ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে সব ধরনের ড্রোন বা রিমোটলি কন্ট্রোলড এয়ারক্রাফট সিস্টেম উড্ডয়নের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়ানোর লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
আরও পড়ুন-ভোটের তিন দিন আগে নির্বাচনি ওয়েবসাইট চালু করল জামায়াতে ইসলামী
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বেবিচকের জনসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে আকাশপথে অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন জননিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা এবং নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। সে কারণেই সাময়িকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
বেবিচক জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা দেশের সব এলাকায় প্রযোজ্য হবে এবং কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অনুমতি ছাড়া ড্রোন উড্ডয়ন করতে পারবে না। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীর ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে এসব বাহিনী নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ড্রোন ব্যবহার করতে পারবে।
এছাড়া সরকারি বা বেসরকারি কোনো সংস্থা যদি গবেষণা, জরিপ, কৃষিকার্য, পরিবীক্ষণ কিংবা কোনো ইভেন্ট সম্প্রচারের প্রয়োজনে ড্রোন ব্যবহার করতে চায়, তবে তাদের অবশ্যই যথাযথ অনুমোদন নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বেবিচক বরাবর আবেদন করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট সব এজেন্সির ছাড়পত্র গ্রহণ সাপেক্ষে ড্রোন উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বেবিচক আরও জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া বা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ ড্রোন উড্ডয়ন করলে তা কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘বেসামরিক বিমান চলাচল আইন ২০১৭’-এর ২৪ ধারার অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
নির্বাচনকালীন সময়ে ড্রোন ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে আগেও বিভিন্ন সময় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা, ভোটকেন্দ্র এবং জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ ধরনের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে এই নিষেধাজ্ঞাকে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ, নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত মোতায়েন এবং আকাশপথে ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধসহ একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বেবিচকের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণ ও সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে এই নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অনুমতি ছাড়া ড্রোন উড্ডয়ন না করার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
উপসংহার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে ড্রোন উড্ডয়নে নিষেধাজ্ঞা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আকাশপথে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমিয়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এখন প্রয়োজন সবাইকে এই নির্দেশনা মেনে চলা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করা।
আরও পড়ুন-ভোটের দিন সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের মোবাইল ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করল ইসি
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔







