আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

৬ মাসে ৫ লাখ সরকারি চাকরি: বড় নিয়োগ পরিকল্পনা সরকারের

April 12, 2026 10:57 AM
৬ মাসে ৫ লাখ সরকারি চাকরি!

দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা শূন্যপদ পূরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রায় ৫ লাখ জনবল নিয়োগের একটি বৃহৎ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে, যা আগামী ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হলে সরকারি সেবার গতি বাড়বে এবং দীর্ঘদিনের জনবল সংকট অনেকটাই কমে আসবে।

আরও পড়ুন-প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগে পদ কমে ১১,১৫১ এনটিআরসিএর নতুন সিদ্ধান্ত

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার শূন্যপদের তথ্য সংগ্রহ করে একটি সমন্বিত নিয়োগ পরিকল্পনা ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা জটিলতা সৃষ্টি না হয়।

এ বিষয়ে ড. মোবাশ্বের মোনেম জানিয়েছেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জানতে চাওয়া হয়েছে, আগামী ছয় মাসে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) কতজন জনবল নিয়োগ দিতে পারবে। কমিশন ইতোমধ্যে তাদের পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানিয়েছে। তবে কোন পদে কতজন নিয়োগ দেওয়া হবে, তা নির্ধারণের জন্য বিস্তারিত নথি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সব মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরিকল্পনা ইতোমধ্যে তাদের কাছে এসেছে এবং এখন তা বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী গণমাধ্যমকে বলেন, সরকার স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে প্রায় ৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিতে কাজ করছে। এই বিশাল নিয়োগ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য মোট প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ চার মাসে (মার্চ-জুন) প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয় হবে এবং আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট মাসে বাকি ৪ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯১ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এর বিপরীতে প্রায় ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ শূন্য রয়েছে। এই বিশাল সংখ্যক শূন্যপদ দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে।

শ্রেণিভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রথম শ্রেণিতে প্রায় ৬৮ হাজার ৮৮৪টি পদ খালি রয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণিতে শূন্যপদ রয়েছে প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি। তৃতীয় শ্রেণিতে শূন্যপদের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি এবং চতুর্থ শ্রেণিতে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি পদ এখনো পূরণ হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বিপুল সংখ্যক জনবল নিয়োগ সম্পন্ন হলে সরকারি সেবার মান উন্নত হবে এবং নাগরিক সেবা দ্রুততর হবে। একই সঙ্গে বেকারত্ব কমানোর ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তবে এত বড় নিয়োগ প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য প্রশাসনিক দক্ষতা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ৫ লাখ জনবল নিয়োগের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এটি দেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। এখন দেখার বিষয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই বিশাল নিয়োগ কার্যক্রম কতটা সফলভাবে সম্পন্ন করা যায়।

আরও পড়ুন-এসএসসি ২০২৬ নকলমুক্ত পরীক্ষার ঘোষণা খাতা মূল্যায়নেও কঠোর অবস্থান শিক্ষামন্ত্রীর

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

MD RIFAT SARKER

আসসালামু আলাইকুম, আমি মোঃ রিফাত সরকার। এই ওয়েবসাইটে আমি নিয়মিত বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করি এবং দরকারি তথ্য শেয়ার করার চেষ্টা করি। বিশেষ দ্রষ্টব্য: লেখায় যদি কোনো ভুল থাকে, দয়া করে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। ধন্যবাদ।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now