বাংলাদেশে নতুন জন্ম নিবন্ধন সনদ এখন সম্পূর্ণ অনলাইন আবেদনের মাধ্যমে করা যায়। নির্ধারিত সরকারি ওয়েবসাইটে সঠিক তথ্য দিয়ে ফরম পূরণ, আবেদন প্রিন্ট এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্থানীয় কার্যালয়ে যাচাই সম্পন্ন করলেই সনদ সংগ্রহ সম্ভব। সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, অনলাইনে আবেদন করার পর ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রিন্ট কপি জমা না দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
জন্ম নিবন্ধন একটি শিশুর প্রথম সরকারি পরিচয় দলিল। স্কুলে ভর্তি, পাসপোর্ট আবেদন, জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি, ব্যাংকিং সেবা এবং সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আবেদন করার আগে পুরো প্রক্রিয়া সঠিকভাবে জানা জরুরি।
আরও পড়ুন-ভুয়া জন্ম নিবন্ধন চেনার উপায়
অনলাইনে জন্ম নিবন্ধনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করতে হবে শুধুমাত্র সরকারি পোর্টালে।
আবেদন লিংক:
👉 https://bdris.gov.bd/br/application
👉 https://birthregistration.gov.bd
এই দুইটি ওয়েবসাইটই সরকারি এবং একই সিস্টেমের অংশ। আবেদন করার সময় অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে ওয়েবসাইটের শেষে .gov.bd রয়েছে।
ধাপে ধাপে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদন করার নিয়ম
ধাপ ১: ওয়েবসাইটে প্রবেশ ও নতুন আবেদন নির্বাচন
-
ব্রাউজারে https://bdris.gov.bd/br/application লিখে প্রবেশ করুন “নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন” অপশন নির্বাচন করুন । কোন ঠিকানা থেকে জন্ম নিবন্ধন করতে চান? তা নির্বাচন করবেন এখানে দুটি অপশন আছে একটা জন্মস্থান, আর একটা স্থায়ী ঠিকানা এবং যারা বাংলাদেশের দূতাবাসে জন্ম নিবন্ধন আবেদন করতে চান সেটিও এখানে রয়েছে।

ধাপ ২: জন্মস্থান বা স্থায়ী ঠিকানা নির্বাচন
আবেদনকারীর জন্মস্থান বা স্থায়ী ঠিকানা অনুযায়ী নির্বাচন করতে হবে—
-
বিভাগ
-
জেলা
-
উপজেলা
-
সিটি কর্পোরেশন / পৌরসভা / ইউনিয়ন পরিষদ
যে অফিস নির্বাচন করবেন, যাচাই ও সনদ প্রদান সেই কার্যালয় থেকেই হবে।
ধাপ ৩: ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ
ফরমে নিচের তথ্যগুলো নির্ভুলভাবে দিতে হবে—
-
নাম (বাংলা)
-
নাম (ইংরেজি)
-
জন্ম তারিখ
-
লিঙ্গ
-
জন্মস্থান
-
জাতীয়তা
-
পিতা-মাতার নাম
-
পিতা-মাতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর বা জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর
-
বর্তমান ঠিকানা
-
স্থায়ী ঠিকানা
সব তথ্য জন্মসনদ, হাসপাতালের নথি বা পিতা-মাতার পরিচয়পত্র অনুযায়ী মিলিয়ে পূরণ করতে হবে।
ধাপ ৪ :- পিতা – মাতার তথ্য
এধাপে পিতা-মাতার জন্ম নিবন্ধন, জন্ম তারিখ, নাম, মাতার জাতীয়তা, এই সকল ইনফরমেশন দিতে হবে।
ধাপ ৫: আবেদন সাবমিট ও প্রিন্ট
-
তথ্য যাচাই করে “সাবমিট” করুন।
-
আবেদন নম্বর সংগ্রহ করুন।
-
আবেদন ফরমটি প্রিন্ট করুন।
প্রিন্ট কপি সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক।
ধাপ ৫: ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে কাগজপত্র জমা
আবেদন প্রিন্ট করার পর—
-
১৫ কার্যদিবসের মধ্যে নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদ / পৌরসভা / সিটি কর্পোরেশন অফিসে যেতে হবে । সঙ্গে নিতে হবে:
-
আবেদন প্রিন্ট কপি।
-
পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র।
-
পিতা-মাতার জন্ম নিবন্ধন সনদ।
-
টিকার কার্ড (৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য)।
-
ঠিকানার প্রমাণপত্র।
যাচাই শেষে নির্ধারিত সময়ে সনদ সংগ্রহ করা যাবে।
জন্ম নিবন্ধন অনলাইন যাচাই করার নিয়ম
জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি হওয়ার পর তা অনলাইনে যাচাই করা যায়।
যাচাই লিংক:
👉 https://everify.bdris.gov.bd
যাচাই করার জন্য প্রয়োজন—
-
জন্ম নিবন্ধন নম্বর।
-
জন্ম তারিখ।
সঠিক তথ্য দিলে সঙ্গে সঙ্গে অনলাইনে রেকর্ড প্রদর্শিত হবে। স্কুল ভর্তি, পাসপোর্ট আবেদন ও সরকারি সেবায় এই অনলাইন যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের নিয়ম
নাম, জন্মতারিখ বা পিতা-মাতার তথ্য ভুল হলে অনলাইনে সংশোধনের আবেদন করা যায়।
সংশোধন আবেদন লিংক:
👉 https://bdris.gov.bd/br/correction
সংশোধনের ক্ষেত্রে—
-
সংশোধনের কারণ উল্লেখ করতে হয়।
-
প্রমাণপত্র আপলোড করতে হয়।
-
নির্ধারিত ফি প্রযোজ্য হতে পারে।
যাচাই শেষে সংশোধিত সনদ প্রদান করা হয়।
জন্ম নিবন্ধন ফি সম্পর্কিত তথ্য
-
জন্মের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করলে সাধারণত কোনো ফি লাগে না।
-
বিলম্বিত আবেদন হলে সরকারি নির্ধারিত ফি প্রযোজ্য হতে পারে।
-
সংশোধন বা ডুপ্লিকেট কপি সংগ্রহে ফি দিতে হতে পারে।
ফি সংক্রান্ত তথ্য স্থানীয় কার্যালয়ে নিশ্চিত করা উচিত।
শিশু জন্মের কত দিনের মধ্যে নিবন্ধন করা উচিত
আইন অনুযায়ী জন্মের পর দ্রুত নিবন্ধন করা উত্তম। জন্মের পরপরই নিবন্ধন করলে—
-
স্কুলে ভর্তি সহজ হয়।
-
টিকাদান কর্মসূচিতে সমস্যা হয় না।
-
ভবিষ্যতে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরিতে জটিলতা কমে।
বিলম্বিত নিবন্ধনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই প্রক্রিয়া হতে পারে।
ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধনের গুরুত্ব
বর্তমানে জন্ম নিবন্ধন তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে সংরক্ষিত হয়। এর ফলে—
-
দেশের যেকোনো স্থান থেকে তথ্য যাচাই সম্ভব।
-
জাল সনদের ঝুঁকি কমে।
-
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
-
ভবিষ্যতে জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট তৈরিতে তথ্য সমন্বয় সহজ হয়
ডিজিটাল সিস্টেম চালু হওয়ায় নাগরিক সেবা আরও আধুনিক ও দ্রুত হয়েছে।
জন্ম নিবন্ধন দিয়ে কী কী কাজ করা যায়
জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রয়োজন হয়—
-
স্কুল ও কলেজে ভর্তি।
-
পাসপোর্ট আবেদন।
-
জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি।
-
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা।
-
সরকারি ভাতা গ্রহণ।
-
বিদেশে উচ্চশিক্ষা আবেদন।
এ কারণে জন্ম নিবন্ধন সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও হালনাগাদ রাখা জরুরি।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
-
আবেদন করার পর ১৫ দিনের মধ্যে প্রিন্ট কপি জমা না দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
-
শুধুমাত্র সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন।
-
ভুল তথ্য প্রদান করবেন না।
-
আবেদন নম্বর সংরক্ষণ করুন।
-
দালাল এড়িয়ে সরাসরি অফিসে যোগাযোগ করুন।
উপসংহার
অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন করার প্রক্রিয়া এখন সহজ, স্বচ্ছ ও ডিজিটালভিত্তিক। নির্ধারিত সরকারি ওয়েবসাইটে আবেদন, তথ্য যাচাই, প্রিন্ট কপি জমা এবং সময়মতো কাগজপত্র প্রদান করলে দ্রুত সনদ সংগ্রহ করা যায়। জন্মের পর যত দ্রুত সম্ভব নিবন্ধন সম্পন্ন করলে ভবিষ্যতে শিক্ষা, পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ সব নাগরিক সেবায় সুবিধা পাওয়া যায়।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-জন্ম নিবন্ধন বাংলা থেকে ইংরেজি করার নিয়ম
👉টেক নিউজের সকল খবর সবার আগে পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










