দেশের তরুণদের দক্ষ করে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলতে সরকার আবারও বড় উদ্যোগ নিয়েছে। ‘দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় তিন মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যেই সারা দেশে কার্যক্রম শুরু করেছে।
আরও পড়ুন-স্মার্ট চশমা নজরদারি বাড়ছে Nearby Glasses অ্যাপে মিলবে সতর্কবার্তা
বুধবার (১ এপ্রিল) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন ঘোষণা করেন মো. আমিনুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম এবং সঞ্চালনায় ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং প্রায় পাঁচ হাজার প্রশিক্ষণার্থী ভার্চুয়ালি অংশ নেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে ফ্রিল্যান্সিং খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর এই খাতে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দেশের যুবসমাজ ঘরে বসেই বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারছে, যা দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
প্রকল্পের আওতায় ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৩৭৩ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে ৩৬ হাজার যুবক-যুবতীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে দেশের সব জেলায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বর্তমান ব্যাচে দেশের ৬৪টি জেলায় প্রতি জেলায় ৭৫ জন করে মোট ৪ হাজার ৮০০ প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিচ্ছেন। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী এবং ন্যূনতম এইচএসসি পাস যুবকদের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণার্থীদের নির্বাচন করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ব্যাচে ভর্তির জন্য প্রায় এক লাখের কাছাকাছি আবেদন জমা পড়েছিল, যা তরুণদের মধ্যে এই প্রশিক্ষণের প্রতি আগ্রহের বিষয়টি স্পষ্ট করে।
প্রশিক্ষণটি তিন মাসব্যাপী এবং প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে মোট ৬০০ ঘণ্টার কোর্স পরিচালনা করা হবে। এতে কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন, ফ্রিল্যান্সিং, বেসিক ইংলিশ, ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ভিডিও এডিটিংসহ বিভিন্ন আধুনিক স্কিল শেখানো হবে। পাশাপাশি সফট স্কিল ও স্মার্টফোন ব্যবহার করে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মতো বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে অংশগ্রহণকারীরা বাস্তব জীবনে দক্ষতা প্রয়োগ করতে পারেন।
এই প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে তাদের অগ্রগতি ও আয় সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।
প্রকল্পের অগ্রগতি অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত পাঁচটি ব্যাচে মোট ১৪ হাজার ৪০০ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ ইতোমধ্যে দেশি ও আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে কাজ শুরু করেছেন। এই প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের আয় ইতোমধ্যেই কোটি টাকার ঘর ছাড়িয়েছে, যা এই উদ্যোগের সফলতা প্রমাণ করে।
প্রশিক্ষণার্থীদের উৎসাহ দিতে তাদের জন্য যাতায়াত ভাতা, খাবার এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে। কোর্স শেষে দেওয়া হবে সরকারি সনদপত্র, যা ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারে সহায়ক হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি দেশের তরুণদের দক্ষ করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে বেকারত্ব কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও এটি বড় অবদান রাখবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ চালুর এই উদ্যোগ ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন-গুগল মেসেজেসে লাইভ লোকেশন শেয়ারিং ফিচার চালু
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










