রমজান মাস মুসলিম উম্মাহর জন্য এক অনন্য নিয়ামত ও রহমতের সময়। এটি শুধু রোজা রাখার মাস নয়—বরং আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন, সংযম ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক সুবর্ণ সুযোগ। এই মাসেই মানবজাতির হিদায়াতের গ্রন্থ পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে, যা রমজানকে আরও মর্যাদাবান করেছে।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন—
“রমজান মাস—যে মাসে কোরআন নাজিল করা হয়েছে, যা মানুষের জন্য হেদায়াত, সুপথের সুস্পষ্ট নিদর্শন এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে কেউ এ মাস পাবে, সে যেন অবশ্যই রোজা রাখে।”
(সুরা আল-বাকারা : ১৮৫)
এই আয়াত থেকেই স্পষ্ট—রমজান মাস শুধু ইবাদতের সময় নয়, বরং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য বিশেষ রহমত ও দয়ার ঘোষণা।
আরও পড়ুন-জুমার দিনে যে দোয়া পড়লে ৮০ বছরের গুনাহ মাফ হয়
রমজানের প্রথম রাতে আসমানি ঘোষণা—হাদিসের আলোকে
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—
“যখন রমজানের প্রথম রাত আসে, তখন দুষ্ট জিন ও শয়তানদের বন্দি করা হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়—একটিও খোলা রাখা হয় না। জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়—একটিও বন্ধ রাখা হয় না। আর একজন ঘোষক ঘোষণা করতে থাকে—
‘হে কল্যাণের প্রত্যাশী! অগ্রসর হও।
হে অকল্যাণের প্রার্থী! থেমে যাও।’
আর আল্লাহ তাআলা এই মাসে প্রতি রাতে অসংখ্য জাহান্নামিকে মুক্তি দান করেন।”
(সুনানে তিরমিজি : ৬৮২)
এই হাদিসে রমজানের প্রথম রাতেই আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে চারটি মহিমান্বিত ঘোষণা ও উপহারের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
✨ ১. শয়তান ও দুষ্ট জিনদের বন্দিত্ব
রমজানের প্রথম রাতেই দুষ্ট জিন ও শয়তানদের শৃঙ্খলিত করা হয়, যাতে তারা মুমিন বান্দাদের অন্তরে ওয়াসওয়াসা সৃষ্টি করতে না পারে।
➡️ এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বান্দাদের জন্য ইবাদতের পথ সহজ করে দেন।
➡️ নামাজ, রোজা, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকিরে মনোযোগ বাড়ে।
এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার প্রতি এক অসাধারণ অনুগ্রহ।
🔥➡️🌿 ২. জাহান্নামের দরজা বন্ধ, জান্নাতের দরজা উন্মুক্ত
রমজান মাসে—
-
জাহান্নামের সব দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
-
জান্নাতের সব দরজা খুলে দেওয়া হয়।
এর অর্থ কী?
🔒 জাহান্নামের দরজা বন্ধ মানে—পাপ ও অকল্যাণের পথ সংকুচিত করা।
🌸 জান্নাতের দরজা খোলা মানে—নেক আমল ও কল্যাণের সুযোগ বহুগুণে বাড়িয়ে দেওয়া।
এ মাসে সামান্য আমলেও বড় প্রতিদান দেওয়া হয়।
📣 ৩. আসমানি ঘোষকের আহ্বান
রমজানজুড়ে একজন ঘোষক আসমান থেকে ডাক দিতে থাকেন—
“হে কল্যাণের প্রত্যাশী! অগ্রসর হও।”
“হে অকল্যাণের প্রার্থী! থেমে যাও।”
এই ঘোষণা মূলত—
-
নেককার বান্দাদের উৎসাহিত করার জন্য।
-
গুনাহে লিপ্তদের সতর্ক করার জন্য।
রমজান হলো আত্মশুদ্ধির মাস। তাই এই মাসে আমাদের উচিত—
✅ ইবাদত বাড়ানো।
✅ গুনাহ কমানো।
✅ তওবা ও ইস্তিগফারে মনোযোগী হওয়া।
🕊️ ৪. প্রতি রাতে জাহান্নাম থেকে মুক্তি
রমজানের আরেকটি অতুলনীয় নিয়ামত হলো—
👉 প্রতিটি রাতে আল্লাহ তাআলা অসংখ্য বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন।
এটি প্রমাণ করে—
-
আল্লাহ কতটা দয়ালু।
-
তিনি বান্দার মুক্তি কতটা কামনা করেন।
রমজানের প্রতিটি রাতই হতে পারে আমাদের জীবনের মুক্তির রাত—শর্ত শুধু আন্তরিকতা।
🤲 আমাদের করণীয় কী?
রমজানের এই আসমানি ঘোষণাগুলো শুধু জানার জন্য নয়, বরং আমল করার জন্য।
✔️ নিয়মিত নামাজ।
✔️ কোরআন তিলাওয়াত।
✔️ দোয়া ও ইস্তিগফার।
✔️ দান-সদকা।
✔️ আত্মসংযম ও তাকওয়া।
এসব আমলের মাধ্যমে আমরা এই মাসের প্রকৃত বরকত অর্জন করতে পারি।
🌙 উপসংহার
রমজান মাস হলো আল্লাহর রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এর প্রথম রাতেই আসমান থেকে যে ঘোষণাগুলো দেওয়া হয়, তা আমাদের জন্য এক মহা সুসংবাদ ও সতর্কবার্তা—উভয়ই।
আসুন, আমরা সবাই এই রমজানকে জীবনের সেরা রমজান বানানোর চেষ্টা করি।
🤲 আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রমজানের হক আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
আরও পড়ুন-জুমার প্রথম ও দ্বিতীয় খুতবা
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔


