আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের নিয়ম(আপডেট)

February 17, 2026 12:34 PM
অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের নিয়ম আপডেট

বাংলাদেশে ভ্যাট নিবন্ধিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রতি মাসে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক। আগে এই প্রক্রিয়া ছিল কাগজপত্রভিত্তিক এবং সময়সাপেক্ষ। কিন্তু বর্তমানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উদ্যোগে পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনভিত্তিক করা হয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীরা এখন ঘরে বসেই ই-ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে পারেন।

অনেক করদাতা এখনো জানেন না—অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন কীভাবে জমা দিতে হয়, কোন কোন তথ্য লাগে, ফর্ম কীভাবে পূরণ করতে হয় বা সময়মতো দাখিল না করলে কী সমস্যা হতে পারে। এই ব্লগ পোস্টে আপডেট নিয়ম অনুযায়ী অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো।

আরও পড়ুন- জানুয়ারির ই ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ালো এনবিআর

ভ্যাট রিটার্ন কী

ভ্যাট রিটার্ন হলো নির্দিষ্ট মাসে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিক্রয়, ক্রয় ও প্রদেয় মূল্য সংযোজন কর (VAT) সংক্রান্ত হিসাব সরকারের কাছে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া। ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য এটি বাধ্যতামূলক।

ভ্যাট রিটার্ন কারা দাখিল করবেন

নিম্নোক্ত ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানগুলো ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করবেন—

  • ভ্যাট নিবন্ধিত কোম্পানি।

  • উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।

  • পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা।

  • সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান।

  • আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান।

ভ্যাট রিটার্ন কোন সংস্থা পরিচালনা করে

বাংলাদেশে ভ্যাট সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এনবিআরের অধীনে ই-ভ্যাট পোর্টাল চালু রয়েছে, যার মাধ্যমে অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়া যায়।

অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা

সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী—

📌 প্রতি মাসের রিটার্ন পরবর্তী মাসের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে হয়।
📌 নির্দিষ্ট সময় অতিক্রম করলে জরিমানা আরোপ হতে পারে।

তাই সময়মতো রিটার্ন দাখিল করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কত টাকা বিক্রি হলে ভ্যাট দিতে হবে

বাংলাদেশে ভ্যাট প্রদানের বিষয়টি ব্যবসার বার্ষিক টার্নওভার বা মোট বিক্রির পরিমাণের ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়। সাধারণভাবে, নির্দিষ্ট সীমার বেশি বার্ষিক বিক্রি হলে ব্যবসাকে ভ্যাট নিবন্ধন (মূসক নিবন্ধন) করতে হয় এবং নিয়মিত ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে হয়। বর্তমান আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করলে ব্যবসাকে পূর্ণাঙ্গ ভ্যাট নিবন্ধন নিতে হয় এবং নির্ধারিত হারে মূল্য সংযোজন কর প্রদান করতে হয়। ছোট ব্যবসার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকলে টার্নওভার কর প্রযোজ্য হতে পারে। তবে এই সীমা সময়ভেদে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।

কিভাবে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে হয়

বর্তমানে বাংলাদেশে ভ্যাট রিটার্ন সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক পদ্ধতিতে দাখিল করা হয়। প্রথমে ভ্যাট নিবন্ধিত ব্যবসাকে ই-ভ্যাট পোর্টালে লগইন করতে হয়, যেখানে বিইএন (BIN) নম্বর ও নিবন্ধিত ইউজার তথ্য ব্যবহার করা হয়। এরপর নির্দিষ্ট মাসের বিক্রয় ও ক্রয়ের হিসাব, ইনপুট ট্যাক্স, প্রদেয় ভ্যাট ইত্যাদি তথ্য ফর্মে পূরণ করতে হয়। সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভ্যাট হিসাব নির্ণয় করে। সব তথ্য যাচাই শেষে রিটার্ন সাবমিট করতে হয় এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ওটিপি যাচাইকরণ সম্পন্ন করতে হয়। সফলভাবে জমা হলে একটি কনফার্মেশন কপি বা রসিদ পাওয়া যায়, যা সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল না করলে জরিমানা আরোপ হতে পারে।

ভ্যাট সার্টিফিকেট করতে কোন কোন ডকুমেন্ট লাগে

ভ্যাট সার্টিফিকেট বা মূসক নিবন্ধনের জন্য ব্যবসার ধরন অনুযায়ী কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়। সাধারণত জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স, টিন (TIN) সনদ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঠিকানার প্রমাণপত্র, ব্যাংক হিসাবের তথ্য এবং ভাড়া চুক্তিপত্র (যদি ভাড়া প্রতিষ্ঠানে ব্যবসা পরিচালিত হয়) প্রয়োজন হয়। কোম্পানির ক্ষেত্রে মেমোরেন্ডাম ও আর্টিকেল অব অ্যাসোসিয়েশন বা নিবন্ধন সনদও লাগতে পারে। আবেদন অনলাইনে সম্পন্ন করা হয় এবং তথ্য যাচাই শেষে বিইএন (Business Identification Number) প্রদান করা হয়, যা ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের জন্য অপরিহার্য।

ভ্যাট ও ট্যাক্স এর মধ্যে পার্থক্য কি

ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) এবং ট্যাক্স—দুটি শব্দ প্রায়ই একসঙ্গে ব্যবহৃত হলেও এদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ট্যাক্স হলো সরকারের আরোপিত সাধারণ কর, যা আয়কর, সম্পদ কর বা অন্যান্য প্রত্যক্ষ করের মাধ্যমে আদায় করা হয়। অন্যদিকে ভ্যাট হলো পরোক্ষ কর, যা পণ্য বা সেবার ওপর আরোপ করা হয় এবং চূড়ান্ত ভোক্তা তা বহন করে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভ্যাট সংগ্রহ করে সরকারের কাছে জমা দেয়। সহজভাবে বলতে গেলে, আয়কর ব্যক্তির আয় থেকে কাটা হয়, আর ভ্যাট পণ্য বা সেবা ক্রয়ের সময় যুক্ত হয়। অর্থাৎ সব ভ্যাটই ট্যাক্সের অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু সব ট্যাক্স ভ্যাট নয়।

অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের ধাপসমূহ (আপডেট)

নিচে ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়া তুলে ধরা হলো—

ধাপ–১: ই-ভ্যাট পোর্টালে প্রবেশ

প্রথমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অফিসিয়াল ই-ভ্যাট পোর্টালে প্রবেশ করুন।ই ভ্যাট রিটার্ন অনলাইনে দেওয়ার উপায়

ধাপ–২: লগইন করুন

আপনার—

  • বিইএন (BIN) নম্বর।

  • ইউজার আইডি।

  • পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন।যদি নতুন হন, তাহলে আগে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।

ধাপ–৩: রিটার্ন ফর্ম নির্বাচন

লগইন করার পর ড্যাশবোর্ডে গিয়ে সংশ্লিষ্ট মাসের ভ্যাট রিটার্ন ফর্ম নির্বাচন করুন।

সাধারণত মাসভিত্তিক ফর্ম দেওয়া থাকে।

ধাপ–৪: বিক্রয় তথ্য প্রদান

এখানে উল্লেখ করতে হবে—

  • মোট বিক্রির পরিমাণ।

  • করযোগ্য বিক্রয়।

  • ভ্যাটের হার।

  • প্রদেয় ভ্যাটের হিসাব।

সব তথ্য সঠিকভাবে ইনপুট দিতে হবে।

ধাপ–৫: ক্রয় ও ইনপুট ট্যাক্স তথ্য প্রদান

এই ধাপে দিতে হবে—

  • মোট ক্রয়ের পরিমাণ।

  • ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট।

  • সমন্বয়যোগ্য ভ্যাট।

এখানে ভুল হলে পরবর্তীতে সমস্যা হতে পারে।

ধাপ–৬: হিসাব যাচাই

সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদেয় ভ্যাট হিসাব করবে।

এসময় নিশ্চিত করুন—

  • মোট প্রদেয় ভ্যাট সঠিক হয়েছে।

  • পূর্বের বকেয়া থাকলে তা যুক্ত হয়েছে।

  • অতিরিক্ত বা ভুল তথ্য নেই।

ধাপ–৭: রিটার্ন সাবমিট

সব তথ্য যাচাই শেষে সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন।অনেক ক্ষেত্রে ওটিপি যাচাইকরণ প্রয়োজন হতে পারে।

ধাপ–৮: কনফার্মেশন ও রসিদ সংগ্রহ

সফলভাবে রিটার্ন জমা হলে একটি কনফার্মেশন কপি বা রসিদ পাওয়া যাবে।এটি ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করুন।

রিটার্ন দাখিলের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য

  • বিইএন (Business Identification Number)

  • মাসিক বিক্রয় রেজিস্টার।

  • ক্রয় রেজিস্টার।

  • ইনপুট ট্যাক্স তথ্য।

  • ব্যাংক পরিশোধ সংক্রান্ত তথ্য।

সময়মতো রিটার্ন না দিলে কী হবে

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল না করলে—

  • নির্দিষ্ট পরিমাণ জরিমানা।

  • সুদ আরোপ।

  • প্রশাসনিক ব্যবস্থা।

  • ভবিষ্যতে লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতা।

তাই সময়মতো রিটার্ন দাখিল করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

ভ্যাট রিটার্ন দাখিলে সাধারণ সমস্যা ও সমাধান

সমস্যা: লগইন করতে পারছি না

সমাধান: পাসওয়ার্ড রিসেট করুন।

সমস্যা: ওটিপি আসছে না

সমাধান: মোবাইল নম্বর সঠিক আছে কি না যাচাই করুন।

সমস্যা: সিস্টেম ডাউন

সমাধান: কিছু সময় পরে আবার চেষ্টা করুন।

ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সুবিধা

  • দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া।

  • অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।

  • কাগজপত্রের ঝামেলা কম।

  • অনলাইনে হিসাব সংরক্ষণ।

প্রশ্ন–উত্তর 

প্রশ্ন: প্রতি মাসে রিটার্ন দিতে হয় কি?
উত্তর: হ্যাঁ, ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানকে প্রতি মাসে রিটার্ন দাখিল করতে হয়।

প্রশ্ন: রিটার্ন না দিলেও কি ব্যবসা চলবে?
উত্তর: না, আইনি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

প্রশ্ন: অনলাইনে দেওয়া রিটার্ন কি বৈধ?
উত্তর: হ্যাঁ, এটি সম্পূর্ণ সরকারি ও বৈধ পদ্ধতি।

উপসংহার

অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল ব্যবস্থা বাংলাদেশের কর ব্যবস্থাকে আধুনিক ও স্বচ্ছ করেছে। ব্যবসায়ীদের উচিত সময়মতো ও সঠিক তথ্য দিয়ে রিটার্ন দাখিল করা, যাতে ভবিষ্যতে জরিমানা বা প্রশাসনিক জটিলতায় না পড়তে হয়। ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করে এখন সহজেই ঘরে বসে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা সম্ভব।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

আরও পড়ুন-টিন সার্টিফিকেট কি?টিন সার্টিফিকেট কি কাজে লাগে

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

Sanaul Bari

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। আমি মোঃ সানাউল বারী। পেশায় আমি একজন চাকরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। চাকরির পাশাপাশি, আমি গত ১৪ বছর ধরে আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটে লেখালেখি করছি এবং আমার নিজস্ব ইউটিউব এবং ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করছি। বিশেষ দ্রষ্টব্য - লেখায় যদি কোনও ভুল থাকে, তাহলে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। ধন্যবাদ।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now