বাংলাদেশে জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড (NID) একজন নাগরিকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্রগুলোর একটি। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, পাসপোর্ট করা, সিম নিবন্ধন, জমি রেজিস্ট্রি বা বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে এই কার্ডের প্রয়োজন হয়। তবে অনেক সময় দেখা যায় এনআইডি কার্ডে মায়ের নাম ভুল লেখা থাকে অথবা বানানের সমস্যা থাকে।
এই ধরনের ভুল থাকলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন সরকারি কাজে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই ভোটার আইডি কার্ডে মায়ের নাম ভুল থাকলে তা দ্রুত সংশোধন করা জরুরি। বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের অনলাইন সেবার মাধ্যমে ঘরে বসেই সহজে এনআইডি কার্ডের মায়ের নাম সংশোধনের আবেদন করা যায়। নিচে ধাপে ধাপে এই প্রক্রিয়াটি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
আরও পড়ুন-ভোটার আইডি কার্ডের জন্ম তারিখ সংশোধন করুন ২৩০ টাকায়
কেন ভোটার আইডি কার্ডে মায়ের নাম সংশোধন করতে হয়
অনেক সময় বিভিন্ন কারণে এনআইডি কার্ডে মায়ের নাম ভুল দেখা যায়। যেমন—
-
ভোটার নিবন্ধনের সময় ভুল তথ্য দেওয়া।
-
ডাটা এন্ট্রির সময় বানান ভুল হওয়া।
-
জন্ম নিবন্ধন বা শিক্ষাগত সনদের সঙ্গে তথ্য না মেলা।
-
বাংলা ও ইংরেজি নামের বানানে পার্থক্য থাকা।
এই ধরনের সমস্যার কারণে পাসপোর্ট তৈরি, ব্যাংকিং সেবা বা সরকারি কাজে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই মায়ের নাম ভুল থাকলে তা সংশোধন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনলাইনে মায়ের নাম সংশোধন করতে কী কী কাগজপত্র লাগে
ভোটার আইডি কার্ডে মায়ের নাম সংশোধনের আবেদন করার সময় কিছু প্রমাণপত্র জমা দিতে হয়। সাধারণত নিচের কাগজপত্রগুলো প্রয়োজন হয়—
-
জন্ম নিবন্ধন সনদ।
-
এসএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত সনদ।
-
পাসপোর্ট (যদি থাকে)।
-
পিতা বা মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র।
-
অন্যান্য প্রমাণপত্র (যদি প্রয়োজন হয়)।
এই ডকুমেন্টগুলো স্ক্যান করে অনলাইনে আপলোড করতে হয়।
অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ডের মায়ের নাম সংশোধনের নিয়ম
বর্তমানে এনআইডি সংশোধনের আবেদন অনলাইনে করা সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি। নিচে পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে দেওয়া হলো।
ধাপ ১: এনআইডি সেবা পোর্টালে প্রবেশ
প্রথমে মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে।
ধাপ ২: অ্যাকাউন্ট তৈরি বা লগইন
যদি আগে অ্যাকাউন্ট তৈরি না করা থাকে তাহলে নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। এজন্য সাধারণত নিচের তথ্য দিতে হয়—
-
জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর
-
জন্ম তারিখ
-
মোবাইল নম্বর
-
ফেস ভেরিফিকেশন
এরপর অ্যাকাউন্টে লগইন করতে হবে।
ধাপ ৩: প্রোফাইল সংশোধন অপশন নির্বাচন
লগইন করার পর প্রোফাইল অপশনে গিয়ে Edit Profile বা সংশোধন অপশন নির্বাচন করতে হবে।
এখানে মায়ের নাম সংশোধনের অপশন পাওয়া যাবে।
ধাপ ৪: সঠিক নাম লিখে আবেদন
এখন মায়ের সঠিক নাম বাংলায় ও ইংরেজিতে লিখতে হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র আপলোড করতে হবে।
ধাপ ৫: সংশোধনের ফি পরিশোধ
ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের জন্য নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধ করতে হয়। সাধারণত প্রথমবার সংশোধনের জন্য প্রায় ২৩০ টাকা ফি দিতে হয়।
পেমেন্ট করা যায়—
-
বিকাশ
-
নগদ
-
রকেট
-
ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড
ধাপ ৬: আবেদন সাবমিট করা
সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করার পর আবেদন সাবমিট করতে হবে। এরপর নির্বাচন কমিশন আবেদন যাচাই করবে।
মায়ের নাম সংশোধন হতে কত সময় লাগে
এনআইডি সংশোধনের সময় সাধারণত তথ্য যাচাইয়ের ওপর নির্ভর করে। অনেক ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সংশোধন সম্পন্ন হয়।
সাধারণত—
-
২ থেকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে সংশোধন সম্পন্ন হতে পারে।
-
তথ্য সঠিক থাকলে দ্রুত অনুমোদন পাওয়া যায়।
মায়ের নাম সংশোধনের সময় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
অনলাইনে এনআইডি সংশোধনের আবেদন করার সময় কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি।
-
শিক্ষাগত সনদের সঙ্গে নামের মিল থাকতে হবে।
-
বাংলা ও ইংরেজি বানান ঠিক রাখতে হবে।
-
সঠিক প্রমাণপত্র আপলোড করতে হবে।
-
ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
উপসংহার
ভোটার আইডি কার্ডে মায়ের নাম ভুল থাকলে এখন খুব সহজেই অনলাইনে সংশোধনের আবেদন করা যায়। ঘরে বসেই মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করলে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা সম্ভব। সঠিক কাগজপত্র এবং নির্ধারিত ফি জমা দিলে নির্বাচন কমিশন যাচাই করে এনআইডি কার্ডের তথ্য সংশোধন করে দেয়। তাই কোনো ভুল থাকলে দ্রুত সংশোধনের আবেদন করাই সবচেয়ে ভালো।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-অনলাইনে শুধু ভোটার আইডি কার্ডের নাম পরিবর্তন করুন ২৩০ টাকায়
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










