আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

দেশে প্রথম চালু আধুনিক সেচব্যবস্থা, কম পানিতে বেশি ফসল

বাংলাদেশের কৃষিতে যুক্ত হলো এক নতুন যুগের সূচনা। নাটোরের বড়াইগ্রামে দেশের প্রথম সেন্টার পিভোট ইরিগেশন সিস্টেম চালু হতে যাচ্ছে, যা আধুনিক ও পানি সাশ্রয়ী সেচ প্রযুক্তির এক অনন্য উদাহরণ। এই পদ্ধতিতে পাইপের সঙ্গে সংযুক্ত স্প্রিংকলারের মাধ্যমে ওপর থেকে বৃষ্টির মতো জমিতে পানি সরবরাহ করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি চালু হলে বাংলাদেশের কৃষিতে উৎপাদন বাড়বে, পানির অপচয় কমবে এবং সেচ ব্যবস্থায় আসবে আমূল পরিবর্তন।

আরও পড়ুন-বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন এখন পুরোপুরি ডিজিটাল হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট

কী এই সেন্টার পিভোট ইরিগেশন সিস্টেম?

সেন্টার পিভোট ইরিগেশন হলো একটি আধুনিক স্বয়ংক্রিয় সেচ পদ্ধতি, যেখানে—

  • একটি কেন্দ্রবিন্দু থেকে যন্ত্রটি বৃত্তাকারে ঘুরে।

  • স্প্রিংকলারের মাধ্যমে বৃষ্টির মতো পানি ছিটায়।

  • জমির উঁচু-নিচু অংশে সমানভাবে পানি পৌঁছে দেয়।

  • কম পানিতে বেশি জমিতে সেচ দেওয়া যায়।

এই প্রযুক্তি উন্নত দেশগুলোতে বহুল ব্যবহৃত হলেও, বাংলাদেশে এবারই প্রথম বড় পরিসরে এটি চালু হলো।

কোথায় ও কীভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে?

এই আধুনিক সেচ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে—

📍 নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ভবানীপুরে
🏭 নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ইক্ষু খামারে

অস্ট্রিয়ার কারিগরি সহায়তায় এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)-এর পানাসি প্রকল্পের অর্থায়নে এটি বাস্তবায়িত হয়েছে।

প্রকল্পটির আর্থিক ব্যয়:

👉 মোট ব্যয়: ১ কোটি ৯৮ লাখ ৫ হাজার টাকা
👉 দুটি প্রকল্পে মোট ব্যয়: ৩ কোটি ৯৮ লাখ ১০ হাজার টাকা

অস্ট্রিয়ার বায়ার কোম্পানির প্রযুক্তিগত সহায়তায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শেরপা পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

কত জমিতে সেচ দেওয়া যাবে?

এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—

  • একটি প্রকল্পে একসঙ্গে ১২৫ একর জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব।

  • বড় আকারের জমিতে কম সময়ে সেচ দেওয়া যায়।

  • পানির অপচয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।

নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ভবানীপুর খামারে মোট ৭০১ একর জমির মধ্যে প্রথম ধাপে ১২৫ একর জমিতে এই সেচ দেওয়া হবে।

কেন এই প্রযুক্তি এত গুরুত্বপূর্ণ?

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সজীব আল মারুফ বলেন, প্রচলিত গভীর ও অগভীর নলকূপের মাধ্যমে সেচ দিতে গিয়ে কৃষকরা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি পানি ব্যবহার করেন। এতে—

  • পানির অপচয় হয়।

  • বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচ বাড়ে।

  • জমির উর্বরতা নষ্ট হয়।

কিন্তু সেন্টার পিভোট সেচ ব্যবস্থায়—

  • কম পানিতে বেশি জমিতে সেচ দেওয়া যায়।

  • খরচ কমে।

  • সারা বছর সেচ সুবিধা পাওয়া যায়।

  • পরিবেশবান্ধব সেচ নিশ্চিত হয়।

প্রযুক্তিগত সুবিধা কী কী?

বিএডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান—

এই সেচ যন্ত্রটি চাকার সাহায্যে জমিতে ঘুরে ঘুরে বৃষ্টির ফোঁটার মতো পানি ছিটায়। ফলে—

  • জমির প্রতিটি অংশে সমান পানি পৌঁছে।

  • উঁচু-নিচু জমিতে আলাদা কোনো সমস্যা হয় না।

  • ফসল দ্রুত ও স্বাস্থ্যকরভাবে বৃদ্ধি পায়।

বিএডিসির পাবনা রিজিয়নের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আহমেদ বলেন, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ফসল উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।

কৃষকদের জন্য কী লাভ হবে?

এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষকরা পাবেন—

  • কম খরচে সেচ সুবিধা।

  • পানির সাশ্রয়।

  • সময় সাশ্রয়।

  • ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি।

  • পতিত জমিকে আবাদযোগ্য জমিতে রূপান্তরের সুযোগ।

নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রায় ২০ একর পতিত জমি আবার চাষের আওতায় আসবে।

বিদেশি বিশেষজ্ঞদের ভূমিকা

এই প্রকল্পে প্রযুক্তিগত তত্ত্বাবধান ও প্রশিক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন—

  • চীনের বিশেষজ্ঞ মিস্টার জ্যাক

  • ভিয়েতনামের বিশেষজ্ঞ মিস্টার খোয়া

তারা স্থানীয় প্রকৌশলী ও কর্মীদের আধুনিক সেচ প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।

দেশের কৃষিতে কী পরিবর্তন আসবে?

নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদ হোসেন ভূঁইয়া বলেন—

“দেশে প্রথমবারের মতো এই আধুনিক সেচ ব্যবস্থায় কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।”

এই প্রযুক্তি সফল হলে—

  • অন্যান্য জেলাতেও এটি সম্প্রসারণ হবে।

  • ভূ-উপরিস্থ পানির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে।

  • কৃষিতে উৎপাদন বিপ্লব ঘটবে।

  • জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা সহজ হবে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সেন্টার পিভোট ইরিগেশন সিস্টেম যদি সারাদেশে চালু করা যায়, তাহলে—

  • বাংলাদেশের কৃষি আরও আধুনিক হবে।

  • খাদ্য উৎপাদনে স্বনির্ভরতা বাড়বে।

  • কৃষকের আয় বৃদ্ধি পাবে।

  • কৃষিতে প্রযুক্তিনির্ভর যুগের সূচনা হবে।

উপসংহার

নাটোরের বড়াইগ্রামে চালু হওয়া সেন্টার পিভোট ইরিগেশন সিস্টেম শুধু একটি সেচ প্রকল্প নয়, এটি বাংলাদেশের কৃষিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। কম পানি, কম খরচ এবং বেশি উৎপাদনের এই প্রযুক্তি কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে।

এই প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কৃষি আরও আধুনিক, টেকসই ও লাভজনক হয়ে উঠবে—এটাই সংশ্লিষ্ট সকলের প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন-বোয়েসেল বিদেশি নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। আমি মোঃ সানাউল বারী। পেশায় আমি একজন চাকরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। চাকরির পাশাপাশি, আমি গত ১৪ বছর ধরে আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটে লেখালেখি করছি এবং আমার নিজস্ব ইউটিউব এবং ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করছি। বিশেষ দ্রষ্টব্য - লেখায় যদি কোনও ভুল থাকে, তাহলে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। ধন্যবাদ।