দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্যোগের অংশ হিসেবে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস চালুর সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। এ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল পেরেন্টস ফোরাম। সংগঠনটি বলছে, এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক—উভয়ের ওপরই বাড়তি চাপ তৈরি হবে এবং শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরও পড়ুন-এসএসসি পরীক্ষায় যশোর বোর্ডে ১৯ কেন্দ্র বাতিল, যুক্ত হলো নতুন ১৯ টি কেন্দ্র
সংগঠনটির সভাপতি এ কে এম আশরাফুল হক এক লিখিত বিবৃতিতে এই উদ্বেগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ পরিবারগুলো ইতোমধ্যে চাপে রয়েছে। এর মধ্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ ও প্রয়োজনীয় ডিভাইসের খরচ যোগ হলে তা অভিভাবকদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অধিকাংশ কর্মজীবী অভিভাবকের পক্ষে দিনের বেলায় সন্তানের অনলাইন ক্লাস তদারকি করা প্রায় অসম্ভব। ফলে শিক্ষার্থীরা ঠিকভাবে পাঠগ্রহণ করতে পারবে না এবং শিক্ষার ধারাবাহিকতায় বিঘ্ন ঘটতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে অনলাইন ক্লাস চালুর পরিবর্তে বিকল্প কিছু প্রস্তাব দিয়েছে অভিভাবক সংগঠনটি। তারা ‘৩+৩’ মডেল বাতিলের আহ্বান জানিয়ে সপ্তাহে চার দিন সশরীরে ক্লাস চালু রাখার এবং বাকি তিন দিন সম্পূর্ণ ছুটি ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং একই সঙ্গে যাতায়াত খরচ ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয় সম্ভব হবে।
এছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যুৎ খরচ কমাতে আরও কিছু বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—প্রতিদিনের ক্লাসের সময় কিছুটা কমিয়ে আনা, শ্রেণিকক্ষে এসির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা এবং প্রাকৃতিক আলো-বাতাসের ব্যবহার বাড়ানো। এসব উদ্যোগ গ্রহণ করলে অনলাইন ক্লাসে না গিয়েও বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব বলে মনে করেন অভিভাবকরা।
বিবৃতিতে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশেষ উদ্বেগও প্রকাশ করা হয়েছে। সামনে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ‘ও’ লেভেল ও ‘এ’ লেভেল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পাশাপাশি মে মাসে সাধারণ ধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সেশন ফাইনাল পরীক্ষাও রয়েছে। এই সময় সশরীরে ক্লাস বন্ধ হয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা।
তারা আরও বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে কোনো ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি না করে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিকল্প পথ খুঁজে বের করা জরুরি। শিক্ষা ও সাশ্রয়—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, অনলাইন ক্লাস চালুর প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে অভিভাবকদের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা করে একটি কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন-ডিপ্লোমা কোর্স ৪ থেকে ৩ বছর করার চিন্তা, দ্রুত বাস্তবায়নে জোর
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔








