আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

কাজের কারণে জুমা নামাজ ছুটে গেলে কী করবেন? ইসলামের দৃষ্টিতে সঠিক করণীয়

ইসলাম ধর্মে জুমার নামাজ শুধু একটি সাপ্তাহিক ইবাদত নয়; বরং এটি মুসলমানদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ফরজ দায়িত্ব। জুমার দিনকে বলা হয়েছে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন, আর এই দিনের নামাজের প্রতি কোরআন ও হাদিসে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। তবে বাস্তব জীবনে অনেক সময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়—বিশেষ করে কাজ, দায়িত্ব বা অনিবার্য কারণে—যার ফলে জুমার নামাজ জামাতে আদায় করা সম্ভব হয় না।

তাহলে প্রশ্ন হলো—
👉 কাজের কারণে জুমা নামাজ ছুটে গেলে একজন মুসলমান কী করবেন?
এই বিষয়েই ইসলামের সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আজকের এই আলোচনা।

আরও দেখুন-জুমার দিনের শ্রেষ্ঠ আমল কী?

জুমার নামাজের গুরুত্ব কোরআন ও হাদিসে

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে জুমার নামাজের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে বলেন—

“হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে দ্রুত ছুটে যাও এবং বেচাকেনা বন্ধ করো। এটা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা উপলব্ধি করো।”
(সুরা জুমা : ৯)

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, জুমার নামাজকে অন্য সব দুনিয়াবি কাজের ওপর প্রাধান্য দিতে বলা হয়েছে।

জুমা অবহেলা করার ব্যাপারে কঠোর সতর্কবার্তা

নবী করিম (সা.) জুমার নামাজকে হালকাভাবে নেওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে—

“যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে পরপর তিনটি জুমা নামাজ পরিত্যাগ করে, আল্লাহ তায়ালা তার অন্তরে মোহর এঁটে দেন।”
(সহিহ বুখারি : ১০৫২)

অর্থাৎ, বিনা কারণে বা অবহেলাবশত জুমা ছেড়ে দেওয়া অত্যন্ত গুনাহের কাজ এবং এটি ঈমানের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

তবে কি কোনো অবস্থাতেই জুমা ছাড়া যাবে না?

ইসলাম একটি সহজ ও বাস্তবমুখী জীবনব্যবস্থা। আল্লাহ তায়ালা কখনোই বান্দার ওপর তার সাধ্যের বাইরে কোনো দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না। কোরআনে বলা হয়েছে—

“আল্লাহ দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা রাখেননি।”

এই নীতির আলোকে শরিয়তে কিছু যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য অজুহাত স্বীকৃত হয়েছে, যেগুলোর কারণে জুমার নামাজ জামাতে আদায় করা সম্ভব না হলে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।

শরিয়তসম্মত বৈধ অজুহাত কী কী?

ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, বিশেষ করে মালিকি মাযহাবসহ অন্যান্য মাযহাবের আলেমগণ কিছু কারণ উল্লেখ করেছেন, যেগুলো জুমা ছুটে যাওয়ার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য অজুহাত হিসেবে বিবেচিত—

✔ গুরুতর অসুস্থতা
✔ এমন রোগ যা নিয়ে মসজিদে যাওয়া কষ্টকর
✔ প্রবল বৃষ্টি, ঝড় বা অতিরিক্ত কাদা
✔ কারাবন্দি বা আটক অবস্থা
✔ চরম দুর্বলতা বা বার্ধক্য
✔ অসুস্থ রোগীর জরুরি সেবায় নিয়োজিত থাকা
✔ এমন কাজ বা দায়িত্ব, যা ছেড়ে গেলে বড় ক্ষতি বা বিপদ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে (শরিয়তসম্মত হলে)

কাজের কারণে জুমা পড়তে না পারলে কী করবেন?

যদি কেউ চাকরি, দায়িত্ব বা এমন কোনো জরুরি কাজের কারণে, যা শরিয়ত স্বীকৃত, জুমার নামাজ জামাতে আদায় করতে না পারেন—তাহলে তার জন্য করণীয় হলো—

👉 চার রাকাত জোহরের ফরজ নামাজ আদায় করা।

এই অবস্থায় জুমার নামাজ তার ওপর বাধ্যতামূলক থাকবে না, বরং জোহর আদায় করলেই তার ফরজ দায়িত্ব আদায় হয়ে যাবে।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

🔴 এই ছাড় বা অনুমতি শুধু বিশেষ ও অনিবার্য পরিস্থিতির জন্য।
🔴 ইচ্ছাকৃতভাবে, অলসতা বা সুবিধার জন্য জুমা বাদ দিয়ে শুধু জোহর পড়া জায়েজ নয়।
🔴 নিয়মিতভাবে কাজের অজুহাতে জুমা ত্যাগ করা ঈমানের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

একজন মুমিনের উচিত—যতটা সম্ভব কর্মস্থল, ব্যবসা বা সময়সূচি এমনভাবে সাজানো, যাতে জুমার নামাজ জামাতে আদায় করা যায়।

উপসংহার

জুমার নামাজ মুসলমানদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত, যা কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। তবে ইসলাম যেহেতু সহজ ও মানবিক ধর্ম, তাই বাস্তব জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতে শরিয়তসম্মত অজুহাত থাকলে বিকল্প হিসেবে জোহরের নামাজ আদায়ের সুযোগ দিয়েছে।

আরও পড়ুন-মহরম ও আশুরা ২০২৫:কত তারিখে,আমল,রোজা,ফজিলত,ইতিহাস জানুন

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। আমি মোঃ সানাউল বারী। পেশায় আমি একজন চাকরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। চাকরির পাশাপাশি, আমি গত ১৪ বছর ধরে আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটে লেখালেখি করছি এবং আমার নিজস্ব ইউটিউব এবং ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করছি। বিশেষ দ্রষ্টব্য - লেখায় যদি কোনও ভুল থাকে, তাহলে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। ধন্যবাদ।