মুঠোফোন ব্যবহারকারীদের জন্য স্বস্তির খবর। এখন থেকে মোবাইল ফোনে রিচার্জ করা ব্যালান্স বা এয়ারটাইম ব্যবহার করে ডিজিটাল পণ্য ও সেবা কেনার সীমা বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একজন গ্রাহক মাসে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা এবং বছরে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকার ডিজিটাল পণ্য ও সেবা কিনতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (এমটব)-এর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই এই সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন-BTCL সিম বাজারে আসার সর্বশেষ আপডেট কী?
আগে কত ছিল, এখন কত হলো
এর আগে একজন গ্রাহক মুঠোফোনের ব্যালান্স ব্যবহার করে মাসে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকা এবং বছরে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকার ডিজিটাল পণ্য বা সেবা কিনতে পারতেন। নতুন সিদ্ধান্তে সেই সীমা কয়েক গুণ বাড়ানো হলো।
এতে করে নিয়মিত ডিজিটাল সেবা ব্যবহারকারী গ্রাহকদের জন্য মোবাইল ব্যালান্সের ব্যবহার আরও সহজ ও কার্যকর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কোন কোন সেবা কেনা যাবে
এমটবের মহাসচিব লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকার জানান, এই ব্যবস্থার আওতায় এখন থেকে মুঠোফোন ব্যবহারকারীরা টকটাইম ব্যবহার করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
এই সেবার মধ্যে রয়েছে—
-
প্রায় ৩৩টি সরকারি ডিজিটাল সেবা।
-
নাগরিকত্ব ও জাতীয়তা সনদ।
-
জন্ম ও মৃত্যু সনদ।
-
এতিম সনদ ও বিবাহ সনদ।
-
নতুন ভোটার যাচাই।
-
বিভিন্ন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ওটিটি প্ল্যাটফর্ম।
-
বিনোদনমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট।
ফলে সরকারি সেবা ও বিনোদনমূলক সেবা—দুটোই এখন মোবাইল ব্যালান্স ব্যবহার করে সহজে নেওয়া যাবে।
ডাইরেক্ট অপারেটর বিলিং নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন, ২০২৪ অনুযায়ী ডাইরেক্ট অপারেটর বিলিং (ডিওবি) পরিচালনার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই নীতিমালার আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষেই ডিওবি পরিচালনা করা যাবে। তবে নীতিমালা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সাময়িকভাবে মোবাইল অপারেটরদের ডিওবি পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
যেসব শর্ত মানতে হবে মোবাইল অপারেটরদের
সাময়িক অনুমতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত আরোপ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—
-
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইন কঠোরভাবে অনুসরণ করা।
-
কেবল মোবাইল ডিভাইসে ব্যবহারযোগ্য ডিজিটাল পণ্য বা সেবার কেনাবেচা করা।
-
ডিজিটাল পণ্য বা সেবা নির্বাচনের ক্ষেত্রে অপারেটরের নিজস্ব পণ্য বা সার্ভিস কতটুকু ব্যবহৃত হচ্ছে, তা বিবেচনায় নেওয়া।
-
সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ, ভার্চ্যুয়াল কারেন্সি কেনাবেচা নিষিদ্ধ রাখা।
যেসব খাতে ব্যালান্স ব্যবহার নিষিদ্ধ
বাংলাদেশ ব্যাংক স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, এই ব্যবস্থার আওতায় কিছু খাতে কোনো ধরনের লেনদেন করা যাবে না।
নিষিদ্ধ খাতগুলো হলো—
-
স্থানীয় বা বৈদেশিক মুদ্রায় জুয়া, ক্যাসিনো ও লটারি।
-
ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল অ্যাসেট কেনাবেচা।
-
ফরেক্স বা শেয়ারবাজারে ট্রেডিং।
-
মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কার্যক্রম।
এ ছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনও এই সেবার আওতায় করা যাবে না।
প্রবাসী মার্চেন্ট ও রিফান্ড নীতিমালা
প্রবাসী কোনো মার্চেন্টের পক্ষে ডিজিটাল সেবা বিক্রির ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রায় রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রয়োজন হলে কেস-টু-কেস ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ থেকে অনুমোদন নিতে হবে।
একই সঙ্গে ডিজিটাল পণ্য বা সেবার ডেলিভারি নিশ্চিত করা, গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ এবং রিফান্ড ও চার্জব্যাক নীতিমালা প্রণয়ন করাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ডিজিটাল সেবায় নতুন সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞদের মতে, মোবাইল ব্যালান্স দিয়ে ডিজিটাল পণ্য ও সেবা কেনার সীমা বাড়ানো ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এতে করে ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা ব্যবহারকারীরাও সহজে ডিজিটাল সেবার আওতায় আসবেন।
একই সঙ্গে সরকারি সেবা গ্রহণ আরও সহজ হবে এবং ডিজিটাল অর্থনীতিতে লেনদেনের পরিধি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-বাজারে আসছে দেশের প্রথম সরকারি BTCL MVNO মোবাইল সিম
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔








