রমজান মাস শুরু হলেই তারাবির নামাজ নিয়ে মুসল্লিদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। বিশেষ করে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটি শোনা যায় তা হলো—তারাবির নামাজ কি ৮ রাকাত পড়া যাবে, নাকি ২০ রাকাতই পড়তে হবে? অনেক সময় মসজিদভেদে রাকাত সংখ্যার ভিন্নতা দেখা যায়, ফলে সাধারণ মানুষ দ্বিধায় পড়ে যান। কেউ বলেন ২০ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা, আবার কেউ বলেন ৮ রাকাতই যথেষ্ট।
এই বিভ্রান্তি দূর করার জন্য প্রয়োজন সহিহ তথ্য ও নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যা। তারাবি একটি নফল ইবাদত হলেও এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। তাই রাকাত সংখ্যা নিয়ে অযথা বিতর্কে না গিয়ে ইসলামের আলোকে বিষয়টি বোঝা জরুরি। এই প্রতিবেদনে ৮ রাকাত তারাবি পড়া যাবে কি না—তা কোরআন-হাদিস ও ফিকহি মতামতের আলোকে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হলো।
আরও পড়ুন-মহিলাদের জন্য তারাবির নামাজের নিয়ম কানুন জানুন
তারাবির নামাজ কী এবং এর গুরুত্ব
তারাবি হলো রমজান মাসের বিশেষ নফল নামাজ, যা ইশার ফরজ ও সুন্নতের পর আদায় করা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানে রাতের নামাজ আদায় করেছেন এবং সাহাবায়ে কেরামও তা গুরুত্বের সঙ্গে পালন করেছেন।
হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের রাতে নামাজ আদায় করবে, তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। তাই তারাবি শুধু একটি নামাজ নয়; বরং এটি আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের বিশেষ সুযোগ।
৮ রাকাত তারাবি পড়া যাবে কি
ইসলামিক গবেষণা অনুযায়ী ৮ রাকাত তারাবি পড়া জায়েজ। সহিহ হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) সাধারণত রাতের নামাজ ৮ রাকাত আদায় করতেন এবং পরে বিতর পড়তেন। এই হাদিসকে ভিত্তি করে অনেক আলেম ৮ রাকাত তারাবিকে সমর্থন করেছেন।
তবে সাহাবায়ে কেরামের আমল অনুযায়ী খলিফা হজরত উমর (রা.)-এর সময়ে জামাতে ২০ রাকাত তারাবি চালু হয় এবং তা পরবর্তীতে মুসলিম বিশ্বে ব্যাপকভাবে অনুসৃত হয়। ফলে ২০ রাকাত পড়াও সুপ্রচলিত ও গ্রহণযোগ্য।
অর্থাৎ ৮ রাকাত বা ২০ রাকাত—উভয় পদ্ধতিই ইসলামে বৈধ। এখানে মূল বিষয় হলো আন্তরিকতা ও নিয়মিত আদায়।
২০ রাকাত পড়ার প্রচলন কেন বেশি
বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ উপমহাদেশে অধিকাংশ মসজিদে ২০ রাকাত তারাবি আদায় করা হয়। চার মাজহাবের অধিকাংশ ফকিহ ২০ রাকাতকেই উত্তম হিসেবে মত দিয়েছেন।
২০ রাকাতের মাধ্যমে পুরো রমজানে সম্পূর্ণ কোরআন খতম করার একটি সুন্দর ব্যবস্থা তৈরি হয়। তাই ঐতিহাসিকভাবে এই পদ্ধতি বেশি প্রচলিত হয়েছে।
একা পড়লে কত রাকাত পড়বেন
যদি কেউ বাসায় একা তারাবি আদায় করেন, তাহলে ৮ রাকাত বা ২০ রাকাত—উভয়টিই পড়তে পারেন। শরিয়তে নির্দিষ্ট কোনো বাধ্যতামূলক সংখ্যা নেই।
তবে যতটুকু পড়বেন, খুশু-খুজুর সঙ্গে মনোযোগ দিয়ে আদায় করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত শেষ করার জন্য তাড়াহুড়া করা উচিত নয়।
রাকাত সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি কেন হয়
মূল বিভ্রান্তির কারণ হলো বিভিন্ন হাদিসের ব্যাখ্যা ও ফিকহি মতামতের পার্থক্য। কেউ নবী (সা.)-এর ব্যক্তিগত রাতের নামাজকে ভিত্তি ধরেন, আবার কেউ সাহাবায়ে কেরামের জামাতি তারাবিকে অনুসরণ করেন।
কিন্তু ইসলামে মতভেদ থাকা মানেই বিভাজন নয়। বরং উভয় মতেরই গ্রহণযোগ্য ভিত্তি রয়েছে।
৮ রাকাত পড়লে কি তারাবি আদায় হবে
হ্যাঁ, ৮ রাকাত পড়লে তারাবি আদায় হবে। এটি একটি নফল ইবাদত এবং নির্দিষ্ট সংখ্যা ফরজ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো ঈমান ও সওয়াবের আশায় নামাজ আদায় করা।
কেউ ৮ রাকাত পড়ে বিতর পড়লে তার নামাজ সহিহ হবে। আবার কেউ ২০ রাকাত পড়লেও সেটিও সহিহ।
প্রশ্ন–উত্তর
প্রশ্ন: ৮ রাকাত পড়লে কি কম সওয়াব হবে?
উত্তর: সওয়াব নির্ভর করে আন্তরিকতার ওপর। সংখ্যা নয়, নিয়ত ও খুশু গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন: ২০ রাকাত কি বাধ্যতামূলক?
উত্তর: না, এটি সুন্নতে মুয়াক্কাদা; ফরজ নয়।
প্রশ্ন: মসজিদে ২০ রাকাত হলে মাঝপথে বের হওয়া যাবে?
উত্তর: সম্ভব হলে জামাত পূর্ণ করা উত্তম, তবে শারীরিক বা ব্যক্তিগত কারণে বের হওয়া জায়েজ।
উপসংহার
তারাবির নামাজ ৮ রাকাত পড়া যাবে কি না—এই প্রশ্নের উত্তর হলো, হ্যাঁ, পড়া যাবে। ৮ রাকাত ও ২০ রাকাত—উভয়টিই ইসলামে গ্রহণযোগ্য। এখানে মূল বিষয় হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়ত এবং নিয়মিত ইবাদত করা। রাকাত সংখ্যা নিয়ে বিতর্কে না গিয়ে ইবাদতের প্রতি মনোযোগী হওয়াই উত্তম। রমজানের বরকতময় রাতগুলোকে কাজে লাগিয়ে যতটুকু সম্ভব আন্তরিকতার সঙ্গে তারাবি আদায় করাই একজন মুমিনের দায়িত্ব।
আরও পড়ুন-প্রথম রোজার তারাবির নামাজের নিয়ত বাংলা উচ্চারণ সহ
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









