রমজান মাসে রোজা পালনকালে ফরজ গোসলের বিধান নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়। বিশেষ করে গোসলের সময় গড়গড়া করে কুলি ও নাকে গভীরভাবে পানি দেওয়া আবশ্যক কি না—এ নিয়ে দ্বিধা দেখা দেয়। আলেমদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, রোজা অবস্থায় ফরজ গোসল আদায়ের ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করলেই গোসল সহীহভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব।
আরও পড়ুন-একা নামাজে কেরাত কীভাবে পড়বেন?
ইসলামী ফিকহে ফরজ গোসলের অংশ হিসেবে কুলি ও নাকে পানি দেওয়া আবশ্যক বলা হয়েছে। তবে রোজা অবস্থায় গড়গড়া করে কুলি করা এবং নাকের নরম গভীর অংশে পানি টেনে নেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। কারণ এতে অসাবধানতাবশত পানি গলার ভেতরে প্রবেশ করার আশঙ্কা থাকে, যা রোজা ভঙ্গের কারণ হতে পারে।
হানাফি ফিকহের ব্যাখ্যাগ্রন্থ তাহতাবি আলা মারাকিল ফালাহ–এ উল্লেখ রয়েছে, রোজাদারের জন্য স্বাভাবিকভাবে কুলি ও নাকে পানি দিলেই গোসল আদায় হয়ে যায়। অতিরিক্ত গভীরে পানি পৌঁছানোর চেষ্টা করা প্রয়োজন নেই। ফলে রোজা রেখে গড়গড়া না করলেও এবং নাকে খুব গভীরে পানি না নিলেও গোসল সম্পূর্ণ হবে।
রমজান মাসে ফরজ গোসলের আলাদা কোনো নতুন নিয়ম নেই। সারা বছরের মতো একই বিধান প্রযোজ্য। কেবল রোজা অবস্থায় কুলি ও নাকে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি থেকে বিরত থাকতে হবে।
হানাফি মাজহাবের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ হেদায়া–এ ফরজ গোসলের পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। সে অনুযায়ী, গোসলের আগে প্রস্রাব-পায়খানা সেরে নেওয়া উত্তম, যাতে শরীর সম্পূর্ণ পবিত্র হয়। এরপর “বিসমিল্লাহ” বলে গোসল শুরু করতে হবে। প্রথমে দুই হাত কবজি পর্যন্ত তিনবার ধুতে হবে। তারপর শরীরের যেসব স্থানে নাপাকি লেগে থাকতে পারে, তা ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে এবং ব্যবহৃত হাত ধুয়ে নিতে হবে।
এরপর পূর্ণ অজু করতে হবে। এই অজুর মধ্যে কুলি ও নাকে পানি দেওয়া ফরজ গোসলের অংশ। তবে রোজা অবস্থায় গড়গড়া না করে স্বাভাবিকভাবে পানি দিতে হবে। অজুর সময় পা ধোয়া পরে করা যেতে পারে।
এরপর পুরো শরীর ধোয়ার পালা। প্রথমে ডান পাশে তিনবার, তারপর বাঁ পাশে তিনবার পানি ঢেলে এমনভাবে ধুতে হবে যেন শরীরের কোনো অংশ, এমনকি চুলের গোড়া বা লোমও শুকনা না থাকে। নাভি, বগল ও শরীরের ভাঁজযুক্ত স্থানগুলোতে পানি পৌঁছেছে কি না, সে বিষয়ে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। সবশেষে গোসলের স্থান থেকে সামান্য সরে গিয়ে দুই পা তিনবার ধুয়ে নিতে হবে।
ফিকহবিদদের মতে, রোজা অবস্থায় গোসল আদায় করতে গিয়ে অতিরিক্ত সতর্কতার কারণে যেন কেউ ফরজ অংশ বাদ না দেন। আবার অসাবধানতার কারণে যেন পানি গলায় না যায়, সেদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি। এভাবে মধ্যপন্থা অবলম্বন করলে রোজার পবিত্রতা বজায় রেখেই ফরজ গোসল যথাযথভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব।
উত্তরদাতা
মুফতী নিজাম উদ্দিন আল আদনান
মুহতামিম, জামিয়াতুল কোরআন, ঢাকা
আরও পড়ুন-রোজা রেখে টুথপেস্ট ব্যবহার করলে কি রোজা ভেঙে যায়?
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









