চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার চূড়ান্ত সময়সূচি ঘোষণা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জানা গেছে, আগামী ৭ জুন থেকে সারাদেশে একযোগে এই গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষা শুরু হবে। পরীক্ষাকে ঘিরে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে।
আরও পড়ুন-অনার্স ২য় বর্ষের বোর্ড চ্যালেঞ্জ শুরু ৩০ মার্চ আবেদন পদ্ধতি ও ফি জানুন।
সোমবার (৩০ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এই তারিখ নির্ধারণের বিষয়টি নিশ্চিত করে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। ফলে পূর্বের সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পরীক্ষার নির্দিষ্ট সময় সামনে এসেছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদ জানান, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ৭ জুন থেকেই এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন। খুব শিগগিরই শিক্ষা বোর্ডগুলোর পক্ষ থেকে বিস্তারিত সময়সূচি প্রকাশ করা হবে।
এর আগে, রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানরা প্রাথমিকভাবে এই তারিখ নির্ধারণ করেন। পরবর্তীতে সেটিই চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।
এদিকে, এর আগে মাধ্যমিক স্তরের পরীক্ষা নিয়েও সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২১ এপ্রিল থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হবে। ফলে শিক্ষা ব্যবস্থার দুটি বড় পাবলিক পরীক্ষাই ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়।
তবে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে প্রশ্নপত্র পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবার থেকে দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এটি শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এর আগে মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার প্রথা চালু থাকলেও সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে তা ছিল না। ফলে বিভিন্ন বোর্ডে প্রশ্নের মান ও কাঠামোর ভিন্নতা নিয়ে প্রায়ই আলোচনা হতো। সেই প্রেক্ষাপটেই এবার একীভূত প্রশ্নপত্র চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দেশের মোট ১১টি শিক্ষা বোর্ড—যার মধ্যে রয়েছে ৯টি সাধারণ বোর্ড, একটি মাদরাসা বোর্ড এবং একটি কারিগরি বোর্ড—সবগুলোতেই একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রশ্নের মানে সমতা বজায় থাকবে এবং শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষাবিদদের মতে, এই উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র আরও সমান হবে এবং বোর্ডভিত্তিক বৈষম্য কমে আসবে। একই সঙ্গে প্রশ্ন ফাঁস বা অনিয়মের ঝুঁকিও কিছুটা হ্রাস পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এ সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, অভিন্ন প্রশ্নপত্র চালুর ফলে প্রস্তুতির ধরনে পরিবর্তন আনতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের আরও সমন্বিতভাবে পড়াশোনা করতে হবে।
সব মিলিয়ে, নির্ধারিত সময়সূচি ও নতুন প্রশ্নপত্র পদ্ধতির কারণে এবারের এইচএসসি পরীক্ষা শিক্ষাব্যবস্থায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই পরিবর্তন কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
আরও পড়ুন-কারিগরি শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি পেতে তথ্য আপডেট বাধ্যতামূলক
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔






