জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ের বাংলাদেশে রাজনীতি এক নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে। পরিবর্তিত এই প্রেক্ষাপটে তরুণ সমাজের অংশগ্রহণ, মতামত ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে রাজনীতিকে আরও আধুনিক ও পলিসিভিত্তিক করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে দলটি চালু করেছে একটি ব্যতিক্রমধর্মী ডিজিটাল ওয়েব অ্যাপ— ‘ম্যাচ মাই পলিসি’।
এই উদ্যোগকে দেশের রাজনীতিতে প্রথমবারের মতো ইন্টার্যাকটিভ ডিজিটাল পলিসি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে তরুণ ও সাধারণ মানুষ সরাসরি রাজনৈতিক নীতিনির্ধারণে মতামত দিতে পারবেন।
আরও –জাতীয় জাদুঘর অনলাইন টিকিট- সময়সূচি, প্রবেশমূল্য ও টিকেট কাটার নিয়ম
‘ম্যাচ মাই পলিসি’ কী?
‘ম্যাচ মাই পলিসি’ হলো একটি সোয়াইপভিত্তিক ওয়েব অ্যাপ, যা ব্যবহারকারীদের জন্য সহজ, দ্রুত এবং পরিচিত ডিজিটাল অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে।
এই অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা বিএনপির বিভিন্ন নীতি, পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং নিজের মতামতের সঙ্গে সেগুলোর মিল খুঁজে নিতে পারবেন।
👉 ওয়েব অ্যাপটি ব্যবহার করা যাবে এই ঠিকানায়:
www.matchmypolicy.net
কীভাবে কাজ করবে এই ওয়েব অ্যাপ?
এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটির কার্যপ্রণালি তরুণদের কথা মাথায় রেখেই ডিজাইন করা হয়েছে।
-
প্রতিটি স্ক্রিনে বিএনপির নির্দিষ্ট কোনো নীতি বা পরিকল্পনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেখানো হবে।
-
ব্যবহারকারী সোয়াইপ করে জানাতে পারবেন তিনি সেই নীতির পক্ষে, বিপক্ষে নাকি নিরপেক্ষ।
-
ব্যবহারকারীর মতামতের সঙ্গে বিএনপির নীতির কতটা মিল রয়েছে, তা ইন্টার্যাকটিভভাবে উপস্থাপন করা হবে।
-
রয়েছে আলাদা ‘Opinion’ অপশন, যেখানে যে কেউ লিখিতভাবে নিজের পরামর্শ, মতামত বা সমালোচনা তুলে ধরতে পারবেন।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো জটিলতা নেই—একটি স্মার্টফোন বা কম্পিউটার থাকলেই অংশগ্রহণ করা সম্ভব।
কেন এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ?
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে তরুণদের একটি বড় অভিযোগ ছিল—
“আমাদের কথা শোনা হয় না, নীতিনির্ধারণে আমাদের জায়গা নেই।”
‘ম্যাচ মাই পলিসি’ সেই অভিযোগের জবাব হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য—
-
জেন-জি ও তরুণ সমাজকে রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা।
-
রাজনৈতিক আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকে ব্যক্তি-কেন্দ্রিক নয়, পলিসি-কেন্দ্রিক করা।
-
জনগণের প্রত্যক্ষ মতামতের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়ন।
-
রাজনীতিতে স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র ও আধুনিকতা নিশ্চিত করা।
বিএনপির মিডিয়া সেলের বক্তব্য
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ বিষয়ে তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, এই প্ল্যাটফর্মে তরুণ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণ নির্বিঘ্নে নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারবেন, যা দলটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শুধু অ্যাপ নয়, নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির বার্তা
বিএনপির মতে, ‘ম্যাচ মাই পলিসি’ কেবল একটি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নয়।
এটি—
-
পলিসি-নির্ভর রাজনীতির সূচনা।
-
দল ও জনগণের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সেতুবন্ধন।
-
ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য গণমুখী ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনার ভিত্তি।
অ্যাপটির শেষ অংশে ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষ কনটেন্ট রাখা হয়েছে, যেখানে বিএনপির ভবিষ্যৎ ভাবনা, নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গি ও রাষ্ট্র পরিচালনার পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাওয়া যাবে।
তরুণদের জন্য কী বার্তা দিচ্ছে বিএনপি?
এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিএনপি স্পষ্ট বার্তা দিতে চাচ্ছে—
“বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তরুণদের হাতেই, আর সেই ভবিষ্যৎ গড়ার সিদ্ধান্তেও তাদের অংশগ্রহণ থাকতে হবে।”
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে রাজনীতিতে তরুণদের যুক্ত করার এই প্রয়াস দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
উপসংহার
রাজনীতিতে অংশগ্রহণের ধরণ বদলাচ্ছে, আর সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়েই বিএনপির ‘ম্যাচ মাই পলিসি’ উদ্যোগ।
যেখানে ভোটের আগে নয়, নীতির সময়েই মত দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন তরুণ ও সাধারণ মানুষ।
এই ওয়েব অ্যাপ ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনীতিকে কতটা গণমুখী ও আধুনিক করে তুলতে পারে—তা নির্ভর করবে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর।
একটি বিষয় নিশ্চিত—
‘ম্যাচ মাই পলিসি’ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ডিজিটালাইজেশনের পথে একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন।
আরও পড়ুন-পিজি হাসপাতাল অনলাইন টিকেট বুকিং
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔


