আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

অনলাইনে মৃত্যু নিবন্ধন আবেদনের নিয়ম (আপডেট)

বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধনের মতোই মৃত্যু নিবন্ধন সনদ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দলিল। কোনো ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর তার মৃত্যু নিবন্ধন না করলে জমি-জমা হস্তান্তর, উত্তরাধিকার সনদ, ব্যাংক হিসাব বন্ধ, পেনশন, ভাতা কিংবা পারিবারিক নানা আইনি কাজে বড় ধরনের জটিলতা দেখা দেয়। অথচ অনেক পরিবারই জানে না—অনলাইনে খুব সহজেই মৃত্যু নিবন্ধনের আবেদন করা যায়।

আগে মৃত্যু নিবন্ধনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি করপোরেশনে বারবার যেতে হতো। কিন্তু এখন বাংলাদেশ সরকার ডিজিটাল সেবার অংশ হিসেবে অনলাইনে মৃত্যু নিবন্ধন আবেদন ব্যবস্থা চালু করেছে। এই পোস্টে আমরা আপডেট তথ্য অনুযায়ী জানবো—

আরও পড়ুন-অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই

মৃত্যু নিবন্ধন কী এবং কেন জরুরি?

মৃত্যু নিবন্ধন হলো সরকারি রেকর্ডে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা। এই সনদের মাধ্যমে সরকারিভাবে প্রমাণ হয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আর জীবিত নেই।

মৃত্যু নিবন্ধন জরুরি কারণ—

  • উত্তরাধিকার সনদ করতে লাগে।

  • জমি ও সম্পত্তি হস্তান্তরে প্রয়োজন।

  • ব্যাংক হিসাব বন্ধ করতে লাগে।

  • পেনশন বা ভাতা বন্ধ/হস্তান্তরে প্রয়োজন।

  • আইনি ও পারিবারিক বিরোধ এড়ানো যায়।

বাংলাদেশে মৃত্যুর ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করা উত্তম।

অনলাইনে মৃত্যু নিবন্ধন আবেদন বলতে কী বোঝায়?

অনলাইনে মৃত্যু নিবন্ধন আবেদন বলতে বোঝায়—

👉 ঘরে বসেই সরকারি ওয়েবসাইটে গিয়ে।
👉 মৃত ব্যক্তির তথ্য দিয়ে।
👉 নির্ধারিত ফরম পূরণ করে।
👉 মৃত্যু নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা।

এরপর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ / পৌরসভা / সিটি করপোরেশন আবেদন যাচাই করে সনদ ইস্যু করে।

কারা অনলাইনে মৃত্যু নিবন্ধনের আবেদন করতে পারবেন?

সাধারণত আবেদন করতে পারেন—

  • মৃত ব্যক্তির সন্তান।

  • স্বামী বা স্ত্রী।

  • নিকট আত্মীয়।

  • পরিবারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য।

আবেদনকারীকে অবশ্যই মৃত ব্যক্তির সঠিক তথ্য জানাতে হবে।

অনলাইনে মৃত্যু নিবন্ধনের জন্য কী কী তথ্য প্রয়োজন?

অনলাইন ফরম পূরণ করার সময় সাধারণত নিচের তথ্যগুলো লাগে—

  • মৃত ব্যক্তির নাম (বাংলা ও ইংরেজি)।

  • পিতা ও মাতার নাম।

  • জন্ম তারিখ (যদি জানা থাকে)।

  • মৃত্যুর তারিখ।

  • মৃত্যুর স্থান।

  • মৃত ব্যক্তির স্থায়ী ঠিকানা।

  • আবেদনকারীর তথ্য ও সম্পর্ক।

তথ্য যত সঠিক হবে, আবেদন তত দ্রুত অনুমোদিত হবে।

অনলাইনে মৃত্যু নিবন্ধন আবেদনের নিয়ম (ধাপে ধাপে)

বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার ডিজিটাল সেবার আওতায় অনলাইনে মৃত্যু নিবন্ধন আবেদন করার সুযোগ চালু করেছে। ফলে ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি করপোরেশনে বারবার না গিয়েও ঘরে বসে আবেদন করা যায়। তবে প্রথমবার যারা আবেদন করছেন, তাদের কাছে পুরো প্রক্রিয়াটি কিছুটা জটিল মনে হতে পারে।

নিচে Beris.gov.bd পোর্টাল ব্যবহার করে অনলাইনে মৃত্যু নিবন্ধন আবেদন করার সম্পূর্ণ ও আপডেট ধাপগুলো সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো।

ধাপ–০১: জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন অনলাইন পোর্টালে প্রবেশ

প্রথমেই আপনার মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে বাংলাদেশ সরকারের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন—

👉 https://beris.gov.bd

ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে নিচের ছবির মতো একটি অফিসিয়াল হোমপেজ ইন্টারফেস দেখতে পাবেন, যেখানে বিভিন্ন মেনু ও সেবার অপশন থাকবে।

অনলাইনে মৃত্যু নিবন্ধন আবেদনের নিয়ম
 

👉 নিশ্চিত হোন, আপনি যেন ভুয়া কোনো ওয়েবসাইটে না ঢোকেন।

ধাপ–০২: “মৃত্যু নিবন্ধন” অপশন সিলেক্ট করুন

হোমপেজে প্রবেশ করার পর উপরের মেনু অপশন থেকে—

👉 “মৃত্যু নিবন্ধন” অপশনটি সিলেক্ট করুন।

এই অপশনে ক্লিক করলে মৃত্যু নিবন্ধন সংক্রান্ত সব সেবার তালিকা আপনার সামনে চলে আসবে।অনলাইনে মৃত্যু নিবন্ধন আবেদনের নিয়ম

ধাপ–০৩: “নতুন মৃত্যু নিবন্ধন আবেদন” অপশনে ক্লিক করুন

এখন সাব-মেনু থেকে—

👉 “নতুন মৃত্যু নিবন্ধন আবেদন” অপশনটিতে ক্লিক করুন।

এখানে ক্লিক করার পর আপনাকে লগইন নির্দেশনা (Login Instruction) পেজে নিয়ে যাবে।অনলাইনে মৃত্যু নিবন্ধন আবেদনের নিয়ম

ধাপ–০৪: লগইন করুন অথবা নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন

এই ধাপে তিনটি পরিস্থিতি হতে পারে—

✔ যদি আগে থেকেই অ্যাকাউন্ট থাকে

  • আপনার ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন।

✔ যদি অ্যাকাউন্ট না থাকে

  • “নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন” অপশনে ক্লিক করে

  • মোবাইল নম্বর, এনআইডি/তথ্য দিয়ে

  • নতুন করে একটি অ্যাকাউন্ট খুলুন।

✔ পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে

  • “পাসওয়ার্ড ভুলে গেছি (Forget Password)” অপশনে ক্লিক করুন

  • মোবাইলে আসা OTP কোড দিয়ে

  • নতুন পাসওয়ার্ড সেট করে নিন।

👉 লগইন ছাড়া নতুন মৃত্যু নিবন্ধন আবেদন করা যাবে না।

ধাপ–০৫: মৃত ব্যক্তির তথ্য পূরণ করুন

লগইন করার পর একটি ফরম আসবে। এখানে মৃত ব্যক্তির তথ্য খুব সতর্কভাবে পূরণ করতে হবে—

  • মৃত ব্যক্তির নাম (বাংলা ও ইংরেজি)

  • পিতা ও মাতার নাম

  • জন্ম তারিখ (যদি জানা থাকে)

  • মৃত্যুর তারিখ (অবশ্যই সঠিক হতে হবে)

  • মৃত্যুর স্থান (বাড়ি / হাসপাতাল / বিদেশ)

  • স্থায়ী ঠিকানা

⚠️ এখানে কোনো তথ্য অনুমান করে লেখা যাবে না।

ধাপ–০৬: আবেদনকারীর তথ্য দিন

এখন আবেদনকারীর তথ্য দিতে হবে—

  • আবেদনকারীর নাম

  • মৃত ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক (পুত্র/কন্যা/স্বামী/স্ত্রী ইত্যাদি)

  • জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর (যদি থাকে)

  • মোবাইল নম্বর

এই তথ্যের ভিত্তিতেই প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করবে।

ধাপ–০৭: তথ্য যাচাই (Review) করুন

ফরম পূরণ শেষ হলে সাবমিট করার আগে—

  • নামের বানান

  • তারিখ

  • ঠিকানা

  • সম্পর্ক

সবকিছু ভালোভাবে মিলিয়ে দেখুন

👉 একবার সাবমিট হলে ভুল সংশোধন করতে আলাদা আবেদন করতে হয়।

ধাপ–০৮: আবেদন সাবমিট করুন

সব তথ্য ঠিক থাকলে—

👉 Submit / আবেদন জমা দিন বাটনে ক্লিক করুন।

সফলভাবে আবেদন জমা হলে আপনাকে একটি—

আবেদন নম্বর / Tracking ID দেওয়া হবে।

👉 এই নম্বরটি স্ক্রিনশট বা লিখে সংরক্ষণ করে রাখুন।

ধাপ–০৯: স্থানীয় অফিসে যাচাই ও অনুমোদন

অনলাইন আবেদন জমা দেওয়ার পর—

  • সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ / পৌরসভা / সিটি করপোরেশন।

  • আবেদনটি যাচাই করবে

  • প্রয়োজনে আবেদনকারীকে অফিসে ডাকতে পারে

সবকিছু ঠিক থাকলে মৃত্যু নিবন্ধন অনুমোদন দেওয়া হবে।

ধাপ–১০: মৃত্যু নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ

আবেদন অনুমোদন হওয়ার পর—

  • অনলাইনে মৃত্যু নিবন্ধনের তথ্য দেখা যাবে।
  • মূল মৃত্যু সনদ সাধারণত ইউনিয়ন পরিষদপৌরসভাসিটি করপোরেশন থেকে সংগ্রহ করতে হয়।

সনদে চেয়ারম্যান/কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর ও সিল থাকলে সেটি সম্পূর্ণ বৈধ হয়।

মৃত্যু সনদ করতে কি কি লাগে?

অনলাইনে আবেদন করতে সাধারণত কাগজ আপলোড বাধ্যতামূলক নয়, তবে যাচাইয়ের সময় অফিসে নিচের কাগজ চাইতে পারে—

  • মৃত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র (যদি থাকে)।

  • হাসপাতালের মৃত্যু সনদ (যদি থাকে)।

  • কবরস্থানের সনদ / প্রত্যয়ন।

  • আবেদনকারীর NID।

এগুলো থাকলে আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি হয়।

অনলাইনে মৃত্যু নিবন্ধন করতে কত সময় লাগে?

সাধারণত—

  • আবেদন যাচাই ও অনুমোদন: ৭–১৫ কার্যদিবস।

  • জটিল ক্ষেত্রে: ১৫–৩০ কার্যদিবস।

সময় এলাকা ও অফিসভেদে কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।

মৃত্যু নিবন্ধন করতে কি কোনো ফি লাগে?

সাধারণভাবে—

  • নির্ধারিত সময়ের মধ্যে করলে: ফি খুব কম বা ফ্রি।

  • দীর্ঘদিন পর করলে: নামমাত্র ফি লাগতে পারে

⚠️ সরকারি ফি ছাড়া অতিরিক্ত টাকা দাবি করলে সেটি অনিয়ম।

অনলাইনে মৃত্যু নিবন্ধনে যেসব ভুল এড়াবেন

বাংলাদেশে সাধারণত যেসব ভুল বেশি হয়—

  • ভুল বানান লেখা

  • মৃত্যুর তারিখে গরমিল

  • ভুল ঠিকানা নির্বাচন

  • আবেদন নম্বর সংরক্ষণ না করা

  • দালালের সাহায্য নেওয়া

এসব ভুল করলে আবেদন বাতিল বা বিলম্বিত হতে পারে।

মৃত্যু সনদ ডাউনলোড করার নিয়ম

মৃত্যু নিবন্ধন আবেদন অনুমোদন হয়ে গেলে অনেকেই জানতে চান—মৃত্যু সনদ অনলাইন থেকে কীভাবে ডাউনলোড করবেন। বর্তমানে বাংলাদেশে মৃত্যু সনদের তথ্য অনলাইনে দেখা ও যাচাই করা যায়, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অফিসিয়াল মূল কপি ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি করপোরেশন থেকেই সংগ্রহ করতে হয়।

ডাউনলোড বা অনলাইন কপি দেখার সাধারণ নিয়ম হলো—

  • জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের নির্ধারিত সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।

  • “মৃত্যু নিবন্ধন যাচাই / চেক” অপশনে যেতে হবে।

  • মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন নম্বর বা মৃত্যু নিবন্ধন নম্বর দিতে হবে।

  • জন্ম তারিখ বা মৃত্যুর তারিখ দিয়ে যাচাই করতে হবে।

যাচাই সফল হলে অনলাইনে মৃত্যু সনদের তথ্য দেখা যায়। এটি মূলত ভেরিফিকেশন কপি, যা অফিসিয়াল কাজে মূল কপির বিকল্প নয়।

ইউনিয়ন পরিষদের মৃত্যু সনদ কীভাবে পাওয়া যায়?

গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী নাগরিকদের জন্য মৃত্যু সনদ ইস্যুর প্রধান কর্তৃপক্ষ হলো ইউনিয়ন পরিষদ। অনলাইনে আবেদন করার পর চূড়ান্ত সনদ সাধারণত এখান থেকেই দেওয়া হয়।

ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মৃত্যু সনদ পাওয়ার ধাপ—

  • অনলাইনে মৃত্যু নিবন্ধন আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।

  • আবেদন অনুমোদনের নোটিফিকেশন আসার পর।

  • সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদে সরাসরি উপস্থিত হতে হবে।

  • আবেদন নম্বর বা প্রয়োজনীয় তথ্য জানাতে হবে।

  • নির্ধারিত রেজিস্টারে তথ্য মিলিয়ে সনদ ইস্যু করা হয়।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা সচিবের স্বাক্ষর ও সিল থাকলেই মৃত্যু সনদটি আইনগতভাবে বৈধ হয়।

মৃত্যু সনদ অনলাইন চেক করার নিয়ম

মৃত্যু সনদ অনলাইন চেক করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে—

  • সনদটি আসল কি না বোঝা যায়।

  • তথ্য ঠিক আছে কি না যাচাই করা যায়।

  • ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা কমে।

অনলাইন চেক করার জন্য সাধারণত যা প্রয়োজন—

  • মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন নম্বর।

  • অথবা মৃত্যু নিবন্ধন নম্বর।

  • জন্ম তারিখ / মৃত্যুর তারিখ।

এই তথ্য দিয়ে সরকারি ওয়েবসাইটে চেক করলে সংশ্লিষ্ট মৃত্যু সনদের তথ্য স্ক্রিনে দেখা যায়। কোনো তথ্য ভুল থাকলে দ্রুত সংশোধনের আবেদন করা যায়।

মৃত্যু সনদ লেখার নিয়ম

মৃত্যু সনদ লেখার সময় বা অনলাইন ফরম পূরণের সময় খুব সতর্ক থাকতে হয়। কারণ একবার ভুল হলে পরে সংশোধনে সময় ও ঝামেলা বাড়ে।

মৃত্যু সনদ লেখার সময় যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন—

  • মৃত ব্যক্তির নাম জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী লিখতে হবে।

  • পিতা ও মাতার নাম সঠিক বানানে দিতে হবে।

  • মৃত্যুর তারিখ অবশ্যই প্রকৃত তারিখ হতে হবে।

  • মৃত্যুর স্থান (বাড়ি/হাসপাতাল/বিদেশ) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

  • ঠিকানা জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধনের সাথে মিল রাখতে হবে।

👉 কোনো তথ্য আন্দাজে লেখা যাবে না। কারণ মৃত্যু সনদ একটি আইনি দলিল

মৃত্যু সনদ প্রত্যয়ন পত্র কী এবং কেন প্রয়োজন?

মৃত্যু সনদ প্রত্যয়ন পত্র হলো একটি অতিরিক্ত প্রত্যয়ন, যেখানে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সত্যিই মারা গেছেন।

মৃত্যু সনদ প্রত্যয়ন পত্র সাধারণত প্রয়োজন হয়—

  • জমি বা সম্পত্তি হস্তান্তরের সময়।

  • উত্তরাধিকার সনদ তৈরির ক্ষেত্রে।

  • ব্যাংক হিসাব বন্ধ বা টাকা উত্তোলনের সময়।

  • আদালতে মামলা সংক্রান্ত কাজে।

এই প্রত্যয়ন পত্র সাধারণত—

  • ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

  • পৌরসভার মেয়র।

  • সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর।

দ্বারা প্রদান করা হয় এবং এতে সরকারি সিল ও স্বাক্ষর থাকে।

প্রশ্ন ও উত্তর

অনলাইনে মৃত্যু নিবন্ধন আবেদন কি বাধ্যতামূলক?

না, তবে অনলাইনে করলে কাজ সহজ হয়।

কতদিনের মধ্যে মৃত্যু নিবন্ধন করা উচিত?

মৃত্যুর ৪৫ দিনের মধ্যে করা উত্তম।

বিদেশে মৃত্যু হলে নিবন্ধন করা যাবে?

হ্যাঁ, প্রয়োজনীয় প্রমাণ থাকলে করা যায়।

অনলাইনে আবেদন করে কি সনদ ডাউনলোড করা যায়?

অনুমোদনের পর অনলাইনে কপি দেখা যায়, মূল কপি অফিস থেকে নিতে হয়।

ভুল হলে কি সংশোধন করা যাবে?

হ্যাঁ, সংশোধনের আবেদন করা যায়।

আবেদন বাতিল হলে কী করবেন?

সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করে পুনরায় আবেদন করতে হবে।

উপসংহার

অনলাইনে মৃত্যু নিবন্ধন আবেদনের নিয়ম এখন অনেক সহজ ও নাগরিকবান্ধব। সঠিক তথ্য দিয়ে অনলাইনে আবেদন করলে ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি করপোরেশনে অযথা দৌড়াদৌড়ি করতে হয় না। পরিবারে কেউ মারা গেলে শোকের পাশাপাশি আইনি ঝামেলা এড়াতে যত দ্রুত সম্ভব মৃত্যু নিবন্ধন সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি

সঠিক নিয়ম জানলে, অফিসিয়াল প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে এবং দালাল এড়িয়ে চললে মৃত্যু নিবন্ধন একটি সহজ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করা যায়।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

আরও পড়ুন-জন্ম নিবন্ধন বাংলা থেকে ইংরেজি করার নিয়ম

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। আমি মোঃ সানাউল বারী। পেশায় আমি একজন চাকরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। চাকরির পাশাপাশি, আমি গত ১৪ বছর ধরে আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটে লেখালেখি করছি এবং আমার নিজস্ব ইউটিউব এবং ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করছি। বিশেষ দ্রষ্টব্য - লেখায় যদি কোনও ভুল থাকে, তাহলে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। ধন্যবাদ।