথে পাওয়া যায়।

তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র

যাঁরা নিয়মিত আয় চান, তাঁদের জন্য এটি উপযোগী। নির্দিষ্ট সময় পরপর মুনাফা দেওয়া হয়।

২০২৬ সালের কাঠামো অনুযায়ী—
এই সঞ্চয়পত্রে বার্ষিক মুনাফা প্রায় ১১ শতাংশের সমমান হলেও তা তিন মাস অন্তর বিতরণ করা হয়।
অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও নির্ভরশীল পরিবারের জন্য এটি কার্যকর বিকল্প।

পরিবার সঞ্চয়পত্র

এই সঞ্চয়পত্রটি মূলত নারী বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রণীত। পরিবার সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের সীমা নির্দিষ্ট।

২০২৬ সালে—
পরিবার সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার সাধারণত ১১ শতাংশের কাছাকাছি রাখা হয়েছে।
মুনাফা নির্দিষ্ট সময় অন্তর পাওয়া যায় এবং মেয়াদ শেষে মূল টাকা ফেরত দেওয়া হয়।

পেনশনার সঞ্চয়পত্র

সরকারি ও বেসরকারি অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্য এই সঞ্চয়পত্র বিশেষভাবে ডিজাইন করা।

২০২৬ সালের আপডেট অনুযায়ী—
পেনশনার সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার তুলনামূলকভাবে বেশি, যা প্রায় ১১–১২ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে।
এটি অবসর জীবনে নিয়মিত আয়ের একটি নিরাপদ উৎস।

সঞ্চয়পত্র মুনাফার হার টেবিল (আপডেট ২০২৬)

সঞ্চয়পত্রের নাম মেয়াদ কত টাকায় কেনা যায় মুনাফা প্রদানের ধরন মুনাফার হার (বার্ষিক)
পরিবার সঞ্চয়পত্র ৫ বছর ১০ হাজার থেকে ১০ লক্ষ টাকা (বিভিন্ন মূল্যমান) মেয়াদ শেষে বা নির্ধারিত নিয়মে প্রায় ১১.৯৩%
পেনশনার সঞ্চয়পত্র ৫ বছর ৫০ হাজার থেকে ১০ লক্ষ টাকা মেয়াদ শেষে এককালীন প্রায় ১১.৯৮%
পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র ৫ বছর ১০ টাকা থেকে শুরু (বিভিন্ন মূল্যমান) মেয়াদ শেষে প্রায় ১১.৮৩%
তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র সাধারণত ৩ বছর ১ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকা প্রতি ৩ মাস অন্তর মুনাফা প্রায় ১১.৮২%

সঞ্চয়পত্রে কর (Tax) সংক্রান্ত আপডেট তথ্য

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের সময় করের বিষয়টি জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী—
নির্ধারিত সীমার বেশি বিনিয়োগ বা মুনাফার ক্ষেত্রে উৎসে কর (Tax Deducted at Source) কাটা হয়।
করহার বিনিয়োগকারীর টিআইএন ও আয় পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।

তবে কর কেটে নেওয়ার পরও সঞ্চয়পত্রের নিট মুনাফা অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকের চেয়ে বেশি থাকে।

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের সীমা

২০২৬ সালেও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের একটি সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারিত রয়েছে।

  • সাধারণ ব্যক্তি: নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে।

  • পরিবার সঞ্চয়পত্র: আলাদা সীমা।

  • পেনশনার সঞ্চয়পত্র: তুলনামূলক বেশি সীমা।

এই সীমা অতিক্রম করলে নতুন সঞ্চয়পত্র কেনা যায় না।

সঞ্চয়পত্র বনাম ব্যাংক এফডিআর

অনেকে প্রশ্ন করেন—সঞ্চয়পত্র ভালো নাকি ব্যাংক এফডিআর?

২০২৬ সালে তুলনা করলে দেখা যায়—
ব্যাংক এফডিআরের সুদের হার সাধারণত কম, তবে তারল্য বেশি।
সঞ্চয়পত্রে মুনাফা বেশি, তবে ভাঙলে কিছু শর্ত প্রযোজ্য।

দীর্ঘমেয়াদি নিরাপদ বিনিয়োগের জন্য সঞ্চয়পত্র এখনো এগিয়ে।

সঞ্চয়পত্র কেনার আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন

সঞ্চয়পত্র কেনার আগে—
নিজের বিনিয়োগ লক্ষ্য নির্ধারণ করুন,মুনাফা প্রদানের পদ্ধতি বুঝে নিন,কর ও সীমা সংক্রান্ত নিয়ম জেনে নিন,হঠাৎ টাকা দরকার হলে কী শর্ত প্রযোজ্য তা দেখুন।এই বিষয়গুলো জানলে ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি কমে।

প্রশ্ন–উত্তর

২০২৬ সালে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কি কমেছে?
না, কাঠামোগতভাবে হার স্থিতিশীল রাখা হয়েছে।

সঞ্চয়পত্র কি ঝুঁকিমুক্ত?
হ্যাঁ, এটি সরকারি গ্যারান্টিযুক্ত।

মেয়াদ শেষের আগে ভাঙা যাবে?
যাবে, তবে মুনাফা কমতে পারে।

অনলাইনে সঞ্চয়পত্র কেনা যায়?
কিছু ক্ষেত্রে অনলাইন আবেদন সম্ভব, তবে ইস্যু অফিসে যাচাই লাগে।

উপসংহার

সঞ্চয়পত্র মুনাফার হার আপডেট (২০২৬) অনুযায়ী, এখনো সঞ্চয়পত্র বাংলাদেশের সবচেয়ে নিরাপদ ও লাভজনক বিনিয়োগ মাধ্যমগুলোর একটি। স্থিতিশীল মুনাফা, সরকারি নিরাপত্তা এবং নিয়মিত আয়ের সুযোগ—সব মিলিয়ে এটি দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের জন্য উপযুক্ত।

তবে বিনিয়োগের আগে অবশ্যই সর্বশেষ সরকারি প্রজ্ঞাপন ও নিজের আর্থিক প্রয়োজন বিবেচনা করা উচিত। সঠিক পরিকল্পনা থাকলে সঞ্চয়পত্র আপনার ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তার শক্ত ভিত্তি হতে পারে।

আরও পড়ুন-সঞ্চয়পত্র কি?সঞ্চয়পত্র কেনার নিয়ম(আপডেট)

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉টেক নিউজের সকল খবর সবার আগে পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

Sanaul Bari

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। আমি মোঃ সানাউল বারী। পেশায় আমি একজন চাকরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। চাকরির পাশাপাশি, আমি গত ১৪ বছর ধরে আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটে লেখালেখি করছি এবং আমার নিজস্ব ইউটিউব এবং ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করছি। বিশেষ দ্রষ্টব্য - লেখায় যদি কোনও ভুল থাকে, তাহলে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। ধন্যবাদ।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now