বাংলাদেশে রেজিস্টার্ড যেকোনো মোটরযানের জন্য ট্যাক্স টোকেন নবায়ন করা বাধ্যতামূলক। এটি এমন একটি সরকারি সনদ, যা প্রমাণ করে যে গাড়ির নির্ধারিত পরিবহন কর পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু অনেক যানবাহন মালিক সময়মতো টোকেন নবায়ন করেন না বা মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও গাড়ি ব্যবহার করেন। ফলে সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেকিংয়ের সময় জরিমানার মুখে পড়তে হয়।
২০২৬ সালের আপডেট অনুযায়ী ট্যাক্স টোকেন নবায়ন না করলে বা মেয়াদোত্তীর্ণ টোকেন দিয়ে গাড়ি চালালে অর্থদণ্ড ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তাই জরিমানার পরিমাণ, ঝুঁকি এবং কীভাবে তা এড়ানো যায়—এসব বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
আরও পড়ুন-মোটরসাইকেল ট্যাক্স টোকেন নবায়ন ফি কত টাকা আপডেট
ট্যাক্স টোকেন কী এবং কেন প্রয়োজন
ট্যাক্স টোকেন হলো পরিবহন কর পরিশোধের প্রমাণপত্র। এটি গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বৈধ।
এই টোকেন ছাড়া বা মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে গাড়ি আইনসঙ্গতভাবে রাস্তায় চলাচল করতে পারে না। নিয়মিত নবায়ন না করলে তা আইন ভঙ্গ হিসেবে গণ্য হয়।
ট্যাক্স টোকেন জরিমানা কত
মেয়াদোত্তীর্ণ ট্যাক্স টোকেন নিয়ে গাড়ি চালালে সাধারণত অর্থদণ্ড করা হয়। ২০২৬ সালের বাস্তব প্রয়োগ অনুযায়ী—
-
সর্বনিম্ন প্রায় ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
-
ক্ষেত্রবিশেষে মামলা বা অতিরিক্ত আর্থিক জরিমানাও হতে পারে।
-
দীর্ঘদিন নবায়ন না করলে বকেয়া করের সঙ্গে অতিরিক্ত চার্জ যোগ হয়।
জরিমানার পরিমাণ পরিস্থিতি ও আইনের প্রয়োগ অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট অঙ্ক ধরে নেওয়া ঠিক নয়; বরং সময়মতো নবায়ন করাই নিরাপদ।
কতদিন দেরি করলে জরিমানা হয়
ট্যাক্স টোকেনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে তা অবৈধ হিসেবে গণ্য হয়। অর্থাৎ মেয়াদ পার হলেই আইনগত ঝুঁকি তৈরি হয়।
অনেকে ভাবেন কয়েকদিন দেরি করলে সমস্যা নেই, কিন্তু সড়ক চেকিংয়ের সময় তা ধরা পড়লে জরিমানা হতে পারে। তাই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নবায়নের আবেদন করা উচিত।
ট্যাক্স টোকেন নবায়ন না করলে কী কী ঝুঁকি
-
সড়কে পুলিশি চেকিংয়ে আটক হওয়ার সম্ভাবনা।
-
স্পট ফাইন বা মামলা।
-
বকেয়া করসহ অতিরিক্ত চার্জ।
-
গাড়ি সাময়িক জব্দ হওয়ার ঝুঁকি।
এই কারণে নিয়মিত গাড়ির কাগজপত্র আপডেট রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ট্যাক্স টোকেন নবায়নের নিয়ম সংক্ষেপে
টোকেন নবায়নের জন্য সাধারণত প্রয়োজন হয়—
-
গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট।
-
পূর্বের ট্যাক্স টোকেন।
-
নির্ধারিত নবায়ন ফি।
-
প্রয়োজনে ফিটনেস সার্টিফিকেট।
নির্ধারিত ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করে নবায়ন করা যায়। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই অনলাইন পেমেন্ট সুবিধাও রয়েছে।
জরিমানা এড়ানোর সহজ উপায়
-
মোবাইলে রিমাইন্ডার সেট করুন।
-
টোকেনের মেয়াদ লিখে রাখুন।
-
মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ১৫ দিন আগে নবায়ন করুন।
-
নিয়মিত গাড়ির সব কাগজপত্র যাচাই করুন।
সচেতন থাকলে বড় অঙ্কের জরিমানা থেকে সহজেই রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
প্রশ্ন–উত্তর
প্রশ্ন: ট্যাক্স টোকেন না থাকলে কি গাড়ি জব্দ হতে পারে?
উত্তর: হ্যাঁ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা প্রয়োজন মনে করলে ব্যবস্থা নিতে পারে।
প্রশ্ন: একদিন দেরি হলে কি জরিমানা হবে?
উত্তর: মেয়াদ পার হলেই তা অবৈধ হিসেবে গণ্য হয়।
প্রশ্ন: অনলাইনে নবায়ন করা যায়?
উত্তর: নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী অনেক ক্ষেত্রে অনলাইন সুবিধা পাওয়া যায়।
উপসংহার
ট্যাক্স টোকেন নবায়ন সময়মতো না করলে বড় অঙ্কের জরিমানা ও আইনগত জটিলতায় পড়ার সম্ভাবনা থাকে। ২০২৬ সালের আপডেট অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ টোকেন দিয়ে গাড়ি চালালে প্রায় ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানার ঝুঁকি রয়েছে। তাই সচেতনভাবে নির্ধারিত সময়ের আগেই টোকেন নবায়ন করা প্রতিটি যানবাহন মালিকের দায়িত্ব। নিয়ম মেনে চললে জরিমানার ঝুঁকি এড়ানো সহজ।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকালে জরিমানা কত?
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









