ইসলামে মৃত্যু-পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা অত্যন্ত মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানাজা ও দাফন কোনো সামাজিক আনুষ্ঠানিকতা মাত্র নয়; বরং এটি কুরআন–সুন্নাহ ও শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একজন মুসলমান মৃত্যুর পরও যেন সম্মানের সঙ্গে শেষ বিদায় পায়—ইসলাম সেই নিশ্চয়তা দিয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে জানাজায় অংশগ্রহণ করেছেন, কবর খননে সহযোগিতা করেছেন এবং মৃত ব্যক্তিকে মাটি দেওয়ার সময় উপস্থিত থেকেছেন। তাই দাফনের নিয়ম-কানুন জানা ও তা সঠিকভাবে পালন করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
আরও পড়ুন-জানাজার নামাজের দোয়া অর্থসহ বাংলা উচ্চারণ
কবর দেওয়ার নিয়ম
ইসলামে দাফন প্রক্রিয়ার কিছু মৌলিক নিয়ম ও আদব রয়েছে। সেগুলো হলো—
- মৃত ব্যক্তিকে যথাযথভাবে গোসল করানো, কাফন পরানো এবং জানাজার নামাজ আদায় করা।
- কবর এমনভাবে খনন করা যাতে তা যথেষ্ট গভীর হয় এবং মৃতদেহ নিরাপদ থাকে।
- মৃতদেহকে ডান কাতে কিবলামুখী করে কবরে রাখা।
- কবর ঢেকে দিয়ে মাটি চাপা দেওয়া এবং তা সমান করা।
নবীজি (সা.) মৃত ব্যক্তিকে সম্মানের সঙ্গে দাফন করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন—
“তোমরা মৃতদেহকে সম্মানের সাথে দাফন করো।”
(সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৩২২১)
কবরে মাটি দেওয়ার নিয়ম
দাফনের সময় কবরে মাটি দেওয়ার ক্ষেত্রেও সুন্নাহ অনুযায়ী একটি সুন্দর নিয়ম রয়েছে। সাধারণত প্রথমে তিন মুঠো মাটি দেওয়া সুন্নাহ। উপস্থিত ব্যক্তিরা পালাক্রমে মৃতের দিকে মুখ করে এই তিন মুঠো মাটি দেন।
প্রতিবার মাটি দেওয়ার সময় সুরা ত্বাহা’র ৫৫ নম্বর আয়াতের একটি অংশ পাঠ করা হয়—
-
প্রথম মুঠো মাটি দেওয়ার সময়:
“মিনহা খালাক্না–কুম”
অর্থ: আমি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি। -
দ্বিতীয় মুঠো মাটি দেওয়ার সময়:
“ওয়া ফীহা নু‘ঈদুকুম”
অর্থ: এবং আমি তোমাদেরকে তাতেই ফিরিয়ে দেব। -
তৃতীয় মুঠো মাটি দেওয়ার সময়:
“ওয়া মিনহা নুখরিজুকুম তারাতান উখরা”
অর্থ: এবং সেখান থেকেই আমি তোমাদেরকে আবার একবার বের করব।
এই আমলটি রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর মাধ্যমে প্রমাণিত।
(তাফসির ইবনে কাসির, সুরা ত্বাহা: ৫৫-এর ব্যাখ্যা)
দাফনের পর দোয়া
দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা সুন্নাহ। রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতিবার দাফনের পর সাহাবিদের উদ্দেশ্যে বলতেন—
“তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তার জন্য দৃঢ়তার দোয়া করো। কারণ এখন তাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে।”
(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩২২১; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৫৩১)
এ সময় সাধারণত এই দোয়া পড়া হয়—
📖 দোয়ার উচ্চারণ
আল্লাহুম্মাগ্ফির লাহু, আল্লাহুম্মা সাব্বিতহু, আল্লাহুম্মাজ্‘আল কবরাহু রাওযাতান মিন রিয়াযিল জান্নাহ।
📖 দোয়ার অর্থ
হে আল্লাহ! আপনি তাকে ক্ষমা করুন, তাকে দৃঢ় রাখুন এবং তার কবরকে জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগানে পরিণত করুন।
উপসংহার
কবরের মাটি দেওয়ার নিয়ম ও দাফনের পর দোয়া ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিষ্টাচার। এর মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়, আখিরাতের বাস্তবতা স্মরণ করা হয় এবং জীবিতদের জন্য গভীর শিক্ষা নিহিত থাকে। আমাদের উচিত রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রদর্শিত এই সুন্নাহগুলো সঠিকভাবে জানা ও যথাযথভাবে পালন করা—এতেই রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ।
আরও পড়ুন-রোজা না রেখে কি ইফতার করা যাবে?
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔


