বর্তমান সময়ে জন্ম সনদ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক দলিল। পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি, চাকরি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ভিসা কিংবা সরকারি যেকোনো সেবা গ্রহণের জন্য ডিজিটাল জন্ম সনদ এখন বাধ্যতামূলক।
অনেকের কাছেই এখনো হাতের লেখা বা পুরাতন (ম্যানুয়াল) জন্ম সনদ রয়েছে, যা অনলাইনে ভেরিফাই করা যায় না। তাই পুরাতন জন্ম সনদকে ডিজিটাল জন্ম সনদে রূপান্তর (Digitization) করা এখন সময়ের দাবি।
আরও পড়ুন-অনলাইন জন্ম নিবন্ধন করার নিয়ম
পুরাতন জন্ম সনদ ডিজিটাল করা বলতে কী বোঝায়?
পুরাতন জন্ম সনদ ডিজিটাল করা বলতে বোঝায়—
আগে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন থেকে হাতে লেখা বা রেজিস্টার খাতায় করা জন্ম নিবন্ধনের তথ্য বাংলাদেশ সরকারের কেন্দ্রীয় অনলাইন সার্ভারে (BDRIS) অন্তর্ভুক্ত করা।
ডিজিটাল হওয়ার পর জন্ম সনদের একটি ১৭ ডিজিটের Birth Registration Number (BRN) পাওয়া যায় এবং অনলাইনে যেকোনো সময় যাচাই ও প্রিন্ট করা সম্ভব হয়।
কারা পুরাতন জন্ম সনদ ডিজিটাল করবেন?
নিচের যেকোনো অবস্থায় থাকলে আপনাকে অবশ্যই জন্ম সনদ ডিজিটাল করতে হবে—
-
জন্ম সনদটি হাতে লেখা বা পুরাতন ফরম্যাটের।
-
অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন নম্বর নেই।
-
জন্ম সনদ ২০০০ সালের আগের।
-
জন্ম সনদ দিয়ে অনলাইন ভেরিফিকেশন করা যায় না।
-
পাসপোর্ট বা NID করতে গিয়ে সমস্যা হচ্ছে।
পুরাতন জন্ম সনদ ডিজিটাল করার জন্য যেসব কাগজ লাগবে
অনলাইনে আবেদন করার আগে নিচের কাগজগুলো প্রস্তুত রাখুন—
- পুরাতন জন্ম সনদের কপি।
- পিতা ও মাতার NID (যদি থাকে)।
- শিক্ষাগত সনদ (যদি থাকে)।
- ঠিকানা প্রমাণ (হোল্ডিং নম্বর/ওয়ার্ড নম্বর)।
- আবেদনকারীর মোবাইল নম্বর।
👉 শিশু হলে পিতা/মাতার তথ্য প্রযোজ্য হবে।
অনলাইনে পুরাতন জন্ম সনদ ডিজিটাল করার নিয়ম (ধাপে ধাপে)
ধাপ–১: সরকারি জন্ম নিবন্ধন ওয়েবসাইটে প্রবেশ
বাংলাদেশ সরকারের অফিসিয়াল জন্ম নিবন্ধন সিস্টেমে প্রবেশ করুন।
ধাপ–২: জন্ম নিবন্ধনের আবেদন অপশন নির্বাচন
“জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন” অপশনে ক্লিক করুন।
ধাপ–৩: আবেদনকারীর ধরন নির্বাচন
-
নিজের জন্য।
-
পিতা/মাতার জন্য।
-
সন্তানের জন্য।
যেটি প্রযোজ্য সেটি নির্বাচন করুন।
ধাপ–৪: ব্যক্তিগত তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করুন
এখানে দিতে হবে—
-
নাম (বাংলা ও ইংরেজি)
-
জন্ম তারিখ
-
জন্ম স্থান
-
লিঙ্গ
-
পিতা ও মাতার নাম
⚠️ খেয়াল রাখবেন:
সব তথ্য অবশ্যই পুরাতন জন্ম সনদ ও অন্যান্য ডকুমেন্টের সাথে মিল থাকতে হবে।
ধাপ–৫: ঠিকানা সংক্রান্ত তথ্য দিন
-
জন্মস্থানের ঠিকানা
-
বর্তমান ঠিকানা
-
স্থায়ী ঠিকানা
ইউনিয়ন/পৌরসভা/সিটি করপোরেশন সঠিকভাবে নির্বাচন করুন।
ধাপ–৬: আবেদন সাবমিট করুন
সব তথ্য যাচাই করে আবেদন সাবমিট করুন।
আবেদন শেষে একটি Application ID পাবেন—এটি সংরক্ষণ করুন।
অনলাইনে আবেদন করার পর কী হবে?
✔ আবেদনটি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি করপোরেশনে যাবে।
✔ কর্তৃপক্ষ পুরাতন রেজিস্টার যাচাই করবে।
✔ প্রয়োজন হলে আপনাকে ডাকা হতে পারে।
✔ যাচাই শেষে জন্ম সনদ ডিজিটাল করা হবে।
ডিজিটাল সম্পন্ন হলে আপনি পাবেন—
-
১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর।
-
অনলাইন থেকে ডাউনলোডযোগ্য জন্ম সনদ।
জন্ম সনদ ডিজিটাল হতে কতদিন লাগে?
সাধারণত—
-
৩ থেকে ১৫ কার্যদিবস
সময় লাগতে পারে, তবে এলাকা ও ডকুমেন্ট যাচাইয়ের ওপর নির্ভর করে সময় কম-বেশি হতে পারে।
পুরাতন জন্ম সনদ ডিজিটাল করার সময় গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
✔ নামের বানান অবশ্যই NID/শিক্ষাগত সনদের সাথে মিল রাখুন
✔ জন্ম তারিখে একদিনও ভুল করবেন না
✔ ভুয়া বা ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে
✔ Application ID হারাবেন না
✔ প্রয়োজনে স্থানীয় জন্ম নিবন্ধন অফিসে যোগাযোগ করুন
সাধারণ সমস্যা ও সমাধান
সমস্যা: আবেদন অনেকদিন পেন্ডিং
👉 সমাধান: সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন/পৌরসভায় যোগাযোগ করুন।
সমস্যা: নাম বা জন্ম তারিখে ভুল
👉 সমাধান: সংশোধন আবেদন করতে হবে।
সমস্যা: পুরাতন রেজিস্টারে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না
👉 সমাধান: অতিরিক্ত ডকুমেন্ট জমা দিতে হতে পারে।
উপসংহার
পুরাতন জন্ম সনদ ডিজিটাল করা এখন আর কোনো ঝামেলার কাজ নয়। সঠিক তথ্য ও কাগজপত্র থাকলে অনলাইনে ঘরে বসেই আবেদন করা সম্ভব। ভবিষ্যতে যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি সেবা নিতে হলে ডিজিটাল জন্ম সনদ আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
👉 তাই দেরি না করে আজই আপনার পুরাতন জন্ম সনদ ডিজিটাল করে নিন।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-৫ মিনিটে জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি ডাউনলোড করার নিয়ম(আপডেট)
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










