বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিং আর শুধু বিকল্প আয়ের মাধ্যম নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। হাজার হাজার তরুণ-তরুণী এখন ঘরে বসেই ব্লগিং, ইউটিউব, ফেসবুক, গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিংসহ নানা ধরনের অনলাইন কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছেন। এই বিশাল ফ্রিল্যান্সার কমিউনিটিকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার চালু করেছে সরকারি ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড।
এই আইডি কার্ড একজন ফ্রিল্যান্সারের পেশাগত পরিচয়কে সরকারি স্বীকৃতি দেয়, যা ভবিষ্যতে ব্যাংকিং, ভিসা, ট্যাক্স ও বিভিন্ন অফিসিয়াল কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেকেই জানেন না কীভাবে এই আইডির জন্য আবেদন করতে হয়, কী কী যোগ্যতা লাগে বা কী ডকুমেন্টস প্রয়োজন। তাই বাংলাদেশি ভিজিটরদের জন্য সহজ ভাষায়, ধাপে ধাপে এই পূর্ণাঙ্গ গাইডটি সাজানো হয়েছে।
আরও পড়ুন-সরকারি BTCL থেকে .বাংলা ডোমেইন কেনার নিয়ম ও দাম (আপডেট)
সরকারি ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড কী?
সরকারি ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড হলো একটি ডিজিটাল পরিচয়পত্র, যা সরকারিভাবে নিবন্ধিত ফ্রিল্যান্সারদের প্রদান করা হয়। এই আইডির মাধ্যমে প্রমাণ হয় যে আপনি একজন বৈধ ও সক্রিয় ফ্রিল্যান্সার এবং অনলাইন পেশার সাথে যুক্ত।
এই আইডি মূলত ফ্রিল্যান্সারদের জন্য একটি অফিসিয়াল প্রফেশনাল আইডেন্টিটি, যা দেশি ও বিদেশি উভয় ক্ষেত্রেই গ্রহণযোগ্য।
ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড কেন প্রয়োজন?
বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিং করলেও অনেক সময় প্রমাণের অভাবে বিভিন্ন জায়গায় সমস্যায় পড়তে হয়। এই আইডি কার্ডের মাধ্যমে—
- ফ্রিল্যান্সিং পেশার সরকারি স্বীকৃতি পাওয়া যায়
- ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, লোন বা রেমিট্যান্স সংক্রান্ত কাজে সুবিধা হয়
- ভিসা আবেদন বা বিদেশি ক্লায়েন্টের কাছে পেশাগত পরিচয় দেখানো যায়
- ভবিষ্যতে সরকারি কোনো সুবিধা বা প্রণোদনার আওতায় আসা সহজ হয়
কারা ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড পাওয়ার যোগ্য?
ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। যেমন—
- আবেদনকারী অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
- বয়স ন্যূনতম ১৮ বছর হতে হবে।
- ফ্রিল্যান্সিং বা অনলাইন আয়ের সাথে যুক্ত থাকতে হবে।
- বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) থাকতে হবে।
- নিজের আয়ের প্রমাণ দেখাতে পারতে হবে।
যারা নিয়মিত অনলাইন কাজ করে আয় করছেন, তারা সবাই এই আইডির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
মাসিক ইনকাম কত হলে আবেদন করা যাবে?
সরকার নির্দিষ্ট কোনো ন্যূনতম ইনকাম বেঁধে দেয়নি। তবে আবেদনকারীকে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে যে তিনি অনলাইন কাজের মাধ্যমে নিয়মিত আয় করছেন।
আয়ের উৎস হতে পারে—
- Google AdSense (ব্লগ বা ইউটিউব)।
- Facebook বা YouTube Monetization।
- Fiverr, Upwork, Freelancer ইত্যাদি মার্কেটপ্লেস।
- Direct Client বা Off-marketplace কাজ।
নিয়মিত আয়ের প্রমাণ থাকলেই আবেদন করা যাবে।
আবেদন করার জন্য যেসব ডকুমেন্টস প্রয়োজন
আবেদন শুরু করার আগে নিচের ডকুমেন্টগুলো প্রস্তুত রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ—
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)।
- পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
- ইনকামের প্রমাণ (PDF ফাইল)।
- Google AdSense payment statement
- Bank / Payoneer / Wise statement
- অনলাইন প্রোফাইল বা কাজের লিংক (ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল, ফেসবুক পেজ ইত্যাদি)
ধাপে ধাপে একাউন্ট তৈরি করার নিয়ম
ধাপ–১:প্রথমে Google-এ গিয়ে freelancer.gov.bd লিখে সার্চ করুন। অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ওপেন হলে নিচে থাকা Apply Now বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ–২:এখানে Sign In এবং Sign Up অপশন পাবেন। নতুন ব্যবহারকারী হলে Create an Account এ ক্লিক করুন।
ধাপ–৩:Sign Up ফর্মে আপনার নাম, ইমেইল, মোবাইল নাম্বার, জেন্ডার, পাসওয়ার্ড দিয়ে ক্যাপচা পূরণ করে Create Account বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ–৪:সফলভাবে একাউন্ট তৈরি হলে আপনার ইমেইলে একটি ভেরিফিকেশন লিংক যাবে। লিংকে ক্লিক করে ইমেইল ভেরিফাই করুন।
ধাপ–৫:ইমেইল ও পাসওয়ার্ড দিয়ে পুনরায় লগইন করুন এবং প্রোফাইল অপশনে গিয়ে আপনার নাম (NID অনুযায়ী), ফোন নাম্বার ও ছবি আপডেট করুন।
ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ডের জন্য আবেদন করার ধাপ
ধাপ–১:লগইন করার পর হোম পেজে Get Your Freelancer ID অপশন থেকে Apply Now এ ক্লিক করুন।
ধাপ–২:এই ধাপে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসের তালিকা দেখানো হবে। সব প্রস্তুত থাকলে আবার Apply Now চাপুন।
ধাপ–৩:এখন Personal Information, Freelancer Information, Income Details, NID, Address ও Photo Upload করুন। সব তথ্য সঠিকভাবে দিয়ে Confirm অপশনে টিক দিয়ে আবেদন সাবমিট করুন।
ধাপ–৪:সব তথ্য ঠিক থাকলে আপনার আবেদনটি রিভিউয়ের জন্য সাবমিট হবে। সর্বোচ্চ ৭ কার্যদিবসের মধ্যে যাচাই শেষে ইমেইলে জানানো হবে।
সাধারণ প্রশ্ন–উত্তর
প্রশ্ন: আবেদন করতে কোনো ফি লাগে কি?
উত্তর: না, আবেদন সম্পূর্ণ ফ্রি।
প্রশ্ন: আবেদন রিজেক্ট হলে কী হবে?
উত্তর: ভুল তথ্য বা ডকুমেন্টের কারণে রিজেক্ট হতে পারে। সঠিক তথ্য দিলে আবার আবেদন করা যাবে।
প্রশ্ন: আইডি কার্ড কিভাবে পাবো?
উত্তর: আবেদন অ্যাপ্রুভ হলে ড্যাশবোর্ড থেকে ডাউনলোড করা যাবে।
উপসংহার
সরকারি ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। আপনি যদি নিয়মিত অনলাইনে কাজ করে আয় করেন, তাহলে এই আইডি কার্ড আপনার পেশাগত পরিচয়কে আরও শক্তিশালী করবে। আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইন ও সহজ। সঠিক তথ্য ও ডকুমেন্ট দিয়ে আবেদন করলে খুব সহজেই অনুমোদন পাওয়া সম্ভব।
আপনি যদি একজন সক্রিয় ফ্রিল্যান্সার হন, তাহলে দেরি না করে আজই আপনার সরকারি ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ডের জন্য আবেদন করুন।
আরও পড়ুন-বিটিসিএল চালু করছে .bd ও .বাংলা ডোমেইন রিসেলার সিস্টেম!
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










