বর্তমান বাংলাদেশে মোবাইল সিম শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়—এটি এখন একজন নাগরিকের ডিজিটাল পরিচয়ের অন্যতম প্রধান অংশ। ব্যাংকিং, বিকাশ-নগদ লেনদেন, সরকারি সেবা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, এমনকি জমি রেজিস্ট্রেশনের নোটিফিকেশন পর্যন্ত সব কিছুই এখন মোবাইল নম্বরের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। অথচ বাস্তবতা হলো—আজও দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ নিজের নামে নিবন্ধিত নয় এমন সিম ব্যবহার করছেন।
কেউ ব্যবহার করছেন বাবার নামে নেওয়া পুরনো সিম, কেউ স্ত্রীর নামে, কেউ আবার বন্ধুর নামে রেজিস্ট্রেশন করা সিম। এর ফলে তৈরি হচ্ছে গুরুতর আইনি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BTRC) ২০২৬ সালের জন্য মোবাইল সিম মালিকানা পরিবর্তন ও পুনঃনিবন্ধন সংক্রান্ত নিয়ম আরও কঠোর ও স্পষ্ট করেছে।
আরও পড়ুন-টেলিটক মিনিট অফার (সর্বশেষ আপডেট)
সিমের মালিকানা কেন পরিবর্তন করা জরুরি?
বর্তমানে দেশের আইন অনুযায়ী যার নামে সিম, সেই ব্যক্তি সব ধরনের দায়ভার বহন করেন। সিম ব্যবহারকারী আলাদা হলেও আইনি দৃষ্টিতে মালিক দায়ী।
সিম নিজের নামে না হলে যেসব বড় ঝুঁকি তৈরি হয়—
-
✅ অপরাধে ব্যবহৃত হলে আপনিও মামলায় জড়াতে পারেন।
-
✅ বিকাশ/নগদ অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে ব্লক হতে পারে।
-
✅ সরকারি ডিজিটাল সার্ভিস বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
-
✅ সিম হঠাৎ করে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
-
✅ বিদেশ ভ্রমণ বা ভিসা সংক্রান্ত যাচাইয়ে সমস্যা হতে পারে।
এই কারণেই সরকার এখন নিজের নামে সিম ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে।
আপডেট সিম মালিকানা পরিবর্তন নীতিমালা (BTRC)
২০২৬ সালের সর্বশেষ বিটিআরসি নির্দেশনা অনুযায়ী—
-
✅ একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০- ১৫ টি সিম নিজের নামে রাখতে পারবেন।
-
✅ প্রতিটি সিমে বাধ্যতামূলক বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন থাকতে হবে।
-
✅ ভুল তথ্য দিলে সিম স্থায়ীভাবে বাতিল করা হতে পারে।
-
✅ অপরাধে ব্যবহৃত হলে মালিকই দায়ী হবেন।
সিম মালিকানা পরিবর্তনের অফিসিয়াল ধাপে-ধাপে নিয়ম
▶ ধাপ–১: নির্ধারিত কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে যেতে হবে
অবশ্যই সংশ্লিষ্ট অপারেটরের অফিসিয়াল কাস্টমার কেয়ারে যেতে হবে—
-
গ্রামীণফোন।
-
রবি।
-
বাংলালিংক।
-
টেলিটক।
⚠️ দালাল বা অননুমোদিত দোকান থেকে করবেন না।
▶ ধাপ–২: উভয় পক্ষের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক
✅ বর্তমান মালিক
✅ নতুন মালিক
—দুজনকেই একসাথে আসতে হবে।
▶ ধাপ–৩: যে কাগজপত্র লাগবে
-
✅ উভয়ের মূল জাতীয় পরিচয়পত্র (NID কার্ড)।
-
✅ যেই সিমের মালিকানা পরিবর্তন হবে, সেই সিম।
-
✅ উভয়ের বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ)।
-
✅ কিছু ক্ষেত্রে ১ কপি ছবি।
▶ ধাপ–৪: নির্ধারিত ফি প্রদান
✅ সাধারণত ৫০–১০০ টাকা নেওয়া হয়।
(অপারেটর ও এলাকাভেদে পার্থক্য হতে পারে)
▶ ধাপ–৫: বায়োমেট্রিক যাচাই ও ডাটাবেস আপডেট
সব তথ্য মিললে সাথে সাথেই সরকারি সার্ভারে মালিকানা হস্তান্তর সম্পন্ন হয়।
সিম মালিকানা পরিবর্তন করতে কত সময় লাগে?
✅ সাধারণত ১০ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যেই মালিকানা পরিবর্তন সম্পূর্ণ হয়।
✅ কিছু ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
অনলাইনে কি সিম মালিকানা পরিবর্তন করা যায়?
👉 পুরোপুরি অনলাইনে এখনো সম্ভব নয়।
✅ তবে কিছু অপারেটর অনলাইন প্রি-রিকোয়েস্ট নেওয়ার সুবিধা দেয়।
❌ কিন্তু বায়োমেট্রিকের জন্য সরাসরি কাস্টমার কেয়ারে যেতেই হবে।
মৃত ব্যক্তির নামে থাকা সিম কীভাবে বৈধভাবে ট্রান্সফার করবেন?
এই ক্ষেত্রে যা লাগবে—
-
✅ মৃত ব্যক্তির মৃত্যু সনদ।
-
✅ উত্তরাধিকারীর NID।
-
✅ পারিবারিক সম্পর্কের প্রমাণ।
-
✅ কাস্টমার কেয়ারে লিখিত আবেদন।
যাচাই শেষে বৈধভাবে সিম নতুন মালিকের নামে হস্তান্তর করা হয়।
সিম মালিকানা পরিবর্তনের সময় যে ভুলগুলো অনেকেই করেন
-
❌ ফটোকপি দিয়ে চেষ্টা করা।
-
❌ দালালের মাধ্যমে করানো।
-
❌ প্রকৃত মালিক ছাড়া যাওয়া।
-
❌ ভুল জন্মতারিখ বা ঠিকানা দেওয়া।
-
❌ একাধিক সিমের তথ্য গোপন করা।
⚠️ এসব কারণে সিম স্থায়ীভাবে ব্লক হয়ে যেতে পারে।
সিমের মালিকানা চেক
অনেক সময় আমরা নিশ্চিত থাকি না—আমাদের ব্যবহৃত সিমটি আসলে আমাদের নিজের নামে নিবন্ধিত কিনা। এই সমস্যার সমাধানে সরকার এবং মোবাইল অপারেটররা সহজ ব্যবস্থা রেখেছে। আপনি চাইলে কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে সহজেই সিমের মালিকানা যাচাই করতে পারবেন। এছাড়া কিছু অপারেটরের অ্যাপ বা ইউএসএসডি কোডের মাধ্যমেও প্রাথমিক তথ্য দেখা যায়। নিজের নামে সিম নিবন্ধিত না থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে মালিকানা পরিবর্তনের ব্যবস্থা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
মৃত ব্যক্তির সিমের মালিকানা পরিবর্তন
মৃত কোনো ব্যক্তির নামে থাকা সিম আইনগতভাবে উত্তরাধিকারী ব্যবহার করতে পারলেও, তা নিজের নামে হালনাগাদ না করলে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে মৃত ব্যক্তির মৃত্যু সনদ, উত্তরাধিকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পারিবারিক সম্পর্কের প্রমাণ জমা দিতে হয়। যাচাই শেষে বৈধভাবে নতুন মালিকের নামে সিম রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা হয়। এতে ভবিষ্যতে কোনো আইনি জটিলতা থাকে না।
রবি সিমের মালিকানা পরিবর্তন
রবি সিমের মালিকানা পরিবর্তনের জন্য নিকটস্থ রবি কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে যেতে হয়। পুরোনো মালিক ও নতুন মালিক—উভয়কেই সঙ্গে থাকতে হয়। উভয়ের মূল জাতীয় পরিচয়পত্র, সিম কার্ড এবং বায়োমেট্রিক উপস্থিত থাকলে সাধারণত ১০–২০ মিনিটের মধ্যেই মালিকানা পরিবর্তন সম্পন্ন হয়। রবি কর্তৃপক্ষ বিটিআরসি’র নিয়ম অনুযায়ী সব তথ্য সরকারি সার্ভারে আপডেট করে থাকে।
রবি সিমের মালিকানা পরিবর্তন করতে কত টাকা লাগে
বর্তমানে রবি সিমের মালিকানা পরিবর্তনের জন্য সাধারণত ৫০ থেকে ১০০ টাকা ফি নেওয়া হয়। এই ফি অঞ্চল ও সার্ভিস টাইপ অনুযায়ী সামান্য কমবেশি হতে পারে। তবে নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই—দালাল বা অননুমোদিত দোকানে টাকা দেওয়া সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ।
জিপি সিমের মালিকানা পরিবর্তন
গ্রামীণফোন (GP) সিমের মালিকানা পরিবর্তনের জন্য আপনাকে অবশ্যই অফিসিয়াল গ্রামীণফোন কাস্টমার কেয়ারে যেতে হবে। উভয় পক্ষের জাতীয় পরিচয়পত্র, সিম কার্ড ও বায়োমেট্রিক মিললেই সঙ্গে সঙ্গে ডাটাবেস আপডেট করে দেওয়া হয়। গ্রামীণফোন সিম দেশের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হওয়ায় এই প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
গ্রামীন সিমের মালিকানা পরিবর্তন
গ্রামীণফোন সিমের মালিকানা পরিবর্তনের নিয়ম রবি বা বাংলালিংকের মতোই। কাস্টমার কেয়ারে সরাসরি উপস্থিত হয়ে বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করাতে হয়। অনেকেই ধারণা করেন এটি অনলাইনে করা যায়, কিন্তু বাস্তবে বায়োমেট্রিক বাধ্যতামূলক হওয়ায় সরাসরি উপস্থিতি ছাড়া মালিকানা পরিবর্তন সম্ভব নয়।
সিমের মালিকানা পরিবর্তন করতে কত টাকা লাগে
সাধারণভাবে বাংলাদেশের সব অপারেটরের ক্ষেত্রে সিমের মালিকানা পরিবর্তনের খরচ ৫০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিছু ক্ষেত্রে অফার বা বিশেষ ক্যাম্পেইনের আওতায় এই ফি মওকুফও করা হয়। তবে কেউ যদি এর চেয়ে বেশি টাকা দাবি করে, তাহলে নিশ্চিতভাবেই সেটি অননুমোদিত কার্যক্রম।
ঘরে বসে সিমের মালিকানা পরিবর্তন
অনেকেই জানতে চান—ঘরে বসে কি সিমের মালিকানা পরিবর্তন করা যায়? বাস্তবতা হলো, সম্পূর্ণভাবে ঘরে বসে সিমের মালিকানা পরিবর্তন করার সুযোগ এখনো নেই। কারণ এতে বায়োমেট্রিক যাচাই বাধ্যতামূলক। তবে কিছু অপারেটর অনলাইনে প্রাথমিক আবেদন নেওয়ার সুযোগ দেয়, যার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করতে হয়।
এয়ারটেল সিমের মালিকানা পরিবর্তন
এয়ারটেল (বর্তমানে রবি-এয়ারটেল নেটওয়ার্কের অংশ) সিমের মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। উভয় পক্ষের উপস্থিতি, NID কার্ড, সিম ও বায়োমেট্রিক যাচাই সম্পন্ন হলেই মালিকানা পরিবর্তন করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও নিরাপদ হওয়ায় নতুন মালিক নিশ্চিন্তে সিম ব্যবহার করতে পারেন।
অনলাইনে সিমের মালিকানা পরিবর্তন
বর্তমানে বাংলাদেশে পুরোপুরি অনলাইনে সিমের মালিকানা পরিবর্তনের কোনো অফিসিয়াল সুবিধা চালু নেই। কারণ একজন নাগরিকের পরিচয় নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অনলাইনে শুধু তথ্য পূরণ বা প্রাথমিক আবেদন করা গেলেও চূড়ান্ত মালিকানা পরিবর্তনের জন্য কাস্টমার কেয়ারে উপস্থিত হওয়া লাগেই।
অনলাইনে বাংলালিংক সিমের মালিকানা পরিবর্তন
অনেকেই মনে করেন বাংলালিংক সিম অনলাইনে পুরোপুরি ট্রান্সফার করা যায়—কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। বাংলালিংক অনলাইনে শুধু কিছু প্রাথমিক তথ্য আপডেটের অনুমতি দেয়। তবে চূড়ান্ত মালিকানা পরিবর্তনের জন্য অবশ্যই বাংলালিংক কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে বায়োমেট্রিক যাচাই সম্পন্ন করতে হয়।
কিভাবে সিমের মালিকানা পরিবর্তন করা যায়
সিমের মালিকানা পরিবর্তনের সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ উপায় হলো—নিকটস্থ অফিসিয়াল কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে পুরোনো ও নতুন মালিক একসাথে উপস্থিত হওয়া। সঙ্গে উভয়ের জাতীয় পরিচয়পত্র, সিম কার্ড ও বায়োমেট্রিক থাকলেই কয়েক মিনিটের মধ্যেই মালিকানা হস্তান্তর সম্পন্ন হয়ে যায়। এটি সম্পূর্ণ সরকারি নিয়মের আওতায় হওয়ায় ভবিষ্যতে কোনো ঝামেলার আশঙ্কা থাকে না।
প্রশ্ন–উত্তর
প্রশ্ন ১: এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ কতটি সিম রাখতে পারবেন?
✅ সর্বোচ্চ ১০-১৫টি সিম।
প্রশ্ন ২: সিম মালিকানা পরিবর্তন না করলে কী হবে?
✅ সিম ব্লক, MFS বন্ধ, আইনি ঝামেলা, ডিজিটাল সার্ভিস বন্ধ হতে পারে।
প্রশ্ন ৩: বিদেশ থেকে কি সিম ট্রান্সফার করা যাবে?
❌ না, দুজনের সরাসরি উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।
প্রশ্ন ৪: নতুন NID না থাকলে কি করা যাবে?
✅ স্মার্ট কার্ড বা অনলাইন NID কপি দিয়ে প্রাথমিকভাবে যাচাই হতে পারে।
উপসংহার
বর্তমান সময়ে মোবাইল সিম কেবল একটি ফোন নম্বর নয়—এটি একজন নাগরিকের আর্থিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের সাথে সরাসরি যুক্ত। ভুল নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করা মানে নিজেই নিজের জন্য ভবিষ্যতের আইনি ঝামেলা তৈরি করা। আজ নয় কাল—কখনো না কখনো আপনি এর ভুক্তভোগী হবেনই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই সময় নিজের নামে সব সিম হালনাগাদ করে নেওয়ার। এতে যেমন আপনি আইনি নিরাপত্তা পাবেন, তেমনি আপনার মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস, সরকারি ডিজিটাল সেবা ও ব্যক্তিগত তথ্য থাকবে শতভাগ নিরাপদ। তাই আর দেরি না করে আজই নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে গিয়ে আপনার সিমের মালিকানা যাচাই ও প্রয়োজনে পরিবর্তন করে নিন।
আরও পড়ুন-টেলিটক ইমারজেন্সি ব্যালেন্স নেওয়ার নিয়ম(আপডেট)
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









