আসন্ন মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষাকে ঘিরে নকল ও অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কেন্দ্রসচিবদের জন্য ৩১ দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, যেখানে নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন-২১ এপ্রিল এসএসসি পরীক্ষা শুরু কেন্দ্রসচিবদের কঠোর নির্দেশনা দিল শিক্ষা বোর্ড
বৃহস্পতিবার ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এক চিঠির মাধ্যমে এই নির্দেশনা প্রকাশ করে। এতে বলা হয়েছে, পরীক্ষা শুরুর পরপরই প্রতিটি কেন্দ্রের টয়লেট তল্লাশি করতে হবে এবং কোনো ধরনের নকলের উপকরণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে অপসারণ করতে হবে। এ ছাড়া পরীক্ষা চলাকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কর্মচারী ও পরিদর্শক ছাড়া অন্য কাউকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, নিয়মিত পরীক্ষার্থীরা ২০২৬ সালের সিলেবাস অনুযায়ী এবং অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীরা ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। প্রতিদিন সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হবে এবং সময়সূচি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিত করতে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর তিন দিন আগে ট্রেজারি বা থানা লকারে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্রের প্যাকেট যাচাই করতে হবে। এ সময় ট্রেজারি অফিসার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কেন্দ্রসচিব এবং পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্যদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
প্রতিটি বিষয়ের জন্য সৃজনশীল (CQ) ও বহুনির্বাচনি (MCQ) প্রশ্নপত্রের একাধিক সেট প্রস্তুত রাখতে হবে এবং তা নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী সিকিউরিটি খামে সংরক্ষণ করতে হবে। খামের ওপর পরীক্ষার তারিখ, বিষয় কোড ও সেট কোড স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো ত্রুটি ধরা পড়লে তা কেন্দ্রসচিবের দায়িত্বে অবহেলা হিসেবে বিবেচিত হবে।
পরীক্ষার দিন প্রশ্নপত্র সংগ্রহ, পরিবহন ও খোলার ক্ষেত্রেও কঠোর নিয়ম আরোপ করা হয়েছে। ট্যাগ অফিসার ও পুলিশ প্রহরার মাধ্যমে প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে আনা হবে এবং মোবাইলে প্রাপ্ত সেট কোড যাচাইয়ের পরই তা খোলা যাবে। নির্ধারিত সেট ছাড়া অন্য কোনো প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন বহন করতে পারবেন না এবং কেন্দ্রসচিবও শুধুমাত্র সীমিত সুবিধার ফোন ব্যবহার করতে পারবেন।
পরীক্ষার্থীদের বসার ব্যবস্থাতেও নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতি ২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন কক্ষ পরিদর্শক থাকবেন এবং প্রতিটি কক্ষে কমপক্ষে দুইজন দায়িত্ব পালন করবেন। বেঞ্চের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থী বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো অনিয়ম না ঘটে।
পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতেও কঠোর নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ থাকবে। এর পরে কেউ এলে কেন্দ্রসচিব বিশেষ বিবেচনায় রেজিস্টারে তথ্য লিপিবদ্ধ করে প্রবেশের অনুমতি দিতে পারবেন।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে কোনো ধরনের জটলা যেন না হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে সিসিটিভি ক্যামেরা ও হ্যান্ড মাইক ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে উত্তরপত্র ব্যবস্থাপনায়ও সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। প্রতিটি বিষয়ের উত্তরপত্র আলাদাভাবে প্যাকেট করতে হবে এবং পুরাতন ও নতুন সিলেবাসের উত্তরপত্র কখনোই একসঙ্গে রাখা যাবে না। সব প্যাকেট সিলগালা করে নির্ধারিত নিয়মে বোর্ডে পাঠাতে হবে।
শিক্ষা বোর্ড আরও জানিয়েছে, পরীক্ষাকালীন সময় বিদ্যালয়ের নিয়মিত ক্লাস বন্ধ থাকবে, তবে পরীক্ষার দিন ছাড়া অন্যান্য দিন শ্রেণিকক্ষ কার্যক্রম চালু রাখা যাবে।
সব মিলিয়ে, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় নকল ও অনিয়ম রোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পরীক্ষা আয়োজনের আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন-কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই, ৯ হাজার শিক্ষক পাচ্ছেন ট্যাব
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-প্রথমে কোন কোন আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ফ্রি ওয়াইফাই চালুর নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী?
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









