আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করে এনইআইআর চালুর ঘোষণা | মোবাইল ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ

বাংলাদেশের মোবাইল ও গ্যাজেট ব্যবসা দীর্ঘদিন ধরেই নানা নীতিগত অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এনইআইআর (National Equipment Identity Register) সিস্টেম চালুর ঘোষণা। সরকারের পক্ষ থেকে ৩ মাসের গ্রেস পিরিয়ডের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, তা উপেক্ষা করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে এনইআইআর চালুর সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
এই ঘোষণায় সারাদেশের মোবাইল ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন- রাউটার ঘরের কোথায় রাখলে ভালো স্পিড পাওয়া যায়?

এনইআইআর কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?

এনইআইআর হলো এমন একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেস, যেখানে দেশের সব মোবাইল ডিভাইসের IMEI নম্বর নিবন্ধিত থাকবে। মূল উদ্দেশ্য—

  • চোরাই ও অবৈধ মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ করা।

  • রাজস্ব ফাঁকি রোধ।

  • বৈধ আমদানি ও বাজার নিয়ন্ত্রণ।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, নীতিগত সংস্কার ছাড়া হঠাৎ এনইআইআর চালু করলে বাজারে বড় ধস নামবে।

সরকারের প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তব সিদ্ধান্ত

মোবাইল ব্যবসায়ীদের সংগঠন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি) জানায়—

  • ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মাধ্যমে ৩ মাসের গ্রেস পিরিয়ডের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।

  • এই সময়ে ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে পণ্য আমদানি ও বিক্রি করতে পারবে।

  • ওই সময় নেটওয়ার্কে যুক্ত কোনো ডিভাইস ভবিষ্যতে বিচ্ছিন্ন করা হবে না।

এমনকি বিষয়টি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজেও ঘোষণা করা হয়েছিল।
কিন্তু বাস্তবে—

  • ১৫ ডিসেম্বর মাত্র ১৫ দিনের নোটিশে এনইআইআর চালুর ঘোষণা।

  • পরে ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

এটিকে সরকারি প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন বলেই মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

সিন্ডিকেটের অভিযোগ ও ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ

এমবিসিবির সভাপতি মোহাম্মাদ আসলাম অভিযোগ করে বলেন—

“এনইআইআর-এর নামে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে।”

তার মতে—

  • কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান একচেটিয়া সুবিধা পাবে।

  • প্রায় ২৫ হাজার মোবাইল ব্যবসায়ী কোণঠাসা হবে।

  • লক্ষাধিক মানুষের জীবিকা ঝুঁকির মুখে পড়বে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা টিকে থাকতে পারবে না।

ব্যবসায়ীরা কী চায়?

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—
👉 ব্যবসায়ীরা এনইআইআর-এর বিরোধী নন।

তাদের প্রধান দাবিগুলো—

✔ সংস্কার করে এনইআইআর চালু।

✔ করের হার সহনীয় করা।

✔ পুরাতন ফোন আমদানির নীতিগত বাধা দূর।

✔ উন্মুক্ত ও সিন্ডিকেটমুক্ত বাজার ব্যবস্থা।

✔ লিখিত ও স্পষ্ট সরকারি নির্দেশনা।

তারা বৈধভাবে কর পরিশোধ করে ব্যবসা করতে আগ্রহী বলেও জানিয়েছেন।

কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

এমবিসিবি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—

  • ৩ মাসের গ্রেস পিরিয়ড নিশ্চিত না হলে।

  • শুল্ক কাঠামো ও আমদানি নীতিতে স্বচ্ছতা না এলে।

  • সিন্ডিকেটমুক্ত সংস্কার দৃশ্যমান না হলে।

👉 এনইআইআর কার্যক্রম শুরুর আগেই সারাদেশে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়—

“প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হলে তার দায় ব্যবসায়ীরা নেবে না।”

প্রশ্ন–উত্তর

প্রশ্ন ১: এনইআইআর চালু হলে সাধারণ গ্রাহকের কী হবে?

👉 অনিবন্ধিত বা অবৈধ IMEI থাকা ফোন নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে।

প্রশ্ন ২: ব্যবসায়ীরা কি এনইআইআর বাতিল চায়?

👉 না। তারা সংস্কার ও সময় নিয়ে বাস্তবায়নের পক্ষে।

প্রশ্ন ৩: গ্রেস পিরিয়ড কেন জরুরি?

👉 ব্যবসায়ীদের স্টক ক্লিয়ার, আমদানি পরিকল্পনা ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে।

প্রশ্ন ৪: আন্দোলন হলে কী প্রভাব পড়তে পারে?

👉 মোবাইল বাজারে অস্থিরতা, ফোনের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকট।

উপসংহার

এনইআইআর একটি প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী উদ্যোগ হলেও প্রতিশ্রুতি ভেঙে তড়িঘড়ি বাস্তবায়ন পুরো মোবাইল খাতকে সংকটে ফেলতে পারে। সরকার চাইলে এখনো আলোচনার মাধ্যমে—

  • গ্রেস পিরিয়ড কার্যকর।

  • ব্যবসায়ীবান্ধব নীতিমালা।

  • সিন্ডিকেটমুক্ত সিদ্ধান্ত।

নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পারে।
অন্যথায়, এই সিদ্ধান্ত দেশের মোবাইল বাজারে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি করবে—যার দায় এড়ানো কঠিন হবে।

আরও পড়ুন-জিপন বিটিসিএল ইন্টারনেট ৫০ Mbps পর্যন্ত স্পিড, মাত্র ৩৯৯ টাকায়

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। আমি মোঃ সানাউল বারী। পেশায় আমি একজন চাকরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। চাকরির পাশাপাশি, আমি গত ১৪ বছর ধরে আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটে লেখালেখি করছি এবং আমার নিজস্ব ইউটিউব এবং ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করছি। বিশেষ দ্রষ্টব্য - লেখায় যদি কোনও ভুল থাকে, তাহলে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। ধন্যবাদ।