বাংলাদেশে কোনো গাড়ি বা মোটরসাইকেল কেনাবেচার পর মালিকানা পরিবর্তন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া। অনেক সময় দেখা যায় গাড়ির মালিকানা পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পূর্ণ থাকে না অথবা মালিক উপস্থিত থাকতে পারেন না। তখন অনেক ক্ষেত্রে হলফনামা (Affidavit) ব্যবহার করা হয়।
গাড়ির মালিকানা পরিবর্তনের হলফনামা মূলত একটি আইনি ঘোষণাপত্র, যেখানে গাড়ির বর্তমান মালিক নির্দিষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে তিনি তার গাড়িটি অন্য ব্যক্তির কাছে বিক্রি বা হস্তান্তর করেছেন। এই হলফনামা সাধারণত নোটারি পাবলিক বা আদালতের মাধ্যমে সত্যায়িত করা হয়। ফলে এটি একটি বৈধ আইনি ডকুমেন্ট হিসেবে বিবেচিত হয় এবং মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে।
নিচে গাড়ির মালিকানা পরিবর্তনের হলফনামা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো।
আরও পড়ুন-ট্যাক্স টোকেন নবায়ন ফি ক্যালকুলেটর দিয়ে বের করার নিয়ম
গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন হলফনামা কী
গাড়ির মালিকানা পরিবর্তনের হলফনামা হলো একটি লিখিত আইনি ঘোষণাপত্র যেখানে গাড়ির মালিক নিজ দায়িত্বে ঘোষণা করেন যে তিনি নির্দিষ্ট গাড়িটি অন্য ব্যক্তির কাছে বিক্রি বা হস্তান্তর করেছেন।
এই হলফনামায় সাধারণত গাড়ির বিবরণ, বর্তমান মালিকের তথ্য এবং নতুন মালিকের তথ্য উল্লেখ করা থাকে। পরে এটি নোটারি বা আদালতের মাধ্যমে সত্যায়িত করা হয়।
কোন ক্ষেত্রে গাড়ির মালিকানা পরিবর্তনে হলফনামা লাগে
সব ক্ষেত্রে হলফনামা প্রয়োজন হয় না। তবে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে এটি দরকার হতে পারে।
যেমন—
-
গাড়ির মালিক উপস্থিত না থাকলে।
-
পুরোনো মালিক বিদেশে থাকলে।
-
বিক্রয় চুক্তিপত্র না থাকলে।
-
কাগজপত্রের কিছু তথ্য সংশোধন করতে হলে।
-
আইনি প্রমাণ হিসেবে প্রয়োজন হলে।
এই ধরনের পরিস্থিতিতে হলফনামা মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়াকে সহজ করতে সাহায্য করে।
গাড়ির মালিকানা পরিবর্তন হলফনামায় কী কী তথ্য থাকে
একটি সঠিক হলফনামায় সাধারণত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উল্লেখ করা হয়।
হলফনামায় উল্লেখিত তথ্য
-
বর্তমান মালিকের নাম।
-
নতুন মালিকের নাম।
-
জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর।
-
গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর।
-
গাড়ির মডেল ও বিবরণ।
-
বিক্রয় বা হস্তান্তরের ঘোষণা।
-
তারিখ ও স্বাক্ষর।
এই তথ্যগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হলে হলফনামাটি বৈধ হিসেবে গণ্য হয়।
গাড়ির মালিকানা পরিবর্তনের হলফনামা করার নিয়ম
গাড়ির মালিকানা পরিবর্তনের জন্য হলফনামা করতে সাধারণত কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হয়।
ধাপ ১: হলফনামা খসড়া তৈরি
প্রথমে একটি লিখিত হলফনামা তৈরি করতে হয় যেখানে গাড়ির মালিকানা হস্তান্তরের ঘোষণা থাকবে।
ধাপ ২: প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করা
গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর, মালিকের নাম, ঠিকানা এবং গাড়ির বিবরণ সঠিকভাবে উল্লেখ করতে হয়।
ধাপ ৩: নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সত্যায়ন
হলফনামাটি সাধারণত নোটারি পাবলিক বা আদালতের মাধ্যমে সত্যায়িত করা হয়।
ধাপ ৪: BRTA তে জমা
এরপর এই হলফনামা অন্যান্য কাগজপত্রের সঙ্গে BRTA অফিসে জমা দেওয়া হয়।
গাড়ির মালিকানা পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
গাড়ির মালিকানা পরিবর্তনের সময় সাধারণত নিচের কাগজপত্র জমা দিতে হয়।
-
গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট।
-
বর্তমান মালিকের জাতীয় পরিচয়পত্র।
-
নতুন মালিকের জাতীয় পরিচয়পত্র।
-
বিক্রয় চুক্তিপত্র।
-
হলফনামা (প্রয়োজন হলে)।
-
ট্যাক্স টোকেন।
-
নির্ধারিত আবেদন ফরম।
এই কাগজপত্র জমা দিলে BRTA কর্তৃপক্ষ যাচাই করে মালিকানা পরিবর্তনের অনুমোদন দেয়।
হলফনামা করতে কত খরচ হয়
হলফনামা করার জন্য সাধারণত নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে কিছু ফি দিতে হয়। সাধারণত এই খরচ—
-
প্রায় ২০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে হতে পারে।
তবে স্থানভেদে বা নোটারি অফিস অনুযায়ী কিছুটা পার্থক্য হতে পারে।
উপসংহার
গাড়ির মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অনেক সময় হলফনামা একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ডকুমেন্ট হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে মালিক উপস্থিত না থাকলে বা কিছু কাগজপত্র অসম্পূর্ণ থাকলে হলফনামার মাধ্যমে মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সহজ করা যায়। তাই গাড়ি কেনাবেচার সময় সঠিক কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা এবং প্রয়োজনে বৈধ হলফনামা তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-ট্যাক্স টোকেন নবায়ন না করলে কত টাকা জরিমানা হয়?
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










