বর্তমান নতুন সরকার দেশের দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য নতুন ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৪ কোটি ১০ লক্ষ নারী সদস্যের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, চলতি মাস থেকেই কার্যক্রম শুরু হবে এবং প্রথম ধাপে ৮টি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে বিতরণ কার্যক্রম চালু হবে।
এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে উপকারভোগীরা প্রাথমিক অবস্থায় প্রতি মাসে ২,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা পর্যন্ত নগদ সহায়তা উত্তোলন করতে পারবেন (সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পরিবর্তন হতে পারে)।
আরও পড়ুন-ফ্যামিলি কার্ড, ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও নদী পুনঃখননে কার্যক্রম শুরু আজ থেকে(তারেক রহমান)
ফ্যামিলি কার্ড কী?
ফ্যামিলি কার্ড হলো সরকারের একটি সামাজিক নিরাপত্তা সহায়তা কর্মসূচি, যার মাধ্যমে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের নারী সদস্যদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা ব্যাংকিং বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে উত্তোলন করা যাবে।
অনলাইনে নতুন ফ্যামিলি কার্ড আবেদন করার নিয়ম(সম্ভাব্য)
বর্তমানে সরকার ডিজিটাল পদ্ধতিতে আবেদন গ্রহণের উদ্যোগ নিতে পারে। সম্ভাব্য অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া নিচে দেওয়া হলো:
ধাপ ১: সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ
সরকার নির্ধারিত অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে (প্রকাশিত হলে)।
ধাপ ২: আবেদন ফর্ম পূরণ
-
আবেদনকারীর নাম।
-
জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর।
-
মোবাইল নম্বর।
-
স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা।
-
পরিবারের সদস্য সংখ্যা।
-
আয়ের তথ্য।
ধাপ ৩: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড
-
এনআইডি কার্ডের স্ক্যান কপি।
-
পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
-
আয়ের সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
ধাপ ৪: সাবমিট ও ট্র্যাকিং
ফর্ম পূরণ শেষে সাবমিট করলে একটি ট্র্যাকিং নম্বর পাওয়া যাবে। সেই নম্বর দিয়ে আবেদন স্ট্যাটাস চেক করা যাবে।
অফলাইনে নতুন ফ্যামিলি কার্ড আবেদন করার নিয়ম(সম্ভাব্য)
যারা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন না, তারা সরাসরি স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।
ধাপ ১: ইউনিয়ন পরিষদ / পৌরসভা কার্যালয়ে যোগাযোগ
নিজ নিজ এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা উপজেলা সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।
ধাপ ২: আবেদন ফরম সংগ্রহ
সরকারি নির্ধারিত ফরম সংগ্রহ করে সঠিক তথ্য দিয়ে পূরণ করতে হবে।
ধাপ ৩: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা
ফরমের সাথে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে।
ধাপ ৪: যাচাই ও অনুমোদন
স্থানীয় প্রশাসন যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করবে।
ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার সম্ভাব্য যোগ্যতা
নিচের যোগ্যতাগুলো থাকতে পারে (সরকারি চূড়ান্ত নীতিমালা অনুযায়ী পরিবর্তন হতে পারে):
-
আবেদনকারী নারী হতে হবে
-
বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে
-
নিম্ন আয়ের বা দরিদ্র পরিবারের সদস্য হতে হবে
-
পূর্বে একই ধরনের সরকারি ভাতা না পেয়ে থাকলে অগ্রাধিকার
-
বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, প্রতিবন্ধী নারী বা বিশেষ পরিস্থিতির পরিবার অগ্রাধিকার পেতে পারে
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র(সম্ভাব্য)
আবেদনের সময় সম্ভাব্য যে কাগজপত্র লাগতে পারে:
-
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)।
-
পরিবারের সদস্যদের তথ্য।
-
জন্ম নিবন্ধন (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
-
আয়ের সনদ।
-
বিদ্যুৎ/গ্যাস বিলের কপি (ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য)।
-
পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
কিভাবে টাকা উত্তোলন করা যাবে?
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী টাকা উত্তোলন করা যেতে পারে—
-
ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে।
-
মোবাইল ব্যাংকিং (যেমন বিকাশ/নগদ/রকেট)।
-
নির্ধারিত কার্ড ব্যবহার করে এটিএম বুথ থেকে।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
-
আবেদন করার সময় ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
-
কোনো প্রকার দালাল বা অতিরিক্ত টাকা লেনদেন থেকে বিরত থাকুন।
-
শুধুমাত্র সরকারি ঘোষণার উপর ভিত্তি করে আবেদন করুন।
-
অফিসিয়াল নোটিশ প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ভুয়া লিংকে তথ্য প্রদান করবেন না।
উপসংহার
নতুন ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি দেশের কোটি কোটি নিম্নআয়ের নারীর জন্য একটি বড় সহায়তা হতে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ৪ কোটি ১০ লক্ষ নারী এই সুবিধা পাবেন বলে জানানো হয়েছে। অনলাইনে ও অফলাইনে সহজ প্রক্রিয়ায় আবেদন করা যাবে এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে কার্ড বিতরণ করা হবে।
সরকারি চূড়ান্ত নির্দেশনা প্রকাশ হলে সঠিক আবেদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন করুন এবং প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকুন।
আরও পড়ুন-ঈদের আগেই ‘ফ্যামিলি কার্ডে’ সরাসরি নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔








