মৃত্যু নিবন্ধন সনদ বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দলিল। কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করার পর তার সম্পত্তি হস্তান্তর, উত্তরাধিকার সনদ, ব্যাংক হিসাব বন্ধ, পেনশন বা ভাতা সংক্রান্ত কাজে মৃত্যু নিবন্ধন সনদ বাধ্যতামূলকভাবে প্রয়োজন হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার অনলাইনে মৃত্যু নিবন্ধনের আবেদন করার সুযোগ দিয়েছে, যা অনেকটাই সহজ করেছে পুরো প্রক্রিয়াটি।
তবে অনলাইনে আবেদন করার পর অনেকেই একটি জায়গায় এসে আটকে যান—
👉 মৃত্যু নিবন্ধন আবেদন পত্র কীভাবে প্রিন্ট করবেন?
👉 কোথা থেকে প্রিন্ট অপশন পাওয়া যাবে?
👉 আবেদন নম্বর না থাকলে কী করবেন?
এই পোস্টে আমরা আপডেট নিয়ম অনুযায়ী খুব সহজ ভাষায় আলোচনা করবো—মৃত্যু নিবন্ধন আবেদন পত্র প্রিন্ট করার পুরো প্রক্রিয়া, যাতে একজন সাধারণ বাংলাদেশি নাগরিকও কোনো ঝামেলা ছাড়াই কাজটি করতে পারেন।
আরও পড়ুন- অনলাইনে মৃত্যু নিবন্ধন আবেদনের নিয়ম (আপডেট)
মৃত্যু নিবন্ধন আবেদন পত্র কী এবং কেন প্রিন্ট দরকার?
মৃত্যু নিবন্ধন আবেদন পত্র হলো অনলাইনে আবেদন করার পর তৈরি হওয়া একটি ফরম, যেখানে—
-
মৃত ব্যক্তির তথ্য।
-
মৃত্যুর তারিখ ও স্থান।
-
আবেদনকারীর তথ্য।
-
আবেদন নম্বর (Tracking ID) সবকিছু উল্লেখ থাকে।
এই আবেদন পত্রটি প্রিন্ট করা দরকার কারণ—
-
ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি করপোরেশনে জমা দিতে হয়।
-
তথ্য যাচাইয়ের সময় অফিসে দেখাতে হয়।
-
ভবিষ্যতে রেফারেন্স হিসেবে কাজে লাগে।
মৃত্যু নিবন্ধন আবেদন পত্র প্রিন্ট করার আগে যেসব তথ্য লাগবে
প্রিন্ট করার আগে নিচের তথ্যগুলো হাতের কাছে রাখলে সুবিধা হবে—
-
অনলাইন আবেদন নম্বর (Tracking ID)।
-
মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন নম্বর (যদি থাকে)।
-
মৃত ব্যক্তির জন্ম তারিখ বা মৃত্যুর তারিখ।
-
আবেদন করার সময় ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর।
👉 আবেদন নম্বর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
মৃত্যু নিবন্ধন আবেদন পত্র প্রিন্ট করার নিয়ম (আপডেট)
এখন মূল অংশ—ধাপে ধাপে প্রিন্ট করার সঠিক নিয়ম।
ধাপ–০১: জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন অনলাইন পোর্টালে প্রবেশ করুন
প্রথমে আপনার মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে বাংলাদেশ সরকারের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন—
ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে অফিসিয়াল হোমপেজ দেখতে পাবেন।
ধাপ–০২: “মৃত্যু নিবন্ধন” মেনু সিলেক্ট করুন
হোমপেজের উপরের মেনু থেকে—
👉 “মৃত্যু নিবন্ধন” অপশনে ক্লিক করুন।
এখানে মৃত্যু নিবন্ধন সংক্রান্ত সব সেবার তালিকা থাকবে।
ধাপ–০৩: “আবেদনপত্র প্রিন্ট / আবেদন অনুসন্ধান” অপশন নির্বাচন করুন
এখন সাব-মেনু থেকে—
👉 “মৃত্যু নিবন্ধন আবেদন অনুসন্ধান”
অথবা
👉 “আবেদনপত্র প্রিন্ট”
এই ধরনের অপশনটি সিলেক্ট করুন।
ধাপ–০৪: আবেদন নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করুন
এই ধাপে আপনাকে দিতে হবে—
-
আবেদন নম্বর (Tracking ID)।
-
জন্ম তারিখ বা মৃত্যুর তারিখ।
সব তথ্য সঠিকভাবে দেওয়ার পর—
👉 Search / অনুসন্ধান করুন বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ–০৫: আবেদন তথ্য যাচাই করুন
সার্চ সফল হলে স্ক্রিনে দেখা যাবে—
-
মৃত ব্যক্তির নাম।
-
পিতা-মাতার নাম।
-
মৃত্যুর তারিখ ও স্থান।
-
আবেদনকারীর তথ্য।
👉 এখানে সব তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে নিন।
ধাপ–০৬: আবেদন পত্র প্রিন্ট করুন
সব তথ্য ঠিক থাকলে—
-
Print / প্রিন্ট বাটনে ক্লিক করুন।
-
PDF ফাইল ডাউনলোড হবে।
-
প্রিন্টার দিয়ে কাগজে প্রিন্ট করুন।
👉 চাইলে আগে PDF হিসেবে সেভ করে রাখতে পারেন।
আবেদন নম্বর না থাকলে কী করবেন?
অনেক সময় দেখা যায় আবেদন নম্বর হারিয়ে গেছে। এমন হলে—
-
যেই মোবাইল নম্বর দিয়ে আবেদন করা হয়েছিল সেটি ব্যবহার করুন।
-
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ বা জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন অফিসে যোগাযোগ করুন।
-
আবেদনকারীর তথ্য দিয়ে তারা আবেদন নম্বর বের করে দিতে পারে।
কোথায় আবেদন পত্র জমা দিতে হবে?
প্রিন্ট করা আবেদন পত্র জমা দিতে হবে—
-
ইউনিয়ন পরিষদ (গ্রামাঞ্চলে)।
-
পৌরসভা।
-
সিটি করপোরেশন।
সেখানে কর্তৃপক্ষ আবেদন যাচাই করে পরবর্তী ধাপে এগোবে।
আবেদন পত্র প্রিন্ট করতে কোনো ফি লাগে?
👉 না।
মৃত্যু নিবন্ধন আবেদন পত্র প্রিন্ট করা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
কেউ টাকা চাইলে সেটি অনিয়ম।
প্রিন্ট করতে গিয়ে যেসব সমস্যা হয়
বাংলাদেশে সাধারণত যে সমস্যাগুলো দেখা যায়—
-
ওয়েবসাইট স্লো।
-
আবেদন নম্বর ভুল।
-
জন্ম/মৃত্যুর তারিখ মিলছে না।
-
প্রিন্ট বাটন কাজ করছে না।
করণীয়
-
অন্য ব্রাউজার ব্যবহার করুন।
-
মোবাইলের বদলে কম্পিউটার ব্যবহার করুন।
-
অফিস সময়ে আবার চেষ্টা করুন।
প্রশ্ন–উত্তর
অনলাইনে আবেদন ছাড়া কি প্রিন্ট করা যাবে?
না, আগে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।
মোবাইল থেকে কি আবেদন পত্র প্রিন্ট করা যাবে?
হ্যাঁ, PDF ডাউনলোড করে প্রিন্ট করা যাবে।
আবেদন পত্র ছাড়া কি মৃত্যু নিবন্ধন হবে?
না, অফিসে আবেদন পত্র জমা দিতে হয়।
একাধিক কপি প্রিন্ট করা যাবে?
হ্যাঁ, প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক কপি প্রিন্ট করা যায়।
ভুল থাকলে কি আবার প্রিন্ট করা যাবে?
হ্যাঁ, সংশোধনের পর আবার প্রিন্ট করা যাবে।
উপসংহার
মৃত্যু নিবন্ধন আবেদন পত্র প্রিন্ট করার নিয়ম (আপডেট) জানলে পুরো প্রক্রিয়াটি অনেক সহজ হয়ে যায়। অনলাইনে আবেদন করার পর এই প্রিন্ট কপিই হলো অফিসিয়াল যাচাইয়ের মূল কাগজ। তাই আবেদন নম্বর সংরক্ষণ করা এবং সঠিকভাবে আবেদন পত্র প্রিন্ট করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
সঠিক ওয়েবসাইট ব্যবহার করে, ধাপে ধাপে নিয়ম মেনে কাজ করলে কোনো দালাল বা বাড়তি ঝামেলার প্রয়োজন পড়ে না। এতে সময় যেমন বাঁচে, তেমনি মানসিক চাপও কমে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-জন্ম নিবন্ধন বাংলা থেকে ইংরেজি করার নিয়ম
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔


