ইন্টারনেট ব্যবহার করার সময় হঠাৎ কেউ ফোন করলে ডেটা সংযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেক স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর কাছেই পরিচিত। বিশেষ করে WhatsApp-এ চ্যাট করা, YouTube-এ ভিডিও দেখা বা অনলাইন গেম খেলার সময় এই সমস্যাটি বেশি বিরক্তিকর হয়ে ওঠে। আধুনিক প্রযুক্তির যুগে এমন সমস্যা অস্বাভাবিক মনে হলেও, এর পেছনে রয়েছে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা—আর এর কার্যকর সমাধানও ইতোমধ্যে রয়েছে, যার নাম VoLTE।
আরও পড়ুন-দীর্ঘ সময় মোবাইল ব্যবহার করলে চোখের ক্ষতি ও সমাধান
VoLTE বা Voice over LTE এমন একটি প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে ৪জি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেই সরাসরি ভয়েস কল করা সম্ভব। আগে সাধারণত কল আসলে মোবাইল ফোন ৪জি থেকে নেমে ৩জি বা ২জি নেটওয়ার্কে চলে যেত। এর ফলে ডেটা সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ত। কিন্তু VoLTE চালু থাকলে ফোন আর নেটওয়ার্ক পরিবর্তন করে না, ফলে একই সঙ্গে ইন্টারনেট ও কল চালু রাখা যায়।
এই সমস্যার মূল কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—ব্যবহারকারীর ফোন বা সিম VoLTE সমর্থন না করা। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ফোন ৪জি সাপোর্ট করলেও VoLTE অপশনটি সেটিংসে চালু করা নেই। আবার অনেক পুরনো সিম কার্ড VoLTE প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, যার কারণে কল এলেই ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যায়।
VoLTE চালু করলে ব্যবহারকারীরা একাধিক সুবিধা পেয়ে থাকেন। প্রথমত, কল চলাকালীন ইন্টারনেট চালু থাকে, ফলে কোনো কাজ মাঝপথে থেমে যায় না। দ্বিতীয়ত, ভয়েস কলের মান উন্নত হয়, যা HD কল হিসেবে পরিচিত। তৃতীয়ত, কল সংযোগ দ্রুত হয় এবং কল ড্রপের হার কমে যায়। পাশাপাশি ব্যাটারি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এটি তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী।
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে VoLTE চালু করতে Settings থেকে Mobile Network বা SIM & Network অপশনে গিয়ে VoLTE বা 4G Calling অপশন চালু করতে হয়। অনেক সময় সেটিংস পরিবর্তনের পর ফোন রিস্টার্ট করলে সুবিধাটি কার্যকর হয়। অন্যদিকে আইফোন ব্যবহারকারীরা Settings → Cellular → Cellular Data Options → Voice & Data অপশনে গিয়ে LTE বা VoLTE নির্বাচন করে এই সুবিধা চালু করতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে ফোন ও সিম—উভয়ই VoLTE সমর্থিত হওয়া আবশ্যক।
বাংলাদেশে বর্তমানে Grameenphone, Robi, Airtel Bangladesh এবং Teletalk—সবগুলো অপারেটরই VoLTE সেবা চালু করেছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা সঠিকভাবে সেটিংস না জানার কারণে এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে ২জি ও ৩জি নেটওয়ার্ক ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে গেলে VoLTE প্রযুক্তির গুরুত্ব আরও বাড়বে। তাই এখনই ব্যবহারকারীদের এই প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। যদি VoLTE চালু করার পরও কাজ না করে, তাহলে ফোন রিস্টার্ট করা, নতুন সিম ব্যবহার করা অথবা অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বর্তমান সময়ে অনলাইন ক্লাস, মিটিং, ভিডিও স্ট্রিমিং কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কল আসলেই যদি ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে তা ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। তবে VoLTE প্রযুক্তি চালু করলে এই সমস্যার সহজ সমাধান পাওয়া সম্ভব। মাত্র কয়েকটি সেটিংস পরিবর্তনের মাধ্যমেই ব্যবহারকারীরা একসঙ্গে কল ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা উপভোগ করতে পারেন।
সংক্ষেপে বলা যায়, প্রযুক্তির এই ছোট পরিবর্তনই স্মার্টফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে অনেক বেশি উন্নত করে তুলতে পারে।
সূত্র: মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি বিষয়ক সাধারণ তথ্য, টেলিকম অপারেটরদের প্রকাশিত ফিচার বিবরণী এবং স্মার্টফোন সেটিংস গাইড।
আরও পড়ুন-মোবাইল ফোনে ১০০% চার্জ দেওয়া কি ঠিক?
👉টেক নিউজের সকল খবর সবার আগে পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










