আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

জাতীয়তা সনদ অনলাইন আবেদন করার নিয়ম (আপডেট)

February 16, 2026 7:42 PM
জাতীয়তা সনদ অনলাইন আবেদন করার ধাপসমূহ

জাতীয়তা সনদ বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রত্যয়নপত্র। বিভিন্ন সময় শিক্ষা, চাকরি, পাসপোর্ট, বিদেশে পড়াশোনা, ব্যাংকিং, ভিসা আবেদন কিংবা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয়তা প্রমাণের জন্য এই সনদ প্রয়োজন হয়। আগে জাতীয়তা সনদ পেতে ইউনিয়ন পরিষদ বা স্থানীয় সরকার অফিসে একাধিকবার যেতে হতো। এতে সময় নষ্ট হতো, ভোগান্তিও ছিল বেশি।

বর্তমানে সরকারের ডিজিটাল সেবা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অনলাইনে জাতীয়তা সনদের আবেদন করা যাচ্ছে। e-প্রত্যয়ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এখন ঘরে বসেই জাতীয়তা সনদের জন্য আবেদন করা সম্ভব। এই ব্লগ পোস্টে আপডেট নিয়ম অনুযায়ী জাতীয়তা সনদ অনলাইনে আবেদন করে পাওয়ার সম্পূর্ণ পদ্ধতি ধাপে ধাপে সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো।

আরও পড়ুন-অনলাইনে ই-ট্রেড লাইসেন্স করার নিয়ম(আবেদন, কাগজপত্র ও খরচ)

জাতীয়তা সনদ কী

জাতীয়তা সনদ হলো স্থানীয় সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত একটি সরকারি সনদ, যেখানে প্রমাণ করা হয় যে আবেদনকারী একজন বাংলাদেশি নাগরিক। এই সনদ সাধারণত ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন থেকে প্রদান করা হয়।

জাতীয়তা সনদ কেন প্রয়োজন

জাতীয়তা সনদের প্রয়োজন হয়—

  • বিদেশে পড়াশোনা বা চাকরির আবেদনে।

  • পাসপোর্ট ও ভিসা সংক্রান্ত কাজে।

  • ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে।

  • সরকারি চাকরি বা কোটা সংক্রান্ত বিষয়ে।

  • বিভিন্ন আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায়।

অনলাইনে জাতীয়তা সনদ আবেদনের সুবিধা

অনলাইন পদ্ধতিতে আবেদন করার ফলে—

  • ইউনিয়ন পরিষদে বারবার যেতে হয় না।

  • সময় ও খরচ সাশ্রয় হয়।

  • দালাল নির্ভরতা কমে।

  • আবেদন স্ট্যাটাস অনলাইনে দেখা যায়।

  • তথ্য সংশোধনের সুযোগ থাকে।

জাতীয়তা সনদ অনলাইন আবেদন করার ধাপসমূহ (আপডেট)

নিচে ধাপে ধাপে পুরো আবেদন প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো—

ধাপ–০১: অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ

প্রথমেই আপনার মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে Google-এ গিয়ে সার্চ করুন—eprottoyon.com সার্চ রেজাল্ট থেকে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।

ধাপ–০২: নতুন অ্যাকাউন্ট রেজিস্ট্রেশন

ওয়েবসাইটে ঢোকার পর Register / রেজিস্টার অপশনে ক্লিক করুন।

নতুন হলে নিচের তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন—

  • আবেদনকারীর নাম।

  • মোবাইল নম্বর।

  • জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর।

  • একটি পাসওয়ার্ড।

রেজিস্ট্রেশন শেষ হলে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন।

ধাপ–০৩: সনদের জন্য আবেদন অপশন নির্বাচন

লগইন করার পর আপনার প্রোফাইল ড্যাশবোর্ড দেখা যাবে।

এখান থেকে—
👉 সনদের জন্য আবেদন অপশন নির্বাচন করুন ডান পাশে সব ধরনের সনদের তালিকা আসবে।
সেখান থেকে জাতীয়তা সনদ অপশন বাছাই করুন।

ধাপ–০৪: আবেদন ফরম পূরণ

এখন জাতীয়তা সনদের আবেদন ফরম ওপেন হবে।

এখানে যেসব তথ্য দিতে হবে—

  • আবেদনকারীর পূর্ণ নাম

  • জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর

  • পিতা ও মাতার নাম

  • জন্ম তারিখ

  • বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা

  • পেশা ও ধর্ম

স্ক্রিনশটে দেখানো নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি ঘর সঠিকভাবে পূরণ করুন।জাতীয়তা সনদ অনলাইন আবেদন করার ধাপসমূহ

ধাপ–০৫: প্রশাসনিক এলাকা নির্বাচন

এই ধাপে ড্রপডাউন মেনু থেকে নির্বাচন করতে হবে—

  • বিভাগ

  • জেলা

  • উপজেলা

  • ইউনিয়ন পরিষদ / ওয়ার্ড

ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে, তাই সতর্ক থাকুন।

ধাপ–০৬: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড

জাতীয়তা সনদের জন্য কিছু ডকুমেন্ট আপলোড করতে হয়।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র—

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)

  • জন্ম নিবন্ধন সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

  • পাসপোর্ট সাইজ ছবি

  • চেয়ারম্যান/কাউন্সিলরের প্রত্যয়ন (যদি চাওয়া হয়)

সব ফাইল পরিষ্কার ও নির্ধারিত ফরম্যাটে আপলোড করুন।

ধাপ–০৭: তথ্য যাচাই ও সম্মতি প্রদান

ফরম পূরণ শেষে সব তথ্য একবার ভালোভাবে যাচাই করুন।
এরপর নিচে থাকা সম্মতিপত্রে টিক চিহ্ন দিন।

ধাপ–০৮: আবেদন ফি পরিশোধ

সব তথ্য ঠিক থাকলে নির্ধারিত আবেদন ফি পরিশোধ করুন।

ফি পরিশোধের মাধ্যম—

  • মোবাইল ব্যাংকিং

  • অনলাইন পেমেন্ট

ফি পরিশোধ শেষে আবেদন সাবমিট করুন।

ধাপ–০৯: আবেদন যাচাই ও অনুমোদন

আবেদন জমা দেওয়ার পর এটি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ / পৌরসভা / সিটি করপোরেশনে পাঠানো হয়।

এই ধাপে—

  • তথ্য যাচাই করা হয়।

  • প্রয়োজনে সরেজমিন যাচাই হতে পারে।

  • ভুল থাকলে সংশোধনের নোটিশ আসে।

ধাপ–১০: জাতীয়তা সনদ সংগ্রহ

আবেদন অনুমোদিত হলে—

  • অনলাইনে স্ট্যাটাস আপডেট হবে।

  • নির্ধারিত অফিস থেকে সনদ সংগ্রহ করা যাবে।

  • কিছু ক্ষেত্রে অনলাইন কপি ডাউনলোডের সুযোগ থাকে।

জাতীয়তা সনদ পেতে কত সময় লাগে

সাধারণত—

  • ৫–১০ কার্যদিবসের মধ্যে।

  • যাচাই জটিল হলে কিছুটা সময় বেশি লাগতে পারে।

আবেদন বাতিল হলে করণীয়

যদি আবেদন বাতিল বা স্থগিত হয়—

  • বাতিলের কারণ পড়ুন।

  • ভুল তথ্য সংশোধন করুন।

  • প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক করে পুনরায় আবেদন করুন।

জাতীয়তা সনদ সংক্রান্ত প্রশ্ন–উত্তর

প্রশ্ন: অনলাইনে জাতীয়তা সনদ করা কি বৈধ?
উত্তর: হ্যাঁ, এটি সম্পূর্ণ সরকারি ও বৈধ পদ্ধতি।

প্রশ্ন: ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হবে কি?
উত্তর: অধিকাংশ ক্ষেত্রে না, তবে যাচাইয়ের প্রয়োজনে ডাকা হতে পারে।

প্রশ্ন: একাধিকবার আবেদন করা যাবে?
উত্তর: ভুল সংশোধনের জন্য পুনরায় আবেদন করা যায়।

প্রশ্ন: জাতীয়তা সনদ কতদিন বৈধ?
উত্তর: সাধারণত প্রয়োজনভেদে ব্যবহৃত হয়, মেয়াদ নির্দিষ্ট থাকে না।

উপসংহার

জাতীয়তা সনদ অনলাইন আবেদন ব্যবস্থা বাংলাদেশের ডিজিটাল সেবা ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও নাগরিকবান্ধব করেছে। সঠিক নিয়ম অনুসরণ করে ঘরে বসেই এখন জাতীয়তা সনদের জন্য আবেদন করা সম্ভব। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রেখে ধাপে ধাপে আবেদন করলে খুব সহজেই এই গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সনদ সংগ্রহ করা যায়।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

আরও পড়ুন-অনলাইনে ই-ট্রেড লাইসেন্স যাচাই করার নিয়ম(আপডেট)

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

Sanaul Bari

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ। আমি মোঃ সানাউল বারী। পেশায় আমি একজন চাকরিজীবী এবং এই ওয়েবসাইটের এডমিন। চাকরির পাশাপাশি, আমি গত ১৪ বছর ধরে আমার নিজস্ব ওয়েবসাইটে লেখালেখি করছি এবং আমার নিজস্ব ইউটিউব এবং ফেসবুকে কন্টেন্ট তৈরি করছি। বিশেষ দ্রষ্টব্য - লেখায় যদি কোনও ভুল থাকে, তাহলে দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন। ধন্যবাদ।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now