বর্তমান সময়ে চাকরির বাজার কঠিন হয়ে পড়ায় “বেকার ভাতা অনলাইনে আবেদন” বিষয়টি বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে সার্চ করা হচ্ছে। কিন্তু অনেকেই জানেন না—বাংলাদেশে আদৌ সরকারিভাবে বেকার ভাতা আছে কিনা, থাকলে কীভাবে আবেদন করতে হয়।
আরও পড়ুন- টিসিবি স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড আবেদন করার নিয়ম ২০২৬(অনলাইন)
এই পোস্টে আমরা জানবো—
-
বাংলাদেশে বেকার ভাতা আছে কি না।
-
সরকার কোন কোন কর্মসূচির মাধ্যমে বেকারদের সহায়তা দেয়।
-
অনলাইনে কীভাবে আবেদন করা যায়।
-
কারা আবেদন করতে পারবেন।
-
প্রতারণা থেকে কীভাবে বাঁচবেন।
বাংলাদেশে কি সরকারিভাবে বেকার ভাতা চালু আছে?
👉 সংক্ষিপ্ত উত্তর: না।
২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ইউরোপ বা আমেরিকার মতো নিয়মিত “Unemployment Allowance / Unemployment Benefit” চালু হয়নি।
তবে সরকার বেকার ও কর্মহীন জনগোষ্ঠীর জন্য নিচের ধরনের সহায়তা প্রদান করে—
-
সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা
-
কর্মসংস্থানমূলক ভাতা
-
প্রশিক্ষণ ভাতা
-
অস্থায়ী কর্মসূচির আওতায় সম্মানী
এই কর্মসূচিগুলোই মূলত মানুষ “বেকার ভাতা” নামে চিনে থাকে।
সরকারিভাবে বেকারদের জন্য যে অনলাইন কর্মসূচিগুলো আছে
১️⃣ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি (SSNP)
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় পরিচালিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে সহায়তা পান—
-
কর্মহীন দরিদ্র ব্যক্তি
-
অসচ্ছল পরিবার
-
বিধবা / স্বামী পরিত্যক্ত নারী
-
প্রতিবন্ধী ব্যক্তি
🔹 অনলাইন আবেদন পোর্টাল:
👉 https://ssnp.gov.bd
আবেদন পদ্ধতি:
-
ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
-
“অনলাইন আবেদন” অপশনে ক্লিক করুন।
-
NID অনুযায়ী তথ্য পূরণ করুন।
-
প্রয়োজনীয় ভাতা নির্বাচন করুন।
-
আবেদন সাবমিট করুন।
২️⃣ কর্মসংস্থান সৃষ্টি কর্মসূচি (EGPP)
এটি জনপ্রিয়ভাবে পরিচিত “৪০ দিনের কাজ” নামে।
✔ কাজের বিনিময়ে সম্মানী
✔ বেকার ও কর্মহীনদের অগ্রাধিকার
✔ সরকারি তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়ন
🔹 আবেদন মাধ্যম:
-
ইউনিয়ন পরিষদ
-
পৌরসভা
-
অনেক এলাকায় ডিজিটাল তালিকাভুক্তি
সরাসরি কেন্দ্রীয় অনলাইন ফর্ম নেই, তবে তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত হয়।
৩️⃣ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ভাতা
যারা বেকার যুবক/যুবতী—
-
ফ্রি প্রশিক্ষণ
-
প্রশিক্ষণকালীন ভাতা (নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে)
-
আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ
🔹 অনলাইন রেজিস্ট্রেশন:
👉 https://dydd.gov.bd
৪️⃣ শেখ হাসিনা জাতীয় কর্মসংস্থান কর্মসূচি
-
অস্থায়ী কর্মসংস্থান।
-
দারিদ্র্যপ্রবণ এলাকার মানুষ অগ্রাধিকার পায়।
-
কিছু ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ প্রদান।
অনলাইনে আবেদন করতে যেসব ডকুমেন্ট লাগে
-
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)।
-
মোবাইল নম্বর।
-
ঠিকানা ও পরিবার তথ্য।
-
ব্যাংক / মোবাইল ব্যাংকিং তথ্য (যদি প্রযোজ্য হয়)।
-
ছবি (কিছু ক্ষেত্রে)।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
✔ বাংলাদেশি নাগরিক।
✔ কর্মহীন বা স্বল্প আয়ের ব্যক্তি।
✔ সরকারি কর্মচারী নন।
✔ একই সময়ে একাধিক ভাতা গ্রহণ করছেন না।
ভুয়া “বেকার ভাতা” বিজ্ঞাপন থেকে সতর্ক থাকুন
❌ “আজই অনলাইনে বেকার ভাতা ৫,০০০ টাকা”
❌ “মাত্র ২০০ টাকা দিলে আবেদন করে দেব”
❌ ফেসবুক/ইউটিউব লিংকে NID চাওয়া
👉 সরকার কখনো টাকা দিয়ে আবেদন করতে বলে না।
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন–উত্তর
❓ বাংলাদেশে কি মাসিক বেকার ভাতা চালু হবে?
বর্তমানে আলোচনায় থাকলেও সরকারিভাবে এখনো ঘোষণা নেই।
❓ একাধিক ভাতার জন্য আবেদন করা যাবে?
না, সাধারণত একজন একটির বেশি সামাজিক ভাতা পান না।
❓ আবেদন করলে কি সবাই ভাতা পায়?
না, যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্যদের নির্বাচন করা হয়।
উপসংহার
বাংলাদেশে সরাসরি “বেকার ভাতা” না থাকলেও সরকার বেকার ও কর্মহীন জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন অনলাইনভিত্তিক সামাজিক ও কর্মসংস্থান কর্মসূচি চালু রেখেছে। সঠিক তথ্য জেনে সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই আবেদন করাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
আরও পড়ুন- টিসিবি ফ্যামিলি কার্ড অনলাইন আবেদন করার নিয়ম
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔








